বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ডাঙ্গার পলিথিন ও প্লাস্টিক বিভিন্নভাবে মাটি, নদী, সুন্দরবন ও সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে মিশে যাচ্ছে। পরবর্তীতে জলজ প্রাণীর মাধ্যমে এবং খাদ্যশৃঙ্খল ঘুরে তা আবার বিষাক্ত রূপ নিয়ে মানুষের খাবারের পাতে ফিরে আসছে।

পলিথিন ও অপচনশীল প্লাস্টিক মাটিতে মিশে উর্বরতা নষ্ট করে। এছাড়া নালা-ড্রেন বেয়ে এগুলো খাল, নদী ও সমুদ্রে গিয়ে জমা হয়। নদী বা সমুদ্রের মাছ এবং জলজ প্রাণী এই প্লাস্টিককে খাবার মনে করে খেয়ে ফেলে। ফলে তাদের পেটে প্লাস্টিক জমা হয়। প্লাস্টিকজাত দ্রব্য কখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয় না, বরং ক্ষুদ্র কণার সৃষ্টি করে। এই বিষাক্ত কণা মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের খাদ্যতালিকায় ঢুকে পড়ছে।মানবদেহের ওপর প্রভাবপ্লাস্টিক মিশ্রিত খাবার গ্রহণের ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, মস্তিষ্কের গঠন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

ডাঙ্গায় ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা হিসেবে আমাদের খাদ্যচক্রে মিশে পুনরায় মানুষের ভাতের পাতেই ফিরে আসছে। রাস্তাঘাট, ড্রেন বা জলাশয়ে ফেলা প্লাস্টিক রোদ, বৃষ্টি ও তরঙ্গের আঘাতে ভেঙে ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। এই বিষাক্ত কণাগুলো মাটি ও পানির সাথে মিশে নদী-নালার দেশীয় মাছ, সামুদ্রিক মাছ এবং গবাদি পশুর শরীরে প্রবেশ করছে। পরবর্তীতে সেই মাছ বা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক সরাসরি মানুষের শরীরে চলে আসছে, যা ক্যানসার এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রতিদিন উৎপাদিত টন টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে তা নদী ও সাগরে গিয়ে মিশছে। অপচনশীল এই প্লাস্টিকগুলো রোদ ও পানির সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়। ছোট মাছ বা জু-প্লাঙ্কটন ভুলবশত এই প্লাস্টিক কণাকে খাবার মনে করে খেয়ে ফেলে। ছোট মাছকে যখন বড় মাছ খায়, তখন প্লাস্টিকের ঘনত্ব আরও বাড়ে। খাবার পাতে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, রুই, তেলাপিয়া, টেংরাসহ প্রায় ১৫ প্রজাতির দেশীয় মাছের অন্ত্র ও মাংসে এই প্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে, যা আমরা প্রতিনিয়ত খাচ্ছি।

প্লাস্টিক কণাগুলো শরীরে ভারী ধাতু ও বিষাক্ত রাসায়নিক বহন করে, যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতেও বিপজ্জনক মাত্রায় এই কণা শনাক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় মানব মস্তিষ্কে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে, যা আলঝেইমার্স ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কোষের ক্ষতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশকর্মী, বন বিভাগ, রুপন্তরসহ এনজিওগুলো ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাই প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে নানা কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেডএম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অধীনে সুন্দরবনে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ করা হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ বা সচেতনতামূলক প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ার মানসিকতা তৈরি করা হচ্ছে।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় এসপির সাথে ক্রিকেট আম্পায়ার্স কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় এসপির সাথে ক্রিকেট আম্পায়ার্স কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কমিটির সদস্যবৃন্দ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহ-সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম শিবলু, সাধারণ সম্পাদক মো.লুৎফর রহমান সৈকত, যুগ্ম সম্পাদক জি এম সাইফুল ইসলাম বাপ্পি, কোষাধ্যক্ষ শেখ আখেরুজ্জামান তাপস, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলুল করিম, কার্যকরী সদস্য অহিদুজ্জামান শামিম, শেখ দারুজ্জামান রুবেল, মো. মহসিন আলী, এস এম হাবিবুল হাসান।

পাইকগাছায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এমপির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এমপির মতবিনিময়

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছার বিভিন্ন প্রতিষ্টানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি ১ জুলাই বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এডিপির (৪র্থ কিস্তির অতিরিক্ত বরাদ্দ) অর্থায়নে উপজেলার ৩৫ টি শিক্ষা ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এস এম আমিনুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা জিএম বুলবুল আহমেদ, সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, পৌর আমীর ডাঃ আছাদুল হক, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।

পরে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এমপি আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সেবার মানোন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় সংসদ সদস্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও জনমুখী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসিবুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল, এসএফডিএফ কর্মকর্তা জি. এম. জাকারিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাসসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা।

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (০১ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বালিয়ারি হতে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার রাজপুর হতে ১ লাখ ০৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি হতে ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।