নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলার কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর (নিউমার্কেট মোড়) এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘ওলামা মাশায়েখ পরিষদ’ ও ‘বাংলাদেশ মজলিসুন মুফাসসিরীন’ নামের দুটি সংগঠনের ব্যানারে শতাধিক মুসল্লি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সঞ্চালনা করেন রুস্তম আলী তাওহিদী। এতে বক্তব্য দেন মাওলানা ওসমান গনি, মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হুসাইন, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আমিনুর রহমান, মাওলানা আফজাল হোসেন জিহাদী, মাওলানা তরিকুল ইসলাম জিহাদী ও হাফেজ আরিফুল ইসলাম আজাদীসহ অন্যান্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বারী অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা জেলার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। জেলা প্রশাসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হয়েও একটি খেলার অনুষ্ঠানে কেন এমন মন্তব্য করলেন, তা বোধগম্য নয়। সাতক্ষীরার চারজন সংসদ সদস্যই ইসলামপ্রিয় হওয়ার কারণেই কি তিনি এমন কথা বলেছেনÑএমন প্রশ্ন তুলে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের নীতির আলোকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি কেবল তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা শান্তি-অশান্তির বিষয় নেই।
সেই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের মূল বক্তব্য ছিল, “আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা- নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে, তাহলে সেটা আর বলবে না।”
তবে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে “অনেকেই বলে” শব্দটি পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ জুন বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকা-ের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।
পাশাপাশি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটির এক সভায় তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, অন্ধকারাচ্ছন্ন সাতক্ষীরা থেকে মুক্তি পেতে হলে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, যাত্রা ও গান-বাজনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে বিকশিত করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সভাপতিত্ব করলেও সেখানে বিতর্কিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ডিসি মূলত একই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই কথা বলেছিলেন।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সাতক্ষীরার রাজনৈতিক পরিবেশকে ভিন্নমুখী করার চেষ্টা করেছে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। অতীতে জেলা প্রশাসক ও কেবিনেট সেক্রেটারির সহায়তায় ভোট কেটে সাতক্ষীরায় এমপি জেতানো হয়েছিল, যারা সাতক্ষীরাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চান এবং এখন পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। জামায়াত এসব চাইলেই হবে না, সরকারে এখন বিএনপি রয়েছে।