চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, স্বজন হারানোর আহাজারি আর উদ্ধারকর্মীদের মরিয়া ছুটে চলা। এমন ভয়াবহ এক দুর্যোগের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক। শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় শোকের আবহে এই শিশুর জন্ম যেন এক টুকরো আশার আলো।
এদিকে জোড়া ভূমিকম্পের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও থামেনি উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত মানুষের সন্ধানে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজার ৩৬০ জনেরও বেশি, আর এখনও ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকার ধ্বংসস্তূপের পাশে আশ্রয় নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারী একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, চারদিকে যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় নবজাতকের প্রথম কান্না উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়। অনেকেই শিশুটিকে দুর্যোগের মধ্যেও জীবনের জয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই নবজাতকটিকে ‘আশার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। উদ্ধারকর্মীরাও বলেছেন, এমন একটি মুহূর্ত তাদের ক্লান্তি কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় কয়েকদিন আগে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজার ৩৬০ জনের বেশি এবং এখনও ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭টি উদ্ধারকারী ফ্লাইট দেশটিতে অবতরণ করেছে এবং আরও কয়েকটি ফ্লাইট পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। বহু বহুতল ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাজারো পরিবার রাতারাতি হারিয়েছে তাদের স্বজন, ঘর-বাড়ি এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে এলেও তারা আশা ছাড়ছেন না। ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি ইট-পাথর সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় কিনা, সেই চেষ্টা চলছে অবিরাম।
একদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসছে নিথর দেহ, অন্যদিকে একই ধ্বংসস্তূপের পাশে জন্ম নেওয়া একটি নবজাতক মনে করিয়ে দিচ্ছে—সব হারিয়েও জীবন থেমে থাকে না। ভেনেজুয়েলা এখন শোক, বেদনা ও আশার এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছে।