রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভা

শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা শাখার উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনটির সভায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র অপারেটর রুবেল হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র অপারেটর মুজাফফর হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেখ গোলাম মোস্তফা।

বক্তারা বলেন, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর ও হেলপাররা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাঁদের আইনি সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে মালিকপক্ষকে ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অপারেটরদের ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা, হেলপারদের ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা নির্ধারণ এবং কাজের মৌসুমে হেলপারদের মাসিক ন্যূনতম তিন হাজার টাকা বেতন দেওয়া। এ ছাড়া কাজের মৌসুম শেষে গ্যারেজে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের সময় অপারেটর ও হেলপারদের যাতায়াত, খাবার ও দৈনিক হাতখরচের ব্যবস্থা এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকের জীবনমান ও মর্যাদা নিশ্চিত হলে শিল্পের অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে। তাঁরা সাতক্ষীরা জেলার সব হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর ও হেলপারকে ইউনিয়নের সদস্য হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Ads small one

সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরে তিন শিশুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা শিশুবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর মুচলেকা দিয়েছেন।

ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর বিয়ে। কয়েক দিন আগে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের বয়স ১৭ বছর। অন্যদিকে, ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। ওই কিশোরী ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শিশুবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। পরে নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সচেতন করেন।

রোববার সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তাঁরা ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে শিশুবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পরে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্ত তিনটি শিশুবিবাহের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে অপপ্রচার, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল হাসান বাবলু।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটির বুধহাটা শাখায় তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর নিজের নামে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাবলু অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। মামলা নিষ্পত্তি হলে গ্রাহকেরা তাঁদের পাওনা ফেরত পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাবলু। এ ঘটনায় কিছু গ্রাহককে ভুল বুঝিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কলারোয়ার দক্ষিণ মুরারিকাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো, পাকা সেতুর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার দক্ষিণ মুরারিকাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো, পাকা সেতুর দাবি
শেখ জিল্লু, কলারোয়া: দূর থেকে দেখলে নীল রঙের রেলিং আর কাঠের পাটাতনে তৈরি সাঁকোটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়ে এর নড়বড়ে অবস্থা। বাঁশের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বেত্রবতী নদীর ওপর নির্মিত এই কাঠের সাঁকোটি এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সাঁকোটির স্থলে একটি পাকা ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কলারোয়া পৌরসভার যুগিবাড়ি মোড় থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ২০০ মিটার এগোলেই বেত্রবতী নদীর ওপর সাঁকোটির অবস্থান। দক্ষিণ মুরারিকাটি পূজামণ্ডপ-সংলগ্ন এই সাঁকোর পূর্ব পাশে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং পশ্চিম পাশে ৭ নম্বর ওয়ার্ড। দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটির কাঠের পাটাতন ও অবকাঠামো নড়বড়ে। ফলে পথচারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পারাপার হতে হয়। দুই চাকার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যান চলাচলের উপযোগী নয় সাঁকোটি। এতে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সাঁকোটির পূর্ব পাশে রয়েছে যুগিবাড়ি বাজার ও বাসস্টপেজ। পশ্চিম পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি পূজামণ্ডপ ও একটি কালীমন্দির। দুর্গাপূজা এবং তালের রসের মেলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ মুরারিকাটি গ্রামে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। এসব উৎসবে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম পথ এই সাঁকো। কিন্তু এর নড়বড়ে ও অপ্রশস্ত কাঠামোর কারণে ভিড়ের সময় পারাপারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ মুরারিকাটির বাসিন্দা নির্মল মণ্ডল ও অনিমেষ পাল বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় তাঁদের মণ্ডপসহ আশপাশের পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। কিন্তু মণ্ডপ-সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর সাঁকোটি নড়বড়ে ও অপ্রশস্ত হওয়ায় দর্শনার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তাঁরা সাঁকোটির স্থলে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মাহবুবুর রহমান ও আকবর হোসেন বলেন, মুরারিকাটি হাইস্কুল-সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর ওপরের সাঁকোটির স্থলে ইতোমধ্যে পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। একই আদলে দক্ষিণ মুরারিকাটির কাঠের সাঁকোটির স্থলেও পাকা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এখনো সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।
এলাকাবাসীর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথে একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে দুই ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ কমবে এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
প্রসঙ্গে রোববার বিকেলে কলারোয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ রুহুল আমিন জানান, কাঠের সাঁকোটির স্থলে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বেত্রবতীর দুটি কাঠের সাঁকোই স্থায়ী(কনক্রিট/বেইলি)করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য কাজ চলমান রয়েছে।