শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ফাইল ফটো

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: উপকূলীয় জনপদ আশাশুনিতে বৈশাখ এলেই বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। কালো মেঘ, উত্তাল নদী আর ঝোড়ো বাতাসের আভাস পেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। কারণ স্বাধীনতার এত বছর পরও দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকায় গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে দুর্যোগের আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আইলার সময় আমরা বুঝতেই পারিনি কত বড় বিপদ আসছে। যখন খবর পেলাম, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখনো যদি আগাম সতর্কতার ভালো ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আবারও বড় বিপদ হতে পারে।” একই এলাকার গৃহবধূ নাছিমা খাতুন বলেন, “আকাশ একটু খারাপ হলেই ভয় লাগে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কী করবÑএ নিয়েই চিন্তায় থাকি। আগে যদি খবর পাওয়া যেত, তাহলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হতো।”

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ধস ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বেতনা, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩ কিলোমিটার এলাকা চরম ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, “জলোচ্ছ্বাস বা বড় ধরনের নিম্নচাপ হলে এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।”

 

বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুল হক ডাবলু বলেন, “নদীর পানি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তাল। উপকূলের মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। কিন্তু এখানে কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র না থাকায় আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো যায় না।” আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এড. সহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “আইলার ভয়াবহতা আমরা নিজের চোখে দেখেছি। তখন অনেক মানুষ সময়মতো আশ্রয় নিতে পারেনি। এখনো সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে তাড়া করে বেড়ায়।”

 

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই উপকূলে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলো মূলত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি রেকর্ড করে ঢাকায় পাঠায়। পরে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে অনেক সময় বিলম্ব ঘটে।

 

পরিবেশবিদ আশাশুনি সরকারী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান সজল কুমার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক একটি আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।” উপকূলবাসীর দাবি, শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; দুর্যোগের আগাম তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে যেকোনো বড় দুর্যোগে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে আশাশুনিসহ পুরো উপকূল অঞ্চল।

 

 

 

 

Ads small one

কুলিয়ার পি কে বি ফুটবল মাঠে ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’ প্রীতি ম্যাচ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
কুলিয়ার পি কে বি ফুটবল মাঠে ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’ প্রীতি ম্যাচ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়নের পি কে বি ফুটবল মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’ দলের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ সৌহার্দ্য বৃদ্ধি ও স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ম্যাচটি পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম ও স্থানীয় চিকিৎসক আশরাফুল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুরুল মোরশেদ মিলন এবং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু। এ ছাড়া স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

অরুণ সান্যাল
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা
এখানে সুখের চেয়ে
চোখের জলের মাত্রা বেশি দাগা।
মানুষের বুকে নেই মানুষের টান,
স্বার্থের বাজারে বিক্রি হয় পবিত্র সব মান।

স্নেহের আলো নিভে যায় স্বার্থের ঝড়ে
বিশ্বাস হারিয়ে যায় শূন্যতার ঘরে।
চোখের পলকে আপন মানুষ অচেনা হয়ে যায়,
ভালোবাসা শুধু আজ বেদনার খেলায় হারায়।

তবুও মানুষ বাঁচে মিথ্যে আশার টানে,
অশ্রু লুকিয়ে রাখে মলিন হাসির গানে।
ক্ষতের ওপর প্রলেপ মেখে পথ চলে একা,
ভাগ্যের সাথে যেন নেই কোনো সুখের লেখা।
তবুও তো এই ধরায় কোনো এক কোণে,
ভালোবাসা বেঁচে থাকে নিঃস্ব মানুষের মনে।

“কথার ভার”

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“কথার ভার”

 

 

বাপী নাগ
রাগ-অভিমান ভুলে একবার এসো, জমে থাকা কথাগুলো একটু ভাগ করে নিই।
কী হলো, শুনতে পাচ্ছ? এখনও কিছু না-বলা কথা রয়ে গেছে— সময়ের ভাঁজে, নীরবতার আড়ালে।
না না, ভয় নেই! আমার শত দুঃখের ভার তোমায় নিতে হবে না, তোমার সুখের অংশও আমায় দিতে হবে না। শুধু কিছু কথার বিনিময়— হয়তো এতেই মনটা একটু হালকা হবে।
রাগ কোরো না, তোমার রোজনামচায় জমে থাকা কিছু কথা আজ নির্দ্বিধায় আমায় বলতে পারো। আমিও প্রতিদিনের বুকের ভেতর জমে থাকা কিছু অপ্রকাশিত কথা নিঃসংকোচে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই।
বাকশক্তি থাকা কালীন কথা বিনিময় ছাড়া বেঁচে থাকা বোধহয় অসম্ভব। কারণ, কিছু নীরবতা শব্দের অপেক্ষায়ই বেঁচে থাকে।
আজ নিরবে, নিঃশব্দে, জমে থাকা অনেক কথা বলতে চাই। নেবে কি আমার কথার ভার? শুনবে কি আমার হৃদয়ের দীর্ঘদিনের নীরব স্বীকারোক্তি?
বিশ্বাস করো, সব কথা অভিযোগ নয়, কিছু কথা শুধু মানুষ হয়ে মানুষের পাশে বসার আকুতি। কিছু কথা ক্ষমা চায়, কিছু কথা ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া সেই সহজ সম্পর্ক।
হয়তো কথা বললেই দুঃখের যন্ত্রণা পুরোপুরি মুছে যাবে না, তবু বুকের ভারটা একটু হালকা হবে। কারণ, না-বলা কথার চেয়ে বলা কথার আফসোস অনেক কম।
তাই একবার এসো— শুধু কিছুক্ষণ সময় নিয়ে। আজ কথা হোক, কারণ একদিন হয়তো সময় থাকবে, কিন্তু বলার মতো মানুষটি আর থাকবে না।
কথারা কখনও দূরত্ব বাড়ায় না, দূরত্ব বাড়ায় শুধু নীরবতা। তাই এসো, অভিমানের দেয়াল ভেঙে একবার কথা বলি… হিসেব-নিকেশ নয়,আজ শুধু হৃদয়ের দরজাটা খুলে দিই। যদি কিছুই ফিরে না পাই,তবু এই তৃপ্তিটুকু থাকবে—চেষ্টা করেছিলাম,নীরবতাকে হারিয়েকথার আলোয় ফিরে আসতে।
শেষবারের মতো বলছি- এসো, একবার কথা হোক।
হয়তো সব অভিমান মুছে যাবে না, সব প্রশ্নের উত্তরও মিলবে না। তবু কিছু নীরবতার অবসান হবে, কিছু দীর্ঘশ্বাস ফিরে পাবে মুক্তির পথ।
জীবন তো অনিশ্চিত— কে কখন কোন মোড়ে হারিয়ে যায়, তা কেউ জানে না। তাই সময় থাকতে কথাগুলো বলে নিই, ক্ষমাগুলো চেয়ে নিই, ভালোবাসাগুলো জানিয়ে দিই।
কারণ, একদিন হয়তো মানুষ থাকবে না, শুধু থেকে যাবে— না-বলা কিছু কথা….. আর বুকভরা একরাশ আফসোস।