শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ফাইনালে সাতক্ষীরা পৌরসভার দাপুটে জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ফাইনালে সাতক্ষীরা পৌরসভার দাপুটে জয়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬” ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফাইনালে সাতক্ষীরা পৌরসভার দল ও কলারোয়া উপজেলার দল মুখোমুখি হয়। রোমাঞ্চকর এই ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেয় পৌরসভার দল। নির্ধারিত সময়ে তারা ২-০ গোলে কলারোয়া উপজেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর খেলোয়াড়দের দারুণ পারফরম্যান্সে পুরো মাঠ ছিল প্রাণবন্ত।

খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী এম নূর আহম্মদ, স্টোর কিপার মীর নাসির আলী, খেলায় কোচের দায়িত্ব পালন করেন লিয়াকাত হোসেন অরুণ, সহকারি কোচের দায়িত্ব পালন করেন সিরাজ উদ্দিন খান। খেলায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা।

Ads small one

আশাশুনির নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি অনুষ্ঠানটিতে প্রবীণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ও জনসমাগম ছিল না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে একটি সংক্ষিপ্ত র‌্যালি বের করা হয়, যা মাত্র ২০-৩০ হাত এগিয়ে ফটোসেশনের মাধ্যমেই শেষ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ও কয়েকজন আধা প্রবীণ এবং যুবকদের নিয়ে এই র‌্যালি সম্পন্ন হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে ২০-৩০ জনের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি এনজিও প্রতিনিধি ও উপস্থিত সাংবাদিকদেরও কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তি বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ থাকার পরও সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুষ্ঠান খরচের অজুহাতে উপজেলার ছয়টি এনজিওর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানে বিতরণ করা ব্যানারে ফ্রেন্ডশিপ, উত্তরণ, ইএসডিও, বারসিক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, ন্যাজারিন মিশন ও আইডিয়াল এনজিওর নাম ও মনোগ্রাম ব্যবহার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যানার ও নাশতা বাবদ মোট খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬০ টাকা, যা এনজিওদের কাছ থেকে তোলা চাঁদার মাধ্যমেই মূলত পূরণ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী মৃণাল স্বর্ণকার জানান, এনজিওদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে এবং মোট ৪,৯৬০ টাকা খরচ হয়েছে; পরবর্তীতে তিনটি অনুষ্ঠানের জন্য ২৫ হাজার টাকার বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তবে অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সরাসরি জবাব না দিয়ে অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।

 

শরতের আলতো ছোঁয়ায় গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্য, আনন্দ ও জীবিকার মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
শরতের আলতো ছোঁয়ায় গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্য, আনন্দ ও জীবিকার মেলবন্ধন

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশের দোলায় মোড়ানো শরতের শান্ত বিকেলে অনন্য এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে। শৈশবের সোনালি স্মৃতি, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য আর খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার আলোÑসবকিছুর মোহনীয় সংমিশ্রণ ঘটে চলেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায়। দুই বছরের দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে প্রায় তিন শ বছরের প্রাচীন এ মেলা যেন এক নতুন ভোরে জেগে উঠেছে। মেলার দশম দিনে উৎসবমুখর আবহের মাঝে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল পুলিশ প্রশাসনের কর্মতৎপরতাও ছিল লক্ষণীয়।

মেলার তোরণ পেরিয়ে ভেতরে পা রাখতেই নজরে আসে সব বয়সের মানবের মিলনমেলা। পরিবারের হাত ধরে খুদে পথচলা, সন্তানের হাসিমুখের জন্য খেলনার বায়না মেটানো আর কেনাকাটার নানা আয়োজনে চারপাশটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নাগরদোলার দোলাচল, দূর থেকে ভেসে আসা পথশিশুদের রেলগাড়ির হুইসেল, রকমারি মিষ্টির সুবাস আর গৃহস্থালি পণ্যের ঝলকানিÑসব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

মেলা প্রাঙ্গণে বিরাজ করছিল এক স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক সুর। দর্শনার্থীরা যখন আনন্দ উদযাপনে মগ্ন, তখন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে মেলার বিভিন্ন কোণে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের এমন পদচারণায় নিশ্চিত নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে আগতদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ।

কেবল কেনাকাটার ধুম নয়, এই গুড়পুকুর মেলার ধূলিকণায় মাখানো রয়েছে সাতক্ষীরার প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিচিহ্ন ও আবেগ। বয়সের ভারে নয়ে পড়া প্রবীণদের কাছে এই মেলা যেন দূর শৈশবের দিনগুলো নতুন করে ছুঁয়ে দেখার এক সুযোগ, আর নবীনদের কাছে আনন্দ ও অভিজ্ঞতার দিগন্ত ছোঁয়ার রঙিন প্রান্তর। ছোটদের উচ্ছ্বল চোখের তারা আর মা-বাবার মমতাময় হাত ধরে ঘেঁষে হাঁটার দৃশ্যটি ছিল অনবদ্য।
উৎসবের এই আবহের অন্তরালে রয়েছে বহু শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের গল্প। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। জামাকাপড়, প্রসাধনী, শিশুদের খেলার সামগ্রী কিংবা খাবারÑসব দোকানঘিরেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শরতের এই মেলার বেচাকেনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি কিছু উপার্জনের এক বড় পথ খুলে দিয়েছে। তাই তো ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ফুটে ওঠে তাঁদের আশাজাগানিয়া হাসি।

পণ্য বিক্রির মিষ্টি হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর নিষ্পাপ শিশুদের খিলখিল হাসিতে এক মোহময় আবহের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাঙ্গণ আর কেবল বেচাকেনায় সীমাবদ্ধ নেই, পরিণত হয়েছে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার এক মানবিক উদ্যানে। শিকড় আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য আগামীতেও যেন স্বমহিমায় টিকে থাকে, সে প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।

এদিকে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলার সময়সীমা আরও দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। মেলা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার জানান, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। সময় বাড়ায় কেনাকাটা ও ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত অবকাশ পাবেন দর্শনার্থীরা।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে শহরতলির শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০ দিনব্যাপী এই মিলনমেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। শিশু-কিশোরের আনন্দ-হাসি, প্রবীণদের স্মৃতিমেদুরতা আর খেটে খাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা নিয়ে গুড়পুকুর মেলা শরতের হাওয়ায় ডানা মেলেছে অনন্য এক রূপ নিয়ে।

 

 

আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. রবিউল সরদার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত মোক্তার আলী সরদারের ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। শিশুটি কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ২৯ নম্বর গুনাকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে রবিউল সরদার মিষ্টি কথায় শিশুটিকে ভুলিয়ে তাঁর কাঠের দোকানে নিয়ে যান। এরপর দোকানের দরজা ভেতরে থেকে আটকে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেললেও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি।

পরপর দুই দিন ঘটনাটি চেপে রাখার পর ১০ অক্টোবর শনিবার সকালে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় শিশুটি নিজেই সেই ভয়াবহতার বর্ণনা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বেলা ১টার দিকে আশাশুনি থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দেওয়া তথ্যের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত রবিউল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান জানান, শিশুটির বাবার এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।