শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পর্যটনের উন্নয়নে সময়ের মূল্য বুঝতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
পর্যটনের উন্নয়নে সময়ের মূল্য বুঝতে হবে

মো. মামুন হাসান

পর্যটনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কক্সবাজারের সমুদ্র, সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সিলেটের চা বাগান, সাজেকের পাহাড় কিংবা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নিদর্শন। পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত অবকাঠামো, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রচারণার বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। সেটি হলো সময়।

একজন পর্যটকের কাছে সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তিনি কোনো গন্তব্যে শুধু দৃশ্য দেখতে যান না, সীমিত সময় ও অর্থ ব্যয় করে একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যান। সেই অভিজ্ঞতা কতটা স্বস্তিদায়ক, আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার সময় কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে তার ওপর। একটি গন্তব্য যতই আকর্ষণীয় হোক, সেখানে পৌঁছাতে যদি দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে ভোগান্তি হয়, পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা থাকে কিংবা টিকিট, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করতে অযথা সময় ব্যয় করতে হয়, তাহলে সেই গন্তব্যের সৌন্দর্যও অনেকটা ম্লান হয়ে যায়।

অর্থ হারালে তা আবার উপার্জন করা সম্ভব। কোনো সেবা ভালো না লাগলে বিকল্প সেবা নেওয়ার সুযোগও থাকে। কিন্তু একবার যে সময় চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। তাই পর্যটকের সময়ের প্রতি সম্মান দেখানো মানে তার অর্থ, পছন্দ ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিও সম্মান দেখানো।

 

পর্যটনসেবার মান নির্ধারণে এই বিষয়টি আমাদের আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশ্বের সফল পর্যটন গন্তব্যগুলো শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা আকর্ষণীয় স্থাপনার ওপর নির্ভর করে না। তারা পর্যটকের পুরো যাত্রাপথকে গুরুত্ব দেয়। একজন পর্যটক গন্তব্যে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য পান, যাতায়াতের সময় সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন, অনলাইনে বুকিং করতে পারেন এবং সেখানে পৌঁছে সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারেন। ফলে তার মূল্যবান সময় অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতায় নষ্ট হয় না।

বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। শুধু নতুন পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট কিংবা সড়ক নির্মাণ করলেই পর্যটন শিল্প শক্তিশালী হবে না। একজন পর্যটক কীভাবে একটি গন্তব্যে পৌঁছাবেন, কত সময় লাগবে, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন, কোন কোন স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন এবং সীমিত সময়ে কীভাবে সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন, এসব বিষয়ও পর্যটন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।

এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো দরকার। একটি পর্যটন গন্তব্যের যাতায়াত ব্যবস্থা, প্রবেশমূল্য, থাকার সুবিধা, খাবারের স্থান, দর্শনীয় স্থান, স্থানীয় গাইড, জরুরি যোগাযোগ ও অনলাইন বুকিংয়ের তথ্য যদি সহজে এক জায়গায় পাওয়া যায়, তাহলে পর্যটকের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রে কার্যকর সাইনেজ, তথ্যকেন্দ্র, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নও পর্যটকের মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে পারে।

পর্যটকের সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একটি পর্যটন এলাকার স্থানীয় মানুষ যদি পর্যটনসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হন, তাহলে পর্যটক দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে পারেন। স্থানীয় গাইড, পরিবহনকর্মী, হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যদি পর্যটকের সময়ের মূল্য বোঝেন, তাহলে পুরো গন্তব্যের অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে।

পর্যটকের সময়কে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একজন পর্যটক যদি সীমিত সময়ের মধ্যে বেশি কিছু দেখতে ও করতে পারেন, তাহলে তার ব্যয়ের সুযোগও বাড়ে। তিনি স্থানীয় খাবার গ্রহণ করতে পারেন, স্থানীয় পণ্য কিনতে পারেন, গাইড নিতে পারেন কিংবা অতিরিক্ত এক রাত অবস্থান করতে পারেন। ফলে পর্যটকের সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা শুধু তার অভিজ্ঞতা উন্নত করে না, স্থানীয় অর্থনীতিকেও গতিশীল করে।

অন্যদিকে সময়ের অপচয় পর্যটন অর্থনীতির জন্য এক ধরনের অদৃশ্য ক্ষতি। যানজট, দীর্ঘ অপেক্ষা, তথ্যের ঘাটতি, পরিবহন সংকট কিংবা সেবার ধীরগতি পর্যটকের ব্যয়ের সুযোগ কমিয়ে দেয়। আরও বড় বিষয় হলো, একটি খারাপ অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতে সেই গন্তব্যে পুনরায় আসতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তার নেতিবাচক অভিজ্ঞতা অন্য সম্ভাব্য পর্যটকদের মধ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে একটি পর্যটন গন্তব্যের ভালো বা খারাপ অভিজ্ঞতা খুব দ্রুত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

তাই আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কি শুধু পর্যটকের জন্য একটি সুন্দর গন্তব্য তৈরি করছি, নাকি একটি সুন্দর সময়ও তৈরি করছি। একটি স্থান প্রাকৃতিকভাবে যতই আকর্ষণীয় হোক, সেখানে যদি পর্যটকের সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সেই সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অভিজ্ঞতায় রূপ নেয় না। বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নকে তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পর্যটকের পুরো যাত্রাপথকে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও সময়বান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একজন পর্যটক কখন কোথায় যাবেন, কত সময় ব্যয় করবেন এবং কীভাবে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরবেন, সেই পরিকল্পনাও পর্যটন ব্যবস্থাপনার অংশ হওয়া প্রয়োজন।

আমাদের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের কোনো ঘাটতি নেই। কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন, পাহাড় থেকে নদী, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে গ্রামীণ জীবন ও লোকসংস্কৃতি, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা বিস্তৃত। এখন প্রয়োজন এসব সম্পদকে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটকের জন্য সহজ, স্বস্তিদায়ক ও সময়বান্ধব অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত একজন পর্যটক হয়তো কোনো গন্তব্যের সব ছবি মনে রাখবেন না, কিন্তু সেখানে তিনি কেমন সময় কাটিয়েছেন, সেই অনুভূতি মনে রাখবেন। একটি দেশের পর্যটন ব্যবস্থা কতটা উন্নত, তা শুধু পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। একজন পর্যটক সেখানে কতটা সহজে, নিরাপদে এবং স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারছেন, সেটিও পর্যটন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বাংলাদেশকে যদি একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে পর্যটন সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পর্যটনকে শুধু গন্তব্যকেন্দ্রিক না দেখে সময় ও অভিজ্ঞতাকেন্দ্রিক করে তুলতে হবে। কারণ পর্যটকের সময় সীমিত, কিন্তু সেই সময়ের অভিজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী।

পর্যটন উন্নয়নের তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা পর্যটকের সময়কে কতটা মূল্যবান করে তুলতে পারছি। এই প্রশ্নের উত্তরই অনেকাংশে নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ শুধু একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হবে, নাকি একটি স্মরণীয় পর্যটন অভিজ্ঞতার দেশ হিসেবে বিশ্বে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

টিভি-ফ্রিজসহ ভারী পণ্য পরিবহনে রেকর্ড গড়লো ডাক বিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
টিভি-ফ্রিজসহ ভারী পণ্য পরিবহনে রেকর্ড গড়লো ডাক বিভাগ

শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় গত দুই মাসে পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা-এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট।রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা-বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনও পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়।

বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও।

তিনি বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সেজন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।

এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার বিষয়ে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।

এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।

সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রফতানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা।

মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।

উল্লেখ্য, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও। খবর: বাসস

জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের

নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বোঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।

আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং বিমান কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িং বিমান কিনতে হবে। এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে এটা কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রফতানি হবে।

এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। খবর: বাসস

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

নেপালের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় এখনও ৪,৮৮৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৩৬০, পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ২৩০, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ২২২, নুয়াকোটে ১৯২, রাসুয়ায় ১৬০, গোরখায় ৭৩, ধাদিংয়ে ৬৭ এবং তানাহুন জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও অন্যান্য শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এ পর্যন্ত ১,০৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২২২ জন নারী, ৩৫৫ জন পুরুষ এবং ৪৫৩টি এমন মরদেহ রয়েছে যাদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ২,২৭২টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ১,২৬০টি নমুনা নিহতদের দেহ থেকে এবং ১,০১২টি নমুনা স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের স্বজনদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন কিনা তা জানতে ১,২৭০টি অজ্ঞাত মরদেহের বিস্তারিত তথ্য নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, মরদেহ উদ্ধার এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭,৯১২ জন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

সুড়ঙ্গে আর কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনিসুড়ঙ্গে আর কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি
বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে প্রায় ৩,২৪০ জন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বাধা অপসারণ এবং বন্যাকবলিত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।