নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
মো. জাবের হোসেন: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলে এই প্রকল্পে ২৪ লক্ষাধিক টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হলেও কাজের মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকা।
প্রদত্ত তথ্যাবলী ও প্রকল্পের বিবরণ থেকে জানা যায়, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে পর্যাপ্ত সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অফিসটির চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় নানা ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি লেগেই থাকে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুষ্ঠু পরিবেশে সেবা প্রদান করতে পারেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। স্থানীয় প্রভাষক মেজর মো. এছাহক আলী জানান, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীরের যে কাজ ঠিকাদার করছেন, তাতে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। শুক্রবারে তারা এক দফায় অনিয়মের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ঢালাইয়ে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি একেবারে নিম্নমানের। প্রাচীরের পাকা কলাম বা পিলার ঢালাই দেওয়ার পরপরই ১২ ঘণ্টার মধ্যে কাঠের ফ্রেম বা বক্স খুলে ফেলা হচ্ছে, তাতে আবার পানি ধরে রাখার জন্য কোনো পাটের বস্তাও ব্যবহার করা হচ্ছে না। এছাড়া অনেক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন, যাতে সাধারণ মানুষ তা দেখতে না পায়।
এদিকে এসব প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্টাক্টর মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমার এখানে কোনো স্বার্থ নেই। ঠিকাদার মনিরুল সাহেব যেভাবে কাজ করতে বলছেন, আমি সেভাবে কাজ করছি।” কেন তারা একদিনে সব কলাম ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং কেন ছালার চট দেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা ঢালাই মেশিনটা ভাড়া করে এনেছি বলে একদিনে ঢালাই করার চেষ্টা করছিলাম। আর ছালার চট ঠিকাদার দিতে দিচ্ছেন না।”
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. এজাজ রহমান বলেন, আর কোন অনিয়ম হবে না।
সাংবাদিক দেখে তারা প্রাচীর ঢালাই পাঁকা পিলারে চটের বস্তা দেয়া কাজ শুরু করেন শনিবার সকালে। যদিও তার কয়েকদিন আগে পিলারগুলো ঢালাই দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তালা সহকারী কমিশনার (ভূমি), তালা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানীয় সচেতন মহল সঠিকভাবে যাতে কাজটি হয় সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।









