নতুন ফোন বা হার্ডড্রাইভে পুরো স্টোরেজ ব্যবহার করা যায় না কেন?
নতুন হার্ডড্রাইভ, এসএসডি কিংবা স্মার্টফোন কেনার পর স্টোরেজে গেলে দেখা যায়, বিজ্ঞাপনে বা বক্সে উল্লেখ করা স্টোরেজের পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যেমন, ৫১২ গিগাবাইটের একটি ড্রাইভ উইন্ডোজ কম্পিউটারে মাত্র ৪৭৭ গিগাবাইট ব্যবহারযোগ্য জায়গা দেখায়। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বাকি জায়গা কোথায় গেল বা কেনার সময় প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কারণ হলো স্টোরেজের ধারণক্ষমতা গণনার পদ্ধতিতে পার্থক্য এবং ডিভাইসে আগে থেকেই ইনস্টল করা অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য সিস্টেম ফাইল।
স্টোরেজ নির্মাতারা সাধারণত দশমিক বা ডেসিমেল পদ্ধতিতে ধারণক্ষমতা হিসাব করে থাকে। এ পদ্ধতিতে এক কিলোবাইটে ১ হাজার বাইট, এক মেগাবাইটে ১০ লাখ বাইট এবং এক গিগাবাইটে ১০০ কোটি বাইট ধরা হয়। ফলে নির্মাতারা যখন কোনো ড্রাইভের ধারণক্ষমতা ১ টেরাবাইট বলে উল্লেখ করেন, তখন সেটির মোট ধারণক্ষমতা হয় ১ লাখ কোটি বাইট।
অন্যদিকে, উইন্ডোজের মতো অপারেটিং সিস্টেম স্টোরেজের হিসাব করতে বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে। এ পদ্ধতিতে এক কিলোবাইটের সমতুল্য পরিমাণ ১ হাজার ২৪ বাইট এবং এক গিগাবাইটের সমতুল্য পরিমাণ ১ হাজার ৭৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮২৪ বাইট। ফলে একই পরিমাণ তথ্যকে দুই পদ্ধতিতে হিসাব করলে সংখ্যায় পার্থক্য দেখা যায়। এ কারণেই ১ টেরাবাইটের ড্রাইভ উইন্ডোজে প্রায় ৯৩১ গিগাবাইট হিসেবে দেখা যায়। অর্থাৎ, এখানে ধারণক্ষমতা কমে যায়নি। হিসাবের একক আলাদা হওয়ায় প্রদর্শিত সংখ্যাটি ছোট দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, ম্যাক কম্পিউটারে দশমিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় একই ড্রাইভের ধারণক্ষমতা প্রায় পুরো ১ টেরাবাইট হিসেবেই দেখা যায়।
তবে স্টোরেজ কম দেখানোর পেছনে আরেকটি কারণ হলো অপারেটিং সিস্টেম ও প্রয়োজনীয় সিস্টেম ফাইল। নতুন ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার চালু করতে এসব সফটওয়্যার আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে, যা ডিভাইসের মোট স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করে। উদাহরণ স্বরূপ, ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজের আইফোন ১৬ প্রোতে আইওএস ২৭ অপারেটিং সিস্টেমই ২২ গিগাবাইটের বেশি জায়গা নেয়। একইভাবে কিছু গেমিং ল্যাপটপে উইন্ডোজ ১১-এর জন্য ৮১ গিগাবাইটের বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া অপারেটিং সিস্টেমের অস্থায়ী ফাইল, ক্যাশ মেমোরি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্যও অতিরিক্ত জায়গা দরকার হয়। স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেলে কম্পিউটার বা ফোনের গতি কমে যেতে পারে, এমনকি অ্যাপ আটকে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই নতুন ডিভাইস কেনার সময় শুধু বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা ধারণক্ষমতা নয়, অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য ফাইল বাদ দেওয়ার পর ব্যবহারযোগ্য জায়গাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।









