রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকৃতির ক্যানভাসে বেগুনি আভা: বাংলার গর্ব জারুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির ক্যানভাসে বেগুনি আভা: বাংলার গর্ব জারুল

তারিক ইসলাম

নাম: জারুল (ইংরেজি নাম: Giant Crape-myrtle / Pride of India)
ফুল ফোটার সময়: এপ্রিল থেকে জুন (গ্রীষ্মকাল)
ফুলের রঙ: হালকা থেকে গাঢ় বেগুনি
উপযোগিতা: সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত মানের কাঠ ও ভেষজ গুণ।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন চারদিকের প্রকৃতি তৃষ্ণার্ত ও বিবর্ণ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই চোখের প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয় জারুল। সবুজ পাতার বুক চিরে বের হওয়া থোকা থোকা বেগুনি ফুলের এই সমারোহ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা জলরঙের ছবি। গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে তো বটেই, যান্ত্রিক নগরের ইট-পাথরের মাঝেও জারুল তার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে।

পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য:
জারুল একটি পর্ণমোচী উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। এটি সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। বছরের অন্য সময় গাছটি খুব একটা নজরে না এলেও গ্রীষ্মের শুরুতে যখন সবুজের ফাঁকে বেগুনি পাপড়িগুলো উঁকি দেয়, তখন এর সৌন্দর্য উপেক্ষা করা অসম্ভব। জারুলের ফুলে ছয়টি করে পাপড়ি থাকে এবং ফুলের মাঝখানে থাকে সোনালি রঙের পুংকেশর, যা ফুলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

বাংলার প্রকৃতি ও জারুল:
বাংলার ছয় ঋতুর আবর্তনে জারুলের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে যখন অন্যান্য ফুল প্রখর তাপে ম্লান হয়ে যায়, তখন জারুল সতেজ হয়ে ফোটে। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কিংবা পল্লীগীতিতে এই ফুলের উপস্থিতি বাংলার চিরায়ত রূপকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। জলাশয়ের ধারে জারুলের প্রতিবিম্ব যখন টলটলে জলে পড়ে, তখন এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা হয়।

অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুণাগুণ:
জারুল শুধু তার রূপ দিয়েই মুগ্ধ করে না, এর রয়েছে নানা কার্যকর গুণাগুণ:
কাষ্ঠল গুরুত্ব: জারুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলেও এই কাঠ নষ্ট হয় না বলে নৌকা তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতেও এটি সমাদৃত।
ঔষধি ব্যবহার: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, জারুলের মূল, ছাল ও পাতার নানাবিধ ঔষধি গুণ রয়েছে। বিশেষ করে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগে জারুলের পাতার চা বেশ উপকারী বলে পরিচিত। এছাড়াও জ্বর ও পেটের পীড়া নিরাময়ে এর ছাল ব্যবহৃত হয়।

সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা :
এক সময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে প্রচুর জারুল গাছ দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এই অপরূপ গাছটি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় প্রজাতির বৈচিত্র্য ধরে রাখতে জারুল গাছ রোপণ করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে বড় বড় শহরগুলোর রাস্তার ডিভাইডারে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য জারুল গাছ লাগানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।

জারুল আমাদের মাটির সন্তান। এর বেগুনি আভা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। রুক্ষ গ্রীষ্মে এক চিলতে শীতলতা আর চোখের প্রশান্তি পেতে জারুলের কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষের উচিত এই বৃক্ষটির যতœ নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলার এই ‘বেগুনি রানী’কে টিকিয়ে রাখা।

তারিক ইসলাম, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক লেখক, সভাপতি সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

তীব্র দাবদাহে মৌসুমী ফল ও ফসল বিপর্যয়ের শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তীব্র দাবদাহে মৌসুমী ফল ও ফসল বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে পাইকগাছায় ফসলি জমির ফসল পুড়েছে ও মৌসুমী ফল গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। শুকিয়ে যাচ্ছে সবজি গাছ। আম, লিচু ও কাঁঠালের মুচি ও গুটি তীব্র গরমে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে, যা বাগান মালিকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। তাপদাহ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সেচের পানির অভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৈশাখের শুরুতে প্রচন্ড তাপদাহ শুরু হয়েছে। তীব্র খরায় যেন পুড়ছে দেশ। খুলনার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তাপপ্রবাহ। বৃষ্টির দেখা নেই। উপকূলে লবন হাওয়ায় তাপমাত্রা আরও বেশী অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে আমের গুটি, লিচু, কাঠালের মুচি ঝরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষি ও বাগান মালিকরা। পাকগাছায় টানা প্রায় এক মাস ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। যার কারণে বিপর্যয় ক্রমশই বাড়ছে। ক্ষেতের করলা, শসা, লালশাক, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুন, পটল, লাউ, ঝিঙ্গে, কচুসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ কারণে মৌসুমে ফলন বিপর্যয় দেখা দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে কৃষকরা।

তীব্র দাবদাহের কারণে পানির স্তর দিন দিন মাটির নিচে নেমে যাচ্ছে। জমিতে সেচ দিয়েও কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করতে পারছেন না। অতিরিক্ত তাপের কারণে বোরো ধান চিটা হয়েছে, লেগছে মাজরা পোকা। উপজেলার হিতামপুর ব্লকের কৃষক রফিফুল বলেন, ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করি। ধানে ফুল আসার পরে পানির অভাবে ঠিক মত পানি দিতে পারিনি। গরমে ধানে মাজরা পোকা দেখা দেয়।ধানে চিটার পরিমান বেশী হয়েছে।

 

উপকূলের এলাকায় চিৎড়ি ঘেরর পরিমান বেশী। ত্ব্রী গরমে পুকুর ও মৎস্য ঘেরের অল্প পানিতে মাছ মরে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, দাবদাহের কারণে ফলের গুটি ঝরে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ার পরেও গুটি যেটুকু ঝরছে সেটা স্বাভাবিক। গুটি বেশি ঝরছে মনে হলে এ সময় আমসহ বিভিন্ন ফল গাছের গোড়া মাটি দিয়ে গোল করে বেধে বেশি করে পানি দিলে আমের গুটি কম ঝরবে।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় সহ.সাধারণ সম্পাদক কলারোয়ার জয়তু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় সহ.সাধারণ সম্পাদক কলারোয়ার জয়তু

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ.সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম জয়তু। তিনি রাজধানী ঢাকায় আইটি খাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ড. কে এম আই মন্টিকে। কমিটিতে ১নং সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।

সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওই কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জয়তু।

রফিকুল ইসলাম জয়তু সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শাকদাহ গ্রামের মরহুম মুন্সী আব্দুল জব্বার ও মিসেস ছকিনা খাতুনের পুত্র। তিনি শাকদাহ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাঈল হোসেন ও ডিবি হেড কোয়ার্টারে কর্মরত এএসআই শফিকুল ইসলামের ভাই।

রফিকুল ইসলাম জয়তুর রাজনৈতিক হাতেখড়ি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। ছাত্রজীবনে তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। যশোর এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গেলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গণসংযোগ ও প্রচার উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন ৯০ গণ আন্দোলনের এই অংশীজন। সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হলেন।

রাজনৈতিক জীবনের বাইরে রফিকুল ইসলাম জয়তু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জনসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। থেকেছেন মানুষের পাশে, রয়েছেন এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। দেশ-বিদেশে ঘুরে সাতক্ষীরার কলারোয়াকে পরিচিতি করিয়েছেন। রাজধানীতে বসবাস করলেও কলারোয়া ও কলারোয়ার মানুষকে রেখেছেন নিজের কাছে। তিনি সামাজিক সংগঠন কলারোয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক; সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকার নির্বাহী সদস্য ও বৃহত্তর খুলনা সমিতি, ঢাকার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে রফিকুল ইসলাম জয়তু জানান, আগামীতে খুলনা বিভাগের অধীনস্থ সকল জেলা-উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নসহ সকল ইউনিটের কমিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে সকলের দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

 

সাংবাদিক বাবলুর ভাইয়ের মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক বাবলুর ভাইয়ের মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক খবর বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু ও বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম রবি’র ছোট ভাই শেখ শফিকুল ইসলাম সোহেল (৪৫) মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুর জামান সুমন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদার। প্রেস বিজ্ঞপ্তি