বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু: আস্থার সেতুবন্ধন নাকি নতুন সম্ভাবনার দ্বার?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু: আস্থার সেতুবন্ধন নাকি নতুন সম্ভাবনার দ্বার?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৮ জুন থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ এবং ১ জুলাই থেকে ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

 

সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আগ্রহের সঞ্চার হয়েছে। কারণ ভারত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য শুধু একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়; চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস, ভূগোল এবং সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা উত্থান-পতন থাকলেও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ কখনো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে সেই যোগাযোগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। ফলে নতুন করে পর্যটন ভিসা চালুর সিদ্ধান্তকে অনেকেই দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

 

বাংলাদেশিদের কাছে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে জনপ্রিয় বিদেশ ভ্রমণের গন্তব্য। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বাস্তব কারণ। প্রথমত, ভৌগোলিক নৈকট্য। দ্বিতীয়ত, তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ। তৃতীয়ত, ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগীয় সম্পর্ক বহু পুরোনো। কলকাতার রাস্তাঘাট, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খাবার কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পরিচিতি ও আকর্ষণ দীর্ঘদিনের।চিকিৎসা খাতেও ভারত বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা। প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু কিংবা মুম্বাইয়ের হাসপাতালগুলোতে যান।

 

অনেক পরিবার চিকিৎসা ভিসার পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনাও করে থাকে। পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এই যাতায়াতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করবে।শিক্ষাক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্ব কম নয়। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কিংবা একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচির জন্য প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতে যায়। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা সাক্ষাৎকারের জন্যও ভ্রমণ করে থাকে। পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় এসব কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

 

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি পর্যটকরা ভারতের পর্যটন অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। হোটেল, পরিবহন, চিকিৎসা, বিপণিবিতান এবং বিভিন্ন সেবাখাত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আবার বাংলাদেশ থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের একটি বড় অংশ ভারতগামী পর্যটকদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। ফলে ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।তবে শুধু অর্থনৈতিক লাভের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তকে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে না। আধুনিক বিশ্বে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি বড় ভিত্তি হলো ‘পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি’ বা জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্ক যতই শক্তিশালী হোক, সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বন্ধুত্ব না থাকলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পর্যটন ভিসা সেই আস্থা গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। বর্তমান বিশ্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে পর্যটনকে একটি কার্যকর কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সীমান্ত উন্মুক্ত করে মানুষের যাতায়াত সহজ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশও একই পথে এগিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সেই মাত্রার সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি। তবুও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা সহজীকরণ পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মানবিক ও বাস্তবমুখী করতে পারে।

 

তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়Ñদুই বছর ধরে পর্যটন ভিসা কার্যত বন্ধ থাকার ফলে যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল, তার দায় কে নেবে? অনেক মানুষ পারিবারিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় তীর্থযাত্রা কিংবা অবকাশ যাপনের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের আরও দূরদর্শী হতে হবে।ভিসা চালুর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসেÑভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা। অতীতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলা এবং অনলাইন জটিলতা নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ছিল।

 

অনেক সাধারণ মানুষ দালালের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হয়েছেন অসংখ্য আবেদনকারী।পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর এই সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, আধুনিক এবং হয়রানিমুক্ত করা। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা এবং আবেদনকারীদের জন্য স্বচ্ছ নির্দেশিকা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালালচক্র নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।বাংলাদেশ সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে জনগণকে সচেতন করা। অনেক সময় অসম্পূর্ণ তথ্য বা ভুল ধারণার কারণে আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়েন।

 

ভ্রমণবিষয়ক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এখানে আরেকটি দিকও বিবেচনার দাবি রাখে। দুই দেশের মধ্যে শুধু বাংলাদেশিদের ভারতগমন নয়, ভারতীয় পর্যটকদের বাংলাদেশে আগমনও উৎসাহিত করতে হবে। সুন্দরবন, কক্সবাজার, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। পারস্পরিক পর্যটন বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হলে প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে চলে আসে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতির নানা প্রশ্ন আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু এসব জটিলতার মধ্যেও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। কারণ রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সংকট অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলেও মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব সহজে কমানো যায় না।পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত সেই দূরত্ব কমানোর একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

 

দুই দেশের তরুণ প্রজন্ম একে অপরের সমাজ, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। ভুল ধারণা ও পূর্বধারণা দূর হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে। আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেবল রাষ্ট্রীয় চুক্তি বা রাজনৈতিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে সাধারণ মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং যোগাযোগের ওপর। সেই যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি হলো পর্যটন।অতএব, পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণাকে শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন পুনর্র্নিমাণের একটি উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন প্রয়োজন এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই শক্তিশালী হবে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা। কাঁটাতারের সীমান্ত মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভাষা ও মানবিক সম্পর্কের বন্ধনকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত সেই সত্যকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কেবল ভ্রমণের সুযোগ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

বর্ষার স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বাসাবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি—যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেন ও ডাবের খোসাই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে থেকেও আক্রান্ত রোগী আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। চিকিৎসকদের বক্তব্য স্পষ্ট—ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং মশারির ব্যবহার প্রাথমিক ও কার্যকর প্রতিরোধক।
তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা পরামর্শ প্রদান করে এমন জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত সমন্বয় এখানে অত্যন্ত জরুরি।
পাইকগাছার বর্তমান পরিস্থিতি যেন মহামারীর দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে পাইকগাছার প্রতিটি ওয়ার্ডে অবিলম্বে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) শুরু করতে হবে। ড্রেন, বদ্ধ জলাশয় ও জমে থাকা পানির স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বর হলেই যেন রোগীরা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান, সে লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখা এবং গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কাজের তাগিদে বা ভ্রমণের কারণে যারা বাইরে থেকে উপজেলায় আসছেন, তাঁদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতাÑএই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পাইকগাছাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা।

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিবিসির খবরেও এমপি গাজী নজরুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
দেশের সীমানা পেরিয়ে বিবিসির খবরেও এমপি গাজী নজরুল

Oplus_131072

ভিডিওতে ভাইরাল, জামায়াত এখন কী করবে
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য, তাঁর প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী, শ্বশুর ও দলীয় নেতাদের কাছ থেকে নানা ব্যাখ্যামূলক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেটে দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি বিতর্কিত জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ও কাবিননামা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। বিষয়টি মঙ্গলবার টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিবিসির খবরেও স্থান পায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। বিবিসির খবরে বলা হয়Ñ এক তরুণীর সাথে নিজের ‘ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলছেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ই জুন ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন।
যদিও সামাজিক মাধ্যমে ওই তরুণীর একটি জীবন বৃত্তান্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সবুজ কালির কলমে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন মি. ইসলাম, যাতে তারিখ উল্লেখ আছে ২২শে জুন ২০২৬। ওই জীবন বৃত্তান্তে তরুণীটির বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।
ভাইরাল হয়ে পড়া ওই জীবন বৃত্তান্ত অনুযায়ী তরুণীটি ২০০৮ সালের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ ৭৭ বছর বয়েসি মি. ইসলামের দাবি অনুযায়ী ১৭ই জুন বিয়ে হলে ওই দিন তরুণীটির বয়স ছিল ১৮ বছর ২৬দিন।
গাজী নজরুল ইসলাম এর আগে পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদে জামায়াত দলীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছিলেন যে, মি ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা।
এদিকে তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠতার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ‘মেয়েদের শালীনভাবে চলাফেরা ও মাথায় পর্দা রাখার পরামর্শ’ দেওয়া নিয়ে মি. ইসলামের একটি বক্তব্যের পুরনো ভিডিও নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে ঘটনাটির দিকে তারা দলীয়ভাবে নজর রাখছেন এবং বেআইনি বা অবৈধ কিছুর প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী দল ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দল জামায়াতে ইসলামীর দিক থেকেও একই বক্তব্য দিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। তার এই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মি. ইসলাম ওই তরুণীর এক মামাকে দায়ী করেছেন।
কিন্তু ওই তরুণী তার বিবাহিত স্ত্রী হয়ে থাকলে তার মামা কেন এটি করবে সেই প্রশ্নের কোনো জবাব আসেনি কোনো পক্ষ থেকে।
সোমবার বিকেল থেকেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থকরা এটি ‘এআই ব্যবহার করে করা হয়েছে’ উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল নাগাদ কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়।
এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার বেলা ১২টা ০১ মিনিটে নিজের ফেসবুক পাতায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
এতে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ই জুন পারিবারিকভাবে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে ‘প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই’ বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন যে, গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে তিনি তার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক অফিসে যান।
“সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে”।
তিনি ওই বিবৃতিতে আরও বলেন, “আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
‘’পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপিকে তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বা তার লোকেরা জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন- এ দাবি কতটা যৌক্তিক তাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নজরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছে মগবাজারে, যেটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছেই। সাধারণত ওই এলাকায় জামায়াতের বহু কর্মী সমর্থকের উপস্থিতি থাকে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “কথাটা হয়তো যৌক্তিক মনে হচ্ছে না কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রীরাও সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন। তারপরেও আমরা সাংগঠনিকভাবে দেখবো যে তাকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে নাকি অন্য কিছু হয়েছে। সেটি দেখে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবো আমরা”।
মঙ্গলবার দুপুরের পর পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে তাকে লিখিত বিবৃতি পড়তে দেখা গেছে।
এতে তিনি বলেছেন, “আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সহিত মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) সাথে বিবাহ হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো”।
এরপর নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী পরিচয় দিয়েও আরেকটি বক্তব্য দেন গাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা যাওয়া তরুণী। এই ভিডিওতে তাকে মুখে মাস্ক পরা দেখা গেছে। সেখানে ওই তরুণী বলেছেন, “আমার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।’’
তিনি বলেন, “প্রথমত আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ই জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তেরই জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যান”।
জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদীয় দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে এবং তারা এ বিষয়ে নজর রাখছেন।
“সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নানাভাবে এসেছে। ওনার ও তার স্ত্রীদের বক্তব্যও এসেছে। তিনি যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু না করেন তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তিনি যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু করে থাকেন তাহলে অবশ্যই জামায়াত দল হিসেবে ব্যবস্থা নিবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “এমপি সাহেব বলেছেন সাথে তার স্ত্রী ছিল। এখন সেই ভিডিও কিভাবে ভাইরাল হলো সেই তথ্য উদঘাটন করতে হবে। এটি কী তাকে হেয় করার চেষ্টা নাকি অন্য কোনো বিষয় সেটি সাংগঠনিকভাবে দেখে, শুনে ও বুঝে আমরা পদক্ষেপ নিব”।
গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল শোরগোলের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, “গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে”।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব গাজী নজরুল ইসলাম কে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ ২১শে জুলাই (মঙ্গলবার) এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, “অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে”।
“ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে,” বিবৃতিতে দলটি বলেছে।