মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (এনবিএস) বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির দুই দিনব্যাপী সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুইডেন দূতাবাস, ঢাকার অর্থায়নে সিএনআরএস-এর নেতৃত্বে আইইউসিএন, বেলা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সিডিও ও প্রেরণার অংশীদারত্বে বাস্তবায়নাধীন বিফরআরএল (বিফরআরএল) প্রকল্পের আওতায় আইইউসিএন বাংলাদেশ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর শ্যামনগর উপজেলার লিডার্স এর হল রুমে ২দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা মৎস্য অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কৃষি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, সাংবাদিক, সিডিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এনবিএস কীভাবে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ও দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় সে বিষয়ে সক্ষমতা তৈরি করা।

প্রশিক্ষণের সেশন পরিচালনা করেন, আইইউসিএন-এর পরামর্শক মো. আনিসুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার মো. তারেক আজিজ, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ইসরাত জাহান ইমা, সিডিওর নির্বাহী পরিচালক গাজী ইমরাম, সিএনআরএস-এর সাইট অফিসার তৌহিদ হাসান এবং ডকুমেন্টেশন ও রিপোর্টিং অফিসার মেহজাবিন মৌ। প্রশিক্ষণে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কণক।

দুই দিনের প্রশিক্ষণে জলবায়ু ঝুঁকি, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন, এনবিএস-এর ধরন ও প্রয়োগের মানদন্ড, জলবায়ু বিপদাপন্নতা ও ঝুঁকি নিরূপণ, প্রশমন, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও যোগাযোগ, জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক এনবিএস, মনিটরিং ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন করা হয়।

প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারীদের শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং রমজাননগরের মানিকখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনে নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা উপকূলীয় বাস্তবতায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের প্রয়োগ এবং পানি ব্যবস্থাপনা, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্ক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়ন পরিদর্শনের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন অংশগ্রহণকারীরা। অন্যদিকে মানিকখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে খালের পানি প্রবাহ, জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও স্থানীয় জীবিকার সঙ্গে জলাভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তারা।

প্রশিক্ষণে আলোচনায় উঠে আসে, শ্যামনগরের মতো উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মানুষের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই কোনো একটি প্রকৃতি-ভিত্তিক উদ্যোগকে শুধু পরিবেশগত কার্যক্রম হিসেবে না দেখে পানি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও মানুষের জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এ সময় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের ওপর। একই সঙ্গে নারী, পুরুষ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এনবিএস- এর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও শ্রেণিকক্ষের আলোচনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা এনবিএস-এর বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড, অ্যাপ্লিকেশন, মনিটরিং ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ে দলীয় কার্যক্রম ও উপস্থাপনায় অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতি-ভিত্তিক উদ্যোগের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের সক্ষমতা আরও বাড়বে। স্থানীয় জ্ঞান, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সঙ্গে ম্যানগ্রোভ পুনঃস্থাপন, খাল পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষির মতো উদ্যোগ যুক্ত করা গেলে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই করার সুযোগ তৈরি হবে।

 

Ads small one

রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একদিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মাকছুদার পক্ষে কোনও জামিন আবেদন করা হয়নি।

রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন নজরুলপত্নী মাকছুদা: তদন্ত কর্মকর্তা
রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওই রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এজাহারে যেসব অভিযোগ

এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ গাজী নজরুলের সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। এরপর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। রবিববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

মরিয়মের বিছানার ওপর কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব চিরকুটে মরিয়ম তার মানসিক কষ্ট, প্রতারণার শিকার হওয়ার অনুভূতি এবং ভালোবাসার সম্পর্ক নিয়ে হতাশার কথা লিখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, রবিবার বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানান। এরপর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

হিমবাহ ধসের কারণ অনুসন্ধান করে যা জানালেন বিজ্ঞানীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
হিমবাহ ধসের কারণ অনুসন্ধান করে যা জানালেন বিজ্ঞানীরা

২৬ আগস্ট। নেপালের পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্টি হয় দ্রুতগতির কাদাধস। এর প্রভাব পড়ে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও।

ঘটনার পর হিমবাহ ধসের কারণ অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা শুরু করেন চীনের বিজ্ঞানীরা। চীনের দ্বিতীয় ছিংহাই-সিচাং মালভূমি বৈজ্ঞানিক অভিযান দল এবং সিচাংয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ যৌথভাবে এই গবেষণা চালাচ্ছে।

চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য এবং বৈজ্ঞানিক অভিযানের দলনেতা ইয়াও থানতোং জানালেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি উঁচুতে থাকা মালভূমি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে পাঁচ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্র। এখন ছিংহাই-সিচাং মালভূমি বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে। পাঁচ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় কিছু গবেষণায় এই হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

চীনের গবেষকরা আরও জানালেন, দ্রুত উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলতে থাকে। গলিত পানি বরফের ফাটল দিয়ে নিচে গিয়ে হিমবাহের তলদেশে জমা হতে পারে। হিমবাহের নিচে যদি আলগা মাটি থাকে, তাহলে এর কাঠামো ধসে পড়তে পারে।

ছিংহাই-সিচাং মালভূমি ও এর আশপাশের অঞ্চল মেরু এলাকার বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিমবাহসমৃদ্ধ এলাকা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখানে রয়েছে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার হিমবাহ।

এসব হিমবাহের মোট আয়তন প্রায় ৯৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। মোট বরফের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ১০০ ঘনকিলোমিটার। তবে গত পাঁচ দশকে এই অঞ্চলের মোট বরফের পরিমাণ কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। একই সময়ে হিমবাহের আয়তন কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

ইয়াও থানতোং আরও বললেন, নেপালের লাংতাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢালে ধসে পড়া হিমবাহটি সামুদ্রিক ধরনের। এই ধরনের হিমবাহতে বরফ জমা ও গলার হার—দুটিই বেশি। এগুলো তুলনামূলক উষ্ণ, দ্রুত গতিশীল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে রয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি হিমবাহ।কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে এসব বরফভাণ্ডার।

হিমবাহ শুধু বরফের বিশাল স্তূপ নয়। এগুলো এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই হিমবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গবেষকরা মনে করেন, হিমবাহ ও এ থেকে তৈরি হওয়া হ্রদগুলোর নিয়মিত জরিপ, গতিশীল পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বরফধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সূত্র: সিএমজি

 

সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্টে নতুন নিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্টে নতুন নিয়ম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মীদের সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর নিয়মে সংশোধন ও সমন্বয় এনে নতুন পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি জারি করা হয়। জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর হবে।

সরকারি কাজে ভ্রমণ

সরকারি রাজস্বখাতভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরতদের সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশের (জিও) ভিত্তিতে বিনা ফি-তে অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

ব্যক্তিগত কাজে ভ্রমণ

উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ বা অনাপত্তি সনদের (এনওসি) ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাবেন।

তবে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মীরা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট পাবেন।

জরুরি ও অতীব জরুরি সেবা

ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ বা অনাপত্তি সনদ সাপেক্ষে সাধারণ ফি-তে জরুরি এবং জরুরি ফি-তে অতীব জরুরি সেবা দেওয়া যাবে। সরকারি সফরে অন্তর্ভুক্ত বেসরকারি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

মিশনের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্য

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত নন-ডিপ্লোম্যাটিক কর্মকর্তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানদের বিনা ফি-তে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ডিপ্লোম্যাটিক কর্মকর্তাদের ‘ডোমেস্টিক এইড’-দের নির্ধারিত ফি-তে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে। কর্মকাল শেষে এসব পাসপোর্ট সমর্পণ করতে হবে।

মেয়াদ ও সাধারণ পাসপোর্টের অনুমোদন

অফিসিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১০ বছর অথবা অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে হয়।

৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রাধিকার থাকা অবস্থায় শুধু অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাবেন। সাধারণ পাসপোর্ট পেতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

জালিয়াতি রোধে ফোকাল পয়েন্ট

সরকারি আদেশ ও অনাপত্তি সনদের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় একজন ফোকাল পয়েন্ট এবং একজন বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করতে হবে। তাদের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদফতর, এসবি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি আদেশ ও অনাপত্তি সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।