দেবহাটায় ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যা, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা ও জেলার বাইরে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম ওরফে ভদু, ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও ফজলুল হক আমিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের ভিডিওচিত্র ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হয়েছে।
মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেনÑমোবারেক হোসেন মোড়ল, আসাদুল ইসলাম মোল্লা, মোক্তার হোসেন খান, নাজমুল, মিজানুর রহমান মিজান, আবুল কাশেম ও মো. আজাহারুল ইসলাম।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমীন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসাদুল ইসলাম ও মোক্তার হোসেন খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ওয়াহেদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে গত সোমবার তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে তিনি কুলিয়া বাজারের এক ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেও তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান দলীয় সম্পৃক্ততার দাবি অস্বীকার করে বলেন, হত্যাকা-ের সঙ্গে জামায়াতের কারও যোগসূত্র নেই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অভিযানিক কার্যক্রম ব্যবহার করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।












