বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওই মহলটি আগে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল, যা দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এখন তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, তারা সংসদে এসে কথা বলুক। তাদের বক্তব্য শুনতে চাই। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনও কথা থাকলে আমরা তা গ্রহণ করতে রাজি আছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো করার জন্য সরকার কাজ করছে। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য তিনি জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে চান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আমি আবারও দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার জন্য সেই যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সবার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, মাত্র দুই বছর আগে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তাতেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এখন সরকার আগামীর বাংলাদেশকে শান্তির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে আমরা জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। হয়তো কোনও অঞ্চলে আমরা জয়ী হয়েছি, কোনো অঞ্চলে হইনি। কিন্তু আমরা মনে করি, দেশের সব মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছেন, ভোট দিয়েছেন। সে কারণে দেশের সব অঞ্চলে সমভাবে উন্নয়ন করতে চাই।

রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে একনেকের সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুরের জেলা ও উপজেলাগুলোর অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়নে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে হাজারো নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক দেন। এ ছাড়া মন্দিরের দরিদ্র ও মেধাবী সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়তলা ভবন নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর সাহেব আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Ads small one

আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

সাকিবুর রহমান বাবলা

২২ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস। তোতলামি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ফ্লুয়েন্সি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউরোপিয়ান লীগ অব স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশনসের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের মাইকেল সুগারম্যান একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দিবসটি পালনের প্রস্তাব দেন।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘তোতলামির নানা রূপ—আপনারটি কেমন?’ এই প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয়, সবার তোতলামির অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। এর প্রকাশভঙ্গি ও চ্যালেঞ্জও ভিন্ন হতে পারে। তাই তাদের অভিজ্ঞতা বোঝা, এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বে প্রায় এক শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় পাঁচ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো সময় তোতলামির সমস্যায় ভোগে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সে এর লক্ষণ দেখা দেয়। ছেলেদের মধ্যে এটি মেয়েদের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি দেখা যায়।

তোতলামি হলো কথা বলার গতি ও স্বাভাবিক প্রবাহের একটি সমস্যা। কথা বলার সময় একই বর্ণ বা শব্দ বারবার বলা, কোনো ধ্বনি টেনে উচ্চারণ করা কিংবা হঠাৎ আটকে যাওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। একজন ব্যক্তি মনে মনে কী বলতে চান, তা পরিষ্কারভাবে জানলেও মুখে স্বাভাবিক ছন্দে প্রকাশ করতে অসুবিধা হতে পারে। এটি বুদ্ধির ঘাটতি, অলসতা বা মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়। কথা বলার সময় মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া ও স্নায়বিক সমন্বয়ের পার্থক্য এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তোতলামির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬০ শতাংশের পরিবারে তোতলামির ইতিহাস রয়েছে।

শিশুর ভাষা শেখার দ্রুত বিকাশের সময় তোতলামি শুরু হতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি কমে যায়। আনুমানিক ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু বিকাশজনিত তোতলামি থেকে সেরে ওঠে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ তোতলামির মূল কারণ নয়। কিন্তু এসব কারণে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে, অথবা শিশুর কথা বলা, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা হলে দ্রুত স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তোতলামি মোকাবিলায় স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার কৌশল শেখান। তারা বাচনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর অনুশীলনও করান। তোতলামির কারণে ভয়, লজ্জা বা উদ্বেগ তৈরি হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি সহায়ক হতে পারে। তোতলামি পুরোপুরি দূর করার জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে অন্য কোনো মানসিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারেন। ধীরে ও স্বচ্ছন্দে কথা বলার অনুশীলন, শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, বই পড়া এবং নিজের কথা রেকর্ড করে শোনা কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এসব অনুশীলনের ফল সবার ক্ষেত্রে এক নয় এবং এগুলো পেশাদার থেরাপির বিকল্প নয়।

তোতলামি মানুষের সম্ভাবনা বা সাফল্যের পথে অনিবার্য বাধা নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শৈশবে তোতলামির অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। অভিনেতা জেমস আর্ল জোন্স, এমিলি ব্লান্ট ও রোয়ান অ্যাটকিনসন এবং সংগীতশিল্পী এড শিরানও জীবনের বিভিন্ন সময়ে বাচনগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের জীবন দেখায়, কোনো একটি সীমাবদ্ধতা দিয়ে মানুষের প্রতিভা ও অর্জন বিচার করা উচিত নয়। সাফল্যের জন্য তোতলামি পুরোপুরি দূর হওয়া জরুরি নয়। তোতলামি থাকলেও একজন মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কথা বলতে গিয়ে আটকে গেলে ধৈর্য ধরে তার কথা শুনতে হবে। মাঝপথে বাধা দেওয়া বা তার হয়ে বাক্য শেষ করে দেওয়া যাবে না। তার কথা বলার ধরন নকল করে হাসাহাসি, ব্যঙ্গ বা কটূক্তি করা বন্ধ করতে হবে। অপমানজনক নামে ডাকাও উচিত নয়। ‘আস্তে বলো’, ‘গভীর শ্বাস নাও’ বা ‘আগে ভেবে নাও’-এ ধরনের অযাচিত উপদেশ অনেক সময় তার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বরং স্বাভাবিক চোখের যোগাযোগ রেখে তাকে কথা শেষ করার যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, সভা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

তোতলামি কারও নিজের তৈরি সমস্যা নয়। এর পেছনে জৈবিক, স্নায়বিক ও বংশগত কারণ থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া বা তার মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায়। শুরুতেই বিশেষজ্ঞের সহায়তা, পরিবারের সহযোগিতা এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতা তাদের জীবনকে সহজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবসের শিক্ষা হোক-কথা বলার ধরন নয়, মানুষের চিন্তা, প্রতিভা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়েই তাকে বিচার করা উচিত। সহমর্মিতা, ধৈর্য ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে পারি, যেখানে সবাই নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে এবং নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারে।

 

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এ জন্য কেবল চালকদের দায়ী না করে পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ওপর জোর দিতে হবে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য চালক, পথচারী, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত প্রয়াস এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি এবং পঙ্গুত্ব বরণের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যে সকল সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত যানের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী, বেপরোয়া চালক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। রাস্তায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত করা। গতিসীমা মানা, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মদ্যপান বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে।

সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট সাইনবোর্ড, জেব্রাক্রসিং এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সড়ক ও বাঁক নির্মাণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকি কমে। মহাসড়কের বিপজ্জনক মোড় বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা এবং লেন বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং জেব্রা ক্রসিং তৈরি ও তা ব্যবহারে বাধ্য করা। দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে ধীরগতির যানবাহন রিকশা, ভ্যান, নসিমন জন্য আলাদা সার্ভিসের লেনের ব্যবস্থা করা।

মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে আইটিএস বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর। গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা উচিত। চালকদের জন্য নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা। চালকদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা জরুরি। দূরপাল্লার চালকদের একটানা অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার তৈরি প্রয়োজন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা বিনা প্রশ্নে দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিশুদের ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে কেবল একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নয়, বরং সরকার, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেই কেবল সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। জাতিসংঘের দ্বিতীয় দশক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১-২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিয়মের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুনির্দিষ্ট, কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কেবল বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা কেবল অসংখ্য মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব অংশীজনদের একত্রে কাজ করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেপ্তার

বাগআঁচড়া (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম ওজনের ১৮ পিস স্বর্ণেরবার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ আলাউদ্দিন (৫২) নামে এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের সময় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোরের নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে শার্শা থানাধীন দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামস্থ প্রাইম ব্রিকস্ নামক ইটভাটা সংলগ্ন নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আলাউদ্দিন (৫২) উপজেলার হাড়িখালী যদুনাথপুর গ্রামের মৃত গোলাম রসুলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চালান পাচার হবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শার্শা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আলাউদ্দিন গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এসময় অপর দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামির হেফাজতে থাকা ১৮ পিস স্বর্ণেরবার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান এঘটনায় চোরাচালান বিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে, এবং পালাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান স্বর্ণের মান, আনুমানিক বাজার মূল্য নির্ধারণ ও যশোর ট্রেজারি শাখায় স্বর্ণেরবার গুলো জমা দেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।