শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফেলে দেওয়া শিশুর হারিয়ে যাওয়া পরিচয় নাকি আমাদের বিবেকের পরাজয় ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
ফেলে দেওয়া শিশুর হারিয়ে যাওয়া পরিচয় নাকি আমাদের বিবেকের পরাজয় ?

এম. এম হায়দার আলী
একটি শিশুর পৃথিবীতে আসা মানেই একটি নতুন সূর্যের জন্ম। তার প্রথম কান্না শুনে যেমন মায়ের চোখ ভিজে ওঠে, তেমনি বাবার বুকও অদ্ভুত এক আনন্দে ভরে যায়। একটি ছোট্ট হাত যখন মায়ের আঙুল শক্ত করে ধরে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব নিরাপত্তা যেন ওই মুঠোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে। কিন্তু পৃথিবীর সব শিশুর ভাগ্যে কি সেই নিরাপদ আশ্রয় লেখা থাকে? এতদিন শুনে এসেছি, সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতককে রাস্তার পাশে, ডাস্টবিনে, ঝোপঝাড়ে কিংবা হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে যাওয়ার নির্মম কাহিনি। প্রতিবারই মনে হয়েছে, এর চেয়ে নিষ্ঠুর দৃশ্য আর কী হতে পারে ! কিন্তু এবার হৃদয় যেন অন্যরকম ব্যথায় কেঁপে উঠল। দেশের স্বনামধন্য একটি মিডিয়ার সংবাদে দেখলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খরমপুর কেল্লা বাবা (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে সাত মাস বয়সী একটি পুত্র শিশুকে রেখে চলে গেছে কেউ। অর্থাৎ সে মায়ের বুকের দুধ খেয়েছে, বাবার কোলে হয়তো একদিন হেসেছে, কারও আঙুল ধরে হামাগুড়ি দিতে শিখেছে। তারপর একদিন হঠাৎ তার পৃথিবী বদলে গেল। যে বুক ছিল তার আশ্রয়, সেই বুকই তাকে অচেনা মানুষের ভিড়ে রেখে অদৃশ্য হয়ে গেল। ভাবতে অবাক লাগে,শিশুটি কি বারবার মায়ের জন্য কেঁদেছিল? সে কি বুঝতে পেরেছিল, যাকে খুঁজছে তিনি আর ফিরবেন না? শিশুরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু তাদের নীরব কান্নার ভাষা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভাষা। সেই ভাষা কি আমরা শুনতে পাই? আজ প্রশাসন শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছে। সমাজসেবা বিভাগ তাকে নিরাপদ আশ্রয় দেবে। হয়তো সে বড় হবে, পড়াশোনা করবে, জীবনের সঙ্গে লড়াই করবে। কিন্তু তার হৃদয়ের একটি প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? আমার মা কে? আমার বাবা কোথায়? এই দুটি প্রশ্ন হয়তো তার জীবনের প্রতিটি জন্মদিনে, প্রতিটি ঈদে, প্রতিটি সাফল্যের দিনে, প্রতিটি একাকী রাতে তাকে তাড়া করে ফিরবে। একজন মানুষ নিজের নাম পরিবর্তন করতে পারে, ঠিকানা বদলাতে পারে, পেশা বদলাতে পারে। কিন্তু নিজের জন্মপরিচয় বদলাতে পারে না। পরিচয়হীনতার যন্ত্রণা পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব, অথচ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা। আমরা প্রায়ই বলি, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ যদি জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই পরিত্যক্ত হয়ে যায়, তাহলে ব্যর্থতা শুধু একটি পরিবারের নয়; ব্যর্থতা আমাদের সমাজের, আমাদের মানবিকতার, আমাদের মূল্যবোধের। আমি জানি না, শিশুটির মা কী অসহায় পরিস্থিতির শিকার ছিলেন। হয়তো দারিদ্র্য, হয়তো সামাজিক লাঞ্ছনা, হয়তো পারিবারিক নির্যাতন কিংবা এমন কোনো অন্ধকার বাস্তবতা, যার খবর আমরা কোনো দিনই জানব না। তাই কাউকে বিচার করার আগে আমাদের সহমর্মিতাও প্রয়োজন। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়,সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সেই নিষ্পাপ শিশুটি, যে কোনো অপরাধ না করেও আজ নিজের পরিচয় হারিয়েছে। আমার মনে হয়, প্রতিটি পরিত্যক্ত শিশু আসলে রাষ্ট্রের দরজায় নয়, আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে। সে যেন নীরবে জিজ্ঞেস করে,আমি কি এতটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলাম? হয়তো একদিন এই শিশুটি বড় হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাববে,আমার চোখ কার মতো ? আমার হাসি কার কাছ থেকে পাওয়া ? আমার কপালের রেখাগুলো কি আমার বাবার মতো? আমার মুখে কি মায়ের ছায়া আছে ? কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না। জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ দারিদ্র্য নয়, অনাথ হওয়াও নয়,সবচেয়ে বড় অভিশাপ নিজের শেকড়ের পরিচয় না জানা। আমরা চাই না আর কোনো মাজারের বারান্দা, কোনো হাসপাতালের সিঁড়ি, কোনো ডাস্টবিন কিংবা কোনো রাস্তার ধারে আরেকটি শিশুর পরিচয়ের কবর রচিত হোক। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে প্রতিটি শিশু জন্ম নেবে ভালোবাসার অধিকার নিয়ে, বড় হবে নিরাপদ পরিচয়ে, আর কোনো দিন তাকে প্রশ্ন করতে হবে না,আমার ঠিকানা কোথায়? কারণ পৃথিবীর প্রতিটি শিশুর প্রথম ঠিকানা হওয়া উচিত তার মায়ের বুক। আর শেষ আশ্রয় হওয়া উচিত মানুষের ভালোবাসা, পরিত্যাগ নয়। আমি অধমের এমনটি প্রত্যাশা। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার তুয়ারডাঙ্গার মুচির কোনা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর উপকূলীয় ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ধস নেমেছে। খবর পেয়ে দ্রুত জিওটিউব ফেলে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) আলমগীর হোসেন জানান, দুপুরে বেড়িবাঁধের আনুমানিক ৩০০ ফুট ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং বিকল্প বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত কাজ শেষ না হলে জোয়ারের পানি ঢুকে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০ হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পাউবোকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন উপলক্ষে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট এ দিনব্যাপী চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পির ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ যেন কোনো খরচ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পার-কুখরালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধানের বীজতলায় ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, তাঁর বাবা ২০০২ সালে জব্বার সরদারের কাছ থেকে জমিটি কেনেন। কিন্তু বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত প্রতিপক্ষের নাম ওঠায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা (নং ১৯৩৭/২৫) চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত জব্বার সরদারের ছেলে আব্দুর রকিব জমিতে ফসল না করার জন্য পূর্বে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর জমিতে গিয়ে দেখা যায় বীজতলার চারাগুলো বিষ প্রয়োগের কারণে মরে গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রকিব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু সাইদ এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।