সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকৃতির ক্যানভাসে বেগুনি আভা: বাংলার গর্ব জারুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির ক্যানভাসে বেগুনি আভা: বাংলার গর্ব জারুল

তারিক ইসলাম

নাম: জারুল (ইংরেজি নাম: Giant Crape-myrtle / Pride of India)
ফুল ফোটার সময়: এপ্রিল থেকে জুন (গ্রীষ্মকাল)
ফুলের রঙ: হালকা থেকে গাঢ় বেগুনি
উপযোগিতা: সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত মানের কাঠ ও ভেষজ গুণ।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন চারদিকের প্রকৃতি তৃষ্ণার্ত ও বিবর্ণ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই চোখের প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয় জারুল। সবুজ পাতার বুক চিরে বের হওয়া থোকা থোকা বেগুনি ফুলের এই সমারোহ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা জলরঙের ছবি। গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে তো বটেই, যান্ত্রিক নগরের ইট-পাথরের মাঝেও জারুল তার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে।

পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য:
জারুল একটি পর্ণমোচী উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। এটি সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। বছরের অন্য সময় গাছটি খুব একটা নজরে না এলেও গ্রীষ্মের শুরুতে যখন সবুজের ফাঁকে বেগুনি পাপড়িগুলো উঁকি দেয়, তখন এর সৌন্দর্য উপেক্ষা করা অসম্ভব। জারুলের ফুলে ছয়টি করে পাপড়ি থাকে এবং ফুলের মাঝখানে থাকে সোনালি রঙের পুংকেশর, যা ফুলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

বাংলার প্রকৃতি ও জারুল:
বাংলার ছয় ঋতুর আবর্তনে জারুলের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে যখন অন্যান্য ফুল প্রখর তাপে ম্লান হয়ে যায়, তখন জারুল সতেজ হয়ে ফোটে। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কিংবা পল্লীগীতিতে এই ফুলের উপস্থিতি বাংলার চিরায়ত রূপকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। জলাশয়ের ধারে জারুলের প্রতিবিম্ব যখন টলটলে জলে পড়ে, তখন এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা হয়।

অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুণাগুণ:
জারুল শুধু তার রূপ দিয়েই মুগ্ধ করে না, এর রয়েছে নানা কার্যকর গুণাগুণ:
কাষ্ঠল গুরুত্ব: জারুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলেও এই কাঠ নষ্ট হয় না বলে নৌকা তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতেও এটি সমাদৃত।
ঔষধি ব্যবহার: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, জারুলের মূল, ছাল ও পাতার নানাবিধ ঔষধি গুণ রয়েছে। বিশেষ করে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগে জারুলের পাতার চা বেশ উপকারী বলে পরিচিত। এছাড়াও জ্বর ও পেটের পীড়া নিরাময়ে এর ছাল ব্যবহৃত হয়।

সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা :
এক সময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে প্রচুর জারুল গাছ দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এই অপরূপ গাছটি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় প্রজাতির বৈচিত্র্য ধরে রাখতে জারুল গাছ রোপণ করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে বড় বড় শহরগুলোর রাস্তার ডিভাইডারে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য জারুল গাছ লাগানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।

জারুল আমাদের মাটির সন্তান। এর বেগুনি আভা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। রুক্ষ গ্রীষ্মে এক চিলতে শীতলতা আর চোখের প্রশান্তি পেতে জারুলের কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষের উচিত এই বৃক্ষটির যতœ নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলার এই ‘বেগুনি রানী’কে টিকিয়ে রাখা।

তারিক ইসলাম, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক লেখক, সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাইকগাছায় পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন ও চারা বিতারণ করা হয়। “গাছ লাগাই- পরিবেশ বাঁচাই” এই প্রতিপাদ্যে সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২ টায় উপজেলার গদাইপুর ফুটবল খেলার মাঠ ও মেইন সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান, পরিবেশ কর্মি গনেশ দাশ, শেখর রজ্ঞন ভদ্র, রহিমা বেগম, মণ্টু সরদার, আলম গাজী প্রমুখ। সড়কের পাশে নিম, অর্জুন ও পেয়ারার চারা রোপন করা হয়েছে।

বর্ষাকালে বৃক্ষের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এ সময় প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং উর্বরা শক্তিবৃদ্ধি পায়। চারা শিকড় দ্রুত মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং খাবার তৈরিতে সক্ষম হয়। পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবির উদ্যোগে ভাদ্র মাস পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ বিতারণ ও রোপন কর্মসূচি অব্যহত রেখেছে।

 

পরিবেশ সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবেশ সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ পরিবেশ ও প্রকৃতিরক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা আজ (সোমবার) খুলনা বয়রাস্থ হাজী ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

 

প্রধান অতিথি বলেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করে তুলতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। শিল্পায়নের ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার সমাজের প্রতিটি স্তরে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আগামী প্রজন্মকে রক্ষায় মাদকসেবন ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদককে ‘না’ বলতে হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

খুলনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা আঞ্চলের উপপরিচালক মো: কামরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: হারুন-অর-রশীদ ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাজী ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সহসভাপতি শেখ মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক এ্যাড. শেখ অলিউল ইসলাম। বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকে সম্মাননা ক্রেস্ট করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

 

 

যশোরের শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যান চালক নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
যশোরের শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যান চালক নিহত

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় সিমেন্ট কোম্পানি ট্রাকের ধাক্কায় আবু সাইদ (৪২) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বাগআঁচড়া বাগুড়ী জোড়াপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু সাইদ শার্শা উপজেলার পূর্ব কোটা গ্রামের তাহাজ্জত হোসেনের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় ভ্যান চালক আবু সাইদ নিজ বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে ভাড়ার উদ্দেশ্যে বাগআঁচড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাগআঁচড়া বাগুড়ী জোড়াপুল এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা ‘আকিজ সিমেন্ট’ কোম্পানির একটি ট্রাক তার ভ্যানটিকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

 

স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে নাভারন হাইওয়ে থানা ও বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাভারন হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ গোপাল পাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।