বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু: আস্থার সেতুবন্ধন নাকি নতুন সম্ভাবনার দ্বার?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু: আস্থার সেতুবন্ধন নাকি নতুন সম্ভাবনার দ্বার?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৮ জুন থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ এবং ১ জুলাই থেকে ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

 

সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আগ্রহের সঞ্চার হয়েছে। কারণ ভারত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য শুধু একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়; চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস, ভূগোল এবং সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা উত্থান-পতন থাকলেও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ কখনো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে সেই যোগাযোগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। ফলে নতুন করে পর্যটন ভিসা চালুর সিদ্ধান্তকে অনেকেই দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

 

বাংলাদেশিদের কাছে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে জনপ্রিয় বিদেশ ভ্রমণের গন্তব্য। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বাস্তব কারণ। প্রথমত, ভৌগোলিক নৈকট্য। দ্বিতীয়ত, তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ। তৃতীয়ত, ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগীয় সম্পর্ক বহু পুরোনো। কলকাতার রাস্তাঘাট, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খাবার কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পরিচিতি ও আকর্ষণ দীর্ঘদিনের।চিকিৎসা খাতেও ভারত বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা। প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু কিংবা মুম্বাইয়ের হাসপাতালগুলোতে যান।

 

অনেক পরিবার চিকিৎসা ভিসার পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনাও করে থাকে। পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এই যাতায়াতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করবে।শিক্ষাক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্ব কম নয়। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কিংবা একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচির জন্য প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতে যায়। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা সাক্ষাৎকারের জন্যও ভ্রমণ করে থাকে। পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় এসব কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

 

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি পর্যটকরা ভারতের পর্যটন অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। হোটেল, পরিবহন, চিকিৎসা, বিপণিবিতান এবং বিভিন্ন সেবাখাত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আবার বাংলাদেশ থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের একটি বড় অংশ ভারতগামী পর্যটকদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। ফলে ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।তবে শুধু অর্থনৈতিক লাভের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তকে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে না। আধুনিক বিশ্বে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি বড় ভিত্তি হলো ‘পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি’ বা জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্ক যতই শক্তিশালী হোক, সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বন্ধুত্ব না থাকলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পর্যটন ভিসা সেই আস্থা গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। বর্তমান বিশ্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে পর্যটনকে একটি কার্যকর কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সীমান্ত উন্মুক্ত করে মানুষের যাতায়াত সহজ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশও একই পথে এগিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সেই মাত্রার সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি। তবুও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা সহজীকরণ পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মানবিক ও বাস্তবমুখী করতে পারে।

 

তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়Ñদুই বছর ধরে পর্যটন ভিসা কার্যত বন্ধ থাকার ফলে যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল, তার দায় কে নেবে? অনেক মানুষ পারিবারিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় তীর্থযাত্রা কিংবা অবকাশ যাপনের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের আরও দূরদর্শী হতে হবে।ভিসা চালুর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসেÑভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা। অতীতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলা এবং অনলাইন জটিলতা নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ছিল।

 

অনেক সাধারণ মানুষ দালালের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হয়েছেন অসংখ্য আবেদনকারী।পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর এই সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, আধুনিক এবং হয়রানিমুক্ত করা। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা এবং আবেদনকারীদের জন্য স্বচ্ছ নির্দেশিকা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালালচক্র নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।বাংলাদেশ সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে জনগণকে সচেতন করা। অনেক সময় অসম্পূর্ণ তথ্য বা ভুল ধারণার কারণে আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়েন।

 

ভ্রমণবিষয়ক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এখানে আরেকটি দিকও বিবেচনার দাবি রাখে। দুই দেশের মধ্যে শুধু বাংলাদেশিদের ভারতগমন নয়, ভারতীয় পর্যটকদের বাংলাদেশে আগমনও উৎসাহিত করতে হবে। সুন্দরবন, কক্সবাজার, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। পারস্পরিক পর্যটন বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হলে প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে চলে আসে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতির নানা প্রশ্ন আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু এসব জটিলতার মধ্যেও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। কারণ রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সংকট অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলেও মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব সহজে কমানো যায় না।পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত সেই দূরত্ব কমানোর একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

 

দুই দেশের তরুণ প্রজন্ম একে অপরের সমাজ, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। ভুল ধারণা ও পূর্বধারণা দূর হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে। আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেবল রাষ্ট্রীয় চুক্তি বা রাজনৈতিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে সাধারণ মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং যোগাযোগের ওপর। সেই যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি হলো পর্যটন।অতএব, পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণাকে শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন পুনর্র্নিমাণের একটি উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন প্রয়োজন এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই শক্তিশালী হবে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা। কাঁটাতারের সীমান্ত মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভাষা ও মানবিক সম্পর্কের বন্ধনকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত সেই সত্যকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কেবল ভ্রমণের সুযোগ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

Ads small one

গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলোর আধুনিকায়ন কেবল মানুষের যাতায়াতকেই সহজ করে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। সম্প্রতি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক খবর।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরে কাজের সামগ্রিক গড় অগ্রগতি ছিল মাত্র ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মতৎপরতা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকিরই প্রমাণ দেয়। জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার শতাধিক সড়ক, যেমন—আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা-প্রতাপনগর, তালার দলুয়া-বুধহাটা, কিংবা শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার-হরিনগর বাজার সড়কগুলোর কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে স্থানীয় লাখ লাখ মানুষ।
পূর্বে যেখানে সড়ক উন্নয়নের নামে রাস্তা খুঁড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখার সংস্কৃতি ছিল, সেখানে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। এর ফলে শুধু যে জনগণের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে তা-ই নয়, বরং কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুন্দরবনাঞ্চলের পর্যটন, মৎস্য শিল্প এবং গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।
তবে এই দৃশ্যমান সফলতার পাশাপাশি কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এলজিইডির উপজেলা অফিসগুলোতে তীব্র জনবল সংকট এবং উপজেলা প্রকৌশলীদের সরকারি যানবাহনের অভাব নিয়মিত তদারকিকে বিঘিœত করছে। দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোর স্থায়িত্ব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ের এই দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে, যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজে অবহেলা করেছে বা অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আরেকটি দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় যথাযথ কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই সদ্য সমাপ্ত সড়কের গুণগত মান নিয়ে অহেতুক নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়। কার্পেটিংয়ের পর পিচ জমাট বাঁধার নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার আগেই অতি-উৎসাহী আচরণ অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব একান্ত কাম্য।
উন্নয়নের এই ধারাকে টেকসই করতে হলে শুধু রাস্তা নির্মাণ করলেই চলবে না, বরং এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সাতক্ষীরা এলজিইডি সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জেলার গ্রামীণ জনপদের এই উন্নয়নের গতি ধরে রাখবে এবং একটি সমৃদ্ধ, টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

শ্যামনগরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অংশিজনের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অংশিজনের মতবিনিময় সভা

সংবাদদাতা: ব্যারাক ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর আয়োজনে ও সিডিও এর ব্যবস্থাপনায় শ্যামনগর উপজেলা বুড়িগোয়ালি ইউনিয়নে ব্যারাক, পানখালী গুচ্ছগ্রাম ও চুনা গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অংশিজনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুন দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষেদ এর হল রুমে এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডিও নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রোকৌশলী আব্দুস সামাদ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লবের সভাপতি সামিউল আজম মনির প্রমুখ। এলাকার সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত ঘর ও জমির মালিক গণ ঘর ও জমির দলিল পাইবার দাবিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: ২৪ জুন দুপুর ১টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থার সাথে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশারার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি এর উপজেলা কোয়াডিনেটর স্টিভ রায় রুপন। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন সিসিডিবি এর ম্যানেজার রেজিটিয়েন্স বিল্ডিং সামিউল আলিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শামসুজ্জাহান কনক, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শাফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রোকৌশলী আব্দুস সামাদ উপজেলা প্রেসব্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনির, রিপোটার্স ইউনিটের সভাপতি ও এনজিও সমন্বয় কারী গাজী আল ইমরান প্রমুখ।