পাইকগাছার-খুলনা প্রধান সড়কে মরণফাঁদ, ঝুঁকির মধ্যে দূরপাল্লার যানবাহন
ফাইল ছবি
পলাশ কর্মকার, কপিলুমনি (খুলনা): পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর বাজার মোড় ও কপিলমুনির গোলাবাড়ী মোড়, মুচিরপুকুর মোড়সহ সড়কের কয়েকটি স্থানে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্ত এখন স্থানীয় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
আঠারো মাইল-পাইকগাছা সড়কের এই কয়েকটি জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঢাকা- চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ভারী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বর্ষার পানি জমে গর্তগুলো দ্রুত বড় হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গদাইপুর বাজারে বাঁক সরলীকরণ করা রাস্তার মুখেই এই বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কটি সোজা করা হলেও দক্ষিণ পাশের রাস্তায় একটি নতুন বাঁকের সৃষ্টি হয়েছে, আর ঠিক সেই বাঁকের মুখেই বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গর্তে ইট ফেলে এবং একটি বাঁশের মাথায় লাল কাপড় বেঁধে সতর্কতার চিহ্ন দিয়েছেন। কপিলমুনির গোলাবাড়ী মোড়, মুচিরপুকুর মোড়সহ প্রধান ও জনগুরুত্বপূর্ন এই সড়কের বেশ কয়েকটি জায়গায় সৃষ্টি হওয়া বিশাল গর্ত এখন স্থানীয় যাত্রী ও চালকদের জন্য যেন মরণের ফাঁদ।
ভুক্তভোগীরা জানান, দিনের বেলা চালকেরা কোনোমতে চোখ-কান খোলা রেখে গাড়ি পার করলেও রাতের আঁধারে ঘটে চরম বিপত্তি। অন্ধকারের মধ্যে গর্ত দেখতে না পেয়ে প্রায়ই মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক উল্টে যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত আহত হচ্ছেন চালক ও সাধারণ পথচারীরা। স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এলাকা পাইকগাছা। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ, সাদা সোনাখ্যাত বাগদা চিংড়ি, কৃষিপণ্য ও বাণিজ্যিক মালামাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।
এছাড়া মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, ভ্যান, পথচারী, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ হাজার হাজার যানবাহন দিনরাত এই সড়কে যাতায়াত করে থাকে। জরুরী ভিত্তিতে এটি সংস্কার করা না হলে সড়কটি পুরোপুরি ধ্বসে গিয়ে যেকোনো সময় ঢাকা-খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাণহানীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাস চালক মোঃ আমীর হোসেন বলেন, “প্রতি দিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৮০ জন যাত্রী ও মালামাল নিয়ে পাইকগাছা থেকে খুলনায় যাই, আবার ফিরি, এসময় খুব ঝুঁকি নিতে হয়, মাঝে মধ্যে ভাবি কখন যে বাস পাল্টি খায়?”
এ বিষয়ে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল ইসলাম জানান, “সড়কের এই ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। খুব দ্রুতই মেরামত করে যানচলাচল সম্পূর্ণ নিরাপদ করবো।”








