সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকায় মরিয়মের মৃত্যু: গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
ঢাকায় মরিয়মের মৃত্যু: গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর

পত্রদূত ডেস্ক: রাজধানীর ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শ্যামনগর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা মরিয়মের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে পুননির্বাচনের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শান্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি করেন তারা। বক্তব্য দেন নওয়াবেকী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, নূরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবু ইউসুফ, বিএনপি নেতা আবুল কালামসহ স্থানীয় নাগরিকরা।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ডিবি, পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক টিম যায়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

মরিয়মের মৃত্যুর একদিন আগে, ২০ সেপ্টেম্বরই গাজী নজরুল পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া আট সপ্তাহের জামিনের নথি ঢাকার বিচারিক আদালতে দাখিল করেন। ওই মামলাটি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান ২১ জুলাই দায়ের করেছিলেন। এজাহারে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়। ১০ আগস্ট হাইকোর্ট গাজী নজরুলকে ওই মামলায় আট সপ্তাহের জামিন দেন।

ঘটনার সূত্রপাত জুলাইয়ে। ২০ জুলাই রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ১৭ জুন ঢাকায় পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।

এরপর ২১ জুলাই গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ ও সম্পর্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৩ জুলাই তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেয় জামায়াত।

তবে দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। স্পিকার বা জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কমিশন।
মরিয়মের মৃত্যুর পর ২০ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গাজী নজরুল বর্তমানে জামায়াতের কেউ নন এবং ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিষয়। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব সরকারের।

Ads small one

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—

 

> মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না;

> তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়-ভীতিপ্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না;

 

> পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

> অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

>মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

 

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

 

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

 

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

সাতক্ষীরায় প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

 

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল। বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, বাংলাদেশ রেফারিজ কমিটির জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, রেফারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন থানার বালক ও বালিকা দল অংশ নেয়। উদ্বোধনী দিনে সাতক্ষীরা সদর থানা ও তালা থানার দলের মধ্যকার খেলার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মামলায় গ্রেফতার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ থাকবে কি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
মামলায় গ্রেফতার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ থাকবে কি

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ স্পিকারকে জানিয়ে মরিয়মের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যের পদ থাকবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে—এমন সরাসরি বিধান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। সেখানে দল থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ নেই। ফলে দল থেকে বহিষ্কারের করার পরও তার সংসদ সদস্য পদ টিকে আছে।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

যদিও শুধু মামলা হওয়া বা গ্রেফতার হওয়া সংসদ সদস্য পদ হারানোর সমার্থক নয়। আদালতে দণ্ডিত হওয়ার মতো বিষয় থাকলে তখন সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অযোগ্যতার বিধান প্রাসঙ্গিক।

গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটি জানিয়েছিল, তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে। পরে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেয় জামায়াত। তবে জাতীয় সংসদ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি নিজে থেকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হয়ে যায় না। কারণ ওই অনুচ্ছেদে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে আদালতের দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬(৪) অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ৬৬(২)-এর কোনও অযোগ্যতায় পড়েছেন কি না বা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হয়েছে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানোর বিধান রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত। তবে জাতীয় সংসদ থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের শিশু পাঠানো হয়নি।

ফলে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন দুটি বিষয় আলাদাভাবে সামনে এসেছে। একদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া চলছে; অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক ও নির্বাচনি প্রশ্ন রয়েছে।

পুলিশ এরই মধ্যে জানিয়েছে, মামলায় গাজী নজরুলকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হচ্ছে এবং স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন।