রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পোষা কুকুরের ডাকে প্রাণ বাঁচল ইউপি সদস্যের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
পোষা কুকুরের ডাকে প্রাণ বাঁচল ইউপি সদস্যের

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’-প্রচলিত এই প্রবাদটিই যেন বাস্তবে রূপ নিল সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায়। জনমানবহীন স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়া সাবেক এক ইউপি সদস্যের প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছে তাঁরই পোষা কুকুরের আর্তনাদ।

সোমবার দুপুরে পাটকেলঘাটা থানার খলিশখালী ইউনিয়নের গোপালডাঙ্গা গ্রামে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম পঙ্কজ কুমার ম-ল। তিনি ওই গ্রামের ভীম ম-লের পুত্র এবং খলিশখালী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পঙ্কজ কুমার দুপুরে নিজ বাড়ির আঙিনায় পানির মোটরের বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করছিলেন। মেইন সুইচ বন্ধ করেই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কাজ শেষে সব ঠিক আছে কি না দেখতে ভেজা হাতে সুইচবোর্ডে স্পর্শ করতেই তিনি প্রচ-ভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিদ্যুতের ঝটকায় তিনি পাশের একটি খাদের মধ্যে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে আশেপাশে কোনো মানুষ ছিল না। তবে পঙ্কজের সঙ্গেই ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত পোষা কুকুরটি। মালিককে খাদের মধ্যে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে কুকুরটি অস্বাভাবিক স্বরে চিৎকার ও ডাকাডাকি শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে কুকুরের এমন আর্তনাদ শুনে পঙ্কজের মা, স্ত্রী এবং পাশের ঘেরের মালিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
তাঁরা দেখতে পান, পঙ্কজ কুমার অচেতন অবস্থায় খাদের মধ্যে পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে তাঁর হাতের চারটি আঙুলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পঙ্কজের পরিবারের সদস্যরা জানান, কুকুরটি যদি সময়মতো চিৎকার করে লোক জড়ো না করত, তবে হয়তো তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হতো না। পোষা প্রাণীর এমন রাজভক্তিতে অভিভূত এলাকাবাসী। বর্তমানে পঙ্কজ কুমারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

 

 

Ads small one

হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়

অনলাইন জগতে প্রতারণার কৌশল প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। কখনও কোনও সরকারি কর্মকর্তা, কখনও নামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবার কখনও বা কাছের কোনও মানুষের পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা জরুরি অর্থসহায়তার নামে মোটা অঙ্কের টাকা। সাধারণত মানুষের মনে আতঙ্ক বা তাড়াহুড়ো তৈরি করে এই ধরনের প্রতারণাগুলো করা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল জালিয়াতির এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মাথায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে প্ল্যাটফর্মটি নতুন ৫টি অ্যান্টি-স্ক্যাম (প্রতারণাবিরোধী) ফিচার নিয়ে এসেছে।

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং স্ক্যামারদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে যে বিষয়গুলো ও নতুন ফিচারগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে—

১. অচেনা নম্বরের কল ‘সাইলেন্স’ করা

অপরিচিত নম্বর থেকে আসা স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার বা স্ক্রিন করার জন্য রয়েছে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ ফিচার। এই ফিচার চালু থাকলে কন্টাক্ট লিস্টে সেভ না থাকা কোনো নম্বর থেকে কল এলে রিংটোন বাজবে না। তবে কলগুলো অ্যাপের ‘কলস’ ট্যাব এবং নোটিফিকেশনে দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা আকস্মিক বিরক্তিকর পরিস্থিতি বা ফাঁদ থেকে রক্ষা পাবেন।

২. কনটেক্সট কার্ড

কোনও অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলে বা গ্রুপে যুক্ত করা হলে চ্যাটের ভেতরেই বাড়তি তথ্য দেখাবে এই ‘কনটেক্সট কার্ড’। যেমন— নম্বরটি কন্টাক্ট লিস্টে সেভ করা আছে কি না, কোনও মিউচুয়াল বা সাধারণ গ্রুপ আছে কি না, অ্যাকাউন্টটি একদম নতুন তৈরি করা কি না, কিংবা এটি অন্য কোনও দেশের নম্বর কি না। এই তথ্যগুলো দেখে ব্যবহারকারী সহজেই বুঝতে পারবেন চ্যাটটি নিরাপদ কি না।

৩. স্ক্রিনশেয়ার সতর্কতা

ভিডিও কলে কথা বলার সময় অনেক স্ক্যামার ব্যবহারকারীকে চাপ দিয়ে ফোনের স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, যাতে পিন, পাসওয়ার্ড বা গোপন তথ্য চুরি করা যায়। এখন থেকে কোনও অপরিচিত নম্বরের সাথে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় স্ক্রিন শেয়ার করতে গেলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে একটি সতর্কবার্তা দেখাবে। এর ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারী আগেভাগেই সচেতন হতে পারবেন।

৪. ডিভাইস লিংকিং অ্যালার্ট

প্রতারকরা অনেক সময় কৌশলে ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি অন্য কোনও ডিভাইসে লিঙ্ক বা যুক্ত করে নেয়। এই জালিয়াতি রুখতে যুক্ত হয়েছে ডিভাইস লিংকিং অ্যালার্ট। কোনও সন্দেহজনক ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট লিঙ্কের অনুরোধ এলে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে, অনুরোধটি কোথা থেকে আসছে তা দেখাবে এবং চূড়ান্তভাবে লিঙ্ক করার আগে ব্যবহারকারীকে সাবধান করবে।

৫. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট যাচাইকরণ বা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর একটি ফিচার হলো টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন। এটি চালু থাকলে অ্যাকাউন্ট রিসেট বা অন্য কোনও ডিভাইসে নতুন করে ভেরিফাই করার সময় একটি নিজস্ব ৬ ডিজিটের পিন নম্বরের প্রয়োজন হয়। ফলে অন্য কেউ চাইলেই সহজে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ বা টেকওভার করতে পারে না।

সচেতনতামূলক বার্তা এবং ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত এই ফিচারগুলোর সমন্বয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধের ধরন যেভাবে জটিল হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় এবং তাদের নিজেদের অ্যাকাউন্টের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

যানজট যেন রাজধানীবাসীর নিত্যদিনের অবধারিত সঙ্গী। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পা রাখলে যানজটের মুখোমুখি হতে হবে না— এই দৃশ্য যেন ঢাকা শহরের মানুষের কাছে এক অলীক কল্পনা। তবে এবার সত্যিকার অর্থেই রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত করতে এবং সিগন্যালের দীর্ঘ লাল-হলুদ-সবুজ বাতির অপেক্ষা দূর করতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ নামের এই বিশেষ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর মোট ১০৫ কিলোমিটার সড়ককে সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এই রুটে কোনও ধরনের প্রথাগত ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না; ফলে যানবাহন একবার এই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে কোনও বাধা বা থামা ছাড়াই সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এতে করে একদিকে যেমন বিপুল কর্মঘণ্টা বাঁচবে, অপরদিকে সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি। রাজধানী ঘিরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে যা থাকছে

যানজট নিরসনে সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আসলে কী কী থাকছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। জানা গেছে, এই বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিগন্যাল ম্যানেজমেন্ট মডেল টেকনিক্যাল সাবকমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ: প্রস্তাবিত ১০৫ কিলোমিটার ‘জিরো সিগন্যাল’ মূল সড়ক ছাড়া রাজধানীর বাকি সংযোগ সড়কগুলোতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক লাইট ও স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। শহরের সার্বিক যানজট নিয়ন্ত্রণে দিনের বেলায় সব ধরনের কাভার্ডভ্যান ও ভারী ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

মধ্যমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ: ১০৫ কিলোমিটার রাস্তায় সংকেতবিহীন (জিরো সিগন্যাল) ব্যবস্থা স্থাপনে দ্রুত একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি টেস্ট) সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন কানেকটিভিটি (সংযোগ) তৈরি করা হবে।

একটি মাত্র একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত ‘সিটি বাস সার্ভিস’ পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তঃজেলা বাসগুলোর রাজধানীতে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

সড়কের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক বাস স্টপেজ স্থাপন করা হবে এবং কেবলমাত্র সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে— সিসিটিভির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, রিকশা ও ধীরগতির যানবাহনকে স্থানীয় বা ফিডার সড়কেই সীমাবদ্ধ রাখা, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু এবং পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ গঠন।

যানজট নিরসনে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী

সরকার গঠনের পর থেকেই রাজধানীর যানজট নিরসনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার (প্রায়োরিটি) দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পরপরই যানজট নিরসনের বিষয়ে নীতিগত কথা হয়েছে। কীভাবে দ্রুত রাজধানীর যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিক উন্নয়ন, সড়কে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট কমাতে কী কী জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীর মানুষ যেন একটি যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর দেখতে পারে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তারই অংশ এই মহাপরিকল্পনা।”

ইনোভেশন টিমের হিসাব অনুযায়ী, ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ মডেলে রাজধানীর পাঁচটি প্রধান সড়ককে ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করতে মোট ৩৭টি বিশেষ অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এই ৩৭টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে— ১৬টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস, ১৩টি ‘ইউ-লুপ’ ওভারপাস, ৭টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস ইন্টারচেঞ্জ সার্কেল ও ১টি বিশেষ ‘ইউথ ইউ-লুপ’ ইন্টারচেঞ্জ।

পুরো মডেলটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নে চূড়ান্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৬৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ঢাকায় এই ‘সংকেতবিহীন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মডেল’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) একমত পোষণ করলেও, মূল কাজ শুরুর আগে একটি আন্তর্জাতিক মানের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা (ফিজিবিলিটি টেস্ট) করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পকে ইতিবাচক দেখছেন নগরবিদেরা

যানজট নিরসনে সরকারের এই ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নগর পরিকল্পনাবিদেরা। তাদের মতে, এই প্রকল্প যদি নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজধানীর চেনা যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন কোনও ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক ‘নয়ছয়’ না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান  বলেন, “রাজধানীর ট্রাফিক সমস্যাটা অনেক পুরোনো এবং এর বড় কারণ হলো কাঠামোগত ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা। এই জিরো সিগন্যাল প্রকল্প সঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে নামানো গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার যে ঘাটতি বা লুপহোল রয়েছে, তা লাঘব পাবে এবং যানজট ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।”

তিনি আরও একটি সফল উদাহরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, রাজধানীর যেসব নির্দিষ্ট পয়েন্টে ইতোমধ্যে আধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুফল কিন্তু দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এটি আমাদের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ইমপ্যাক্ট ফেলেছে। গাড়ি চালক এবং বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা এখন জরিমানার ভয়ে হলেও আইনকানুন মেনে চলছেন। এর সঙ্গে যদি এই আড়াই হাজার কোটি টাকার ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ যুক্ত করা যায়, তবে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।”

বিশ্বকাপের ১০টি অবিস্মরণীয় গোল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপের ১০টি অবিস্মরণীয় গোল

প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল আমাদের অসংখ্য গোল উপহার দেয়। বেশিরভাগ গোল উদযাপিত হয়, প্রশংসা কুড়ায়, তারপর পরবর্তী ম্যাচের উত্তেজনায় হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু গোল স্মৃতি থেকে কখনও মুছে যায় না। থাকে অমলিন। চোখধাঁধানো সেসব গোল এমন নানন্দিকতা সৃষ্টি করে যা পরে ফুটবল রূপকথারই অংশ হয়ে যায়।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই গোলগুলোকেই খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। যেসব মুহূর্ত আজও থামিয়ে দেয় সময়। এবার দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি অবিস্মরণীয় গোলের গল্প।

১. পেলে, ব্রাজিল বনাম সুইডেন (১৯৫৮)

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ যেখানে কিশোরদের বাস্তবতা শেখায়, সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে। তাও আবার ফাইনালের মতো স্নায়ু চাপের ম্যাচে! মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের আগমনী বার্তা দেন তিনি। সেই বিশ্বকাপই জন্ম দিয়েছিল ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা কিংবদন্তির।

১৯৫৮ সালের ২৯ জুন বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে ব্রাজিল। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করেন পেলে। ৫৫ মিনিটে তার প্রথম গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত। ওই গোলের সময় তিনি প্রথমে বলটি এক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেন, এরপর ভলিতে জড়িয়ে দেন জালে। তার পর তো পেলে হয়ে ওঠেন ‘ও রেই’— অর্থাৎ ফুটবল সম্রাট।

কার্লোস আলবার্তো প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে জালে কাঁপান।
কার্লোস আলবার্তো প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে জালে কাঁপান।

২. কার্লোস আলবার্তো, ব্রাজিল বনাম ইতালি (১৯৭০)

কিছু গোল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের, কিছু গোল দলগত শিল্পের। ১৯৭০ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের গোলটি ছিল নিখুঁত দলগত ফুটবলের প্রতীক। একের পর এক পাসে ইতালির রক্ষণদুর্গ ভেঙে দেওয়ার পর পেলের পাস পেয়ে কার্লোস আলবার্তো প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে জালে কাঁপান। ৮৬ মিনিটের সেই গোল এখনও দলগত আক্রমণের সেরা উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত।

৩. ডিয়েগো ম্যারাডোনা, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড (১৯৮৬)

১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার এই গোল আইকনিক এক মুহূর্ত। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একার দৌড়ে তিনি যেন ফুটবলকে রূপ দিয়েছিলেন শিল্পকর্মে। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে শুরু করা অভিযানের শেষে ইংল্যান্ডের একের পর এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে জালে বল পাঠিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর। পরে যে গোলটি ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ‘হ্যান্ড অব গড’-এর বিতর্ক ছাপিয়ে ম্যাচটির সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি হয়ে আছে ম্যারাডোনার সেই অবিশ্বাস্য গোল।

ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করে এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন কিংবদন্তি নম্বর টেন। তবে কয়েক মিনিট পর করা তার অবিশ্বাস্য দৌড় ও নিখুঁত ফিনিশিং তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

নিজেদের অর্ধে বল পাওয়ার পর একটি দুর্দান্ত মুভে ইংল্যান্ডের পিটার রিড ও পিটার বেয়ার্ডসলিকে পরাস্ত করেন ম্যারাডোনা। এরপর ভারসাম্য, গতি ও বল নিয়ন্ত্রণের মনমুগ্ধকর প্রদর্শনীতে একের পর এক ইংলিশ ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে কাটিয়ে বল জালেও জড়িয়ে দেন।

৪. ডেনিস বার্গক্যাম্প, নেদারল্যান্ডস বনাম আর্জেন্টিনা (১৯৯৮)

কোয়ার্টার ফাইনাল কখনও সহজ হয় না। সেখানে জায়গার চেয়ে লড়াই বেশি থাকে। ১৯৯৮ সালের সেই আসরে ফ্রাঙ্ক ডি বোয়ারের দীর্ঘ পাস থেকে বার্গক্যাম্পের গোলটি ছিল নিখুঁত শিল্পকর্ম। প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণ, দ্বিতীয় স্পর্শে ডিফেন্ডারকে কাটানো এবং তৃতীয় স্পর্শে নিখুঁত ফিনিশিং। ৮৯ মিনিটের সেই এক গোল আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে দেয় এবং নেদারল্যান্ডসকে তুলে দেয় সেমিফাইনালে।

৫. রোনালদিনহো, ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ড (২০০২)

২০০২ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদিনহোর সেই অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও আলোচিত গোল হয়ে আছে।

রোনালদিনহোর সেই অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক আজও অন্যতম স্মরণীয় গোল হয়ে আছে।
৫০ মিনিটের সেই গোলে প্রতিক্রিয়া জানানোর কোনো সুযোগই পাননি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যান। রোনালদিনহোর ফ্রি-কিকটি এতই দ্রুত ও শক্তিশালী ছিল যে বল জালে জড়ানোর আগে কিছুই করার ছিল না তার।

গোলটির পর কয়েক দিন ধরে ফুটবল বিশ্বে তুমুল বিতর্ক চলে। প্রশ্ন উঠে, ব্রাজিলের এই জাদুকর কি সত্যিই বলটিকে লক্ষ্যে পাঠাতে চেয়েছিলেন, নাকি সেটি ছিল ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া এক বিস্ময়কর গোল?

পরে ব্রাজিল তারকা বলেছিলেন, ‘আমি যখন শট নিয়েছিলাম, তখন অবশ্যই গোল করার চেষ্টা করছিলাম। তবে ঠিক ওই জায়গায় বল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল না।’

৬. ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, আর্জেন্টিনা বনাম মেক্সিকো (২০০৬)

শেষ ষোলোর ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলার স্কোর ছিল ১-১। আর্জেন্টিনা-মেক্সিকোর কেউই স্কোরলাইনে হেরফের ঘটাতে পারেননি। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে সেখানেই
ম্যাক্সি রদ্রিগেজের গোল
বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত গোলের জন্ম দেন আর্জেন্টাইন ম্যাক্সি রদ্রিগেজ।

৯৮ মিনিটের গোলে উঁচু হয়ে আসা একটি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে এমন এক শট নেন, যা দূরের জালে গিয়ে আঘাত করে। সেই গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভলি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

৭. জিওভান্নি ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্ট, নেদারল্যান্ডস বনাম উরুগুয়ে (২০১০)

সেমিফাইনালে খেলোয়াড়রা ঝুঁকি কম নেন। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্ট অন্যরকম ছিলেন। ডিফেন্স থেকে ক্লিয়ার হওয়া একটি বল পেয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। বলটি আকাশে উঠে বাঁক নিয়ে বার ঘেঁষে ঢুকে যায় জালে। ১৭ মিনিটের পরে তো সেমির ম্যাচটিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পায় নেদারল্যান্ডস।

৮. আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস (২০১০)

আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোল।
ইনিয়েস্তার এক গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে অমরত্ব পায় স্পেন। গোল।
বিশ্বকাপ ফাইনাল স্নায়ুর লড়াই। পা হড়কানোর ভয় প্রতিটি স্পর্শেই কাজ করে। স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচও ছিল তেমনই এক দ্বৈরথ। অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে ইনিয়েস্তা বক্সে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোল করেন। সেই এক গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে অমরত্ব পায় স্পেন। যার মাধ্যমে তারা শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, একটি প্রজন্মের সেরা দল হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে।

 

রদ্রিগেজের গোল।
ফুটবল মাঠে শিল্পকর্ম বলতে যা বোঝায়, হামেস রদ্রিগেজের সেই গোল ছিল ঠিক তেমনই।
৯. হামেস রদ্রিগেজ, কলম্বিয়া বনাম উরুগুয়ে (২০১৪)

কলম্বিয়ার সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য ২০১৪ সালে। সেবারই হামেস রদ্রিগেজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে। সেবার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন তিনি। সেখানে তার করা একটি গোল এখনও আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে। পরে তো সেটি তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়।

সেই গোলটি ছিল শেষ ষোলো পর্বের। ফুটবল মাঠে শিল্পকর্ম বলতে যা বোঝায়, হামেস রদ্রিগেজের সেই গোল ছিল ঠিক তেমনই। উরুগুয়ের বিপক্ষে করা অবিশ্বাস্য এই গোলের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতেছিলেন ফিফার পুসকাস পুরস্কার। ব্রাজিল বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল এটি। যা গত এক দশকে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারের অন্যতম স্মরণীয় পর্ব।

২৮ মিনিটের সেই গোলটিতে প্রথমে বল নিখুঁতভাবে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন হামেস। এরপর কোনো সময় নষ্ট না করে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট নেন। বজ্রগতির সেই শট উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করে জালে আশ্রয় নেয়। জন্ম দেয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নান্দনিক গোলের।

পাভার্দ জন্ম দেন জাদুকরী মুহূর্তের।
১০. বেঞ্জামিন পাভার্দ, ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা (২০১৮)

রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের লড়াই তখন রীতিমতো রোমাঞ্চকর। ঠিক তখনই পাভার্দ জন্ম দেন জাদুকরী মুহূর্তের। ৫৭ মিনিটে তার ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া ভলি এমনভাবে বাঁক নিয়েছিল যে গোলরক্ষকের পক্ষে তা ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ওই গোলে ফরাসিরা শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পথও প্রশস্ত করে।