হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই সমঝোতার ইঙ্গিত
ইরান, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা এই নৌপথটি আটকে দিয়ে ইরান একপ্রকার কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের অনুকূলে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। এবার এই প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করেছে তেহরান।
গত কয়েক সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান একাধিকবার আলোচনা করেছে। ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে কেবল নিজেদের এবং ওমানের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, তাদের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
বদর আলবুসাইদি জানান, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যে ধারাগুলো রয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই গঠনমূলক আলোচনা পরিচালিত হয়েছে।
বৈঠকে উভয় দেশই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলার ব্যাপারে একমত হয়েছে। ওমান ও ইরান যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও সামরিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের টোল বা ফি ছাড়াই এই জলপথ দিয়ে আগের মতো চলাচল করতে পারবে।
আপাতত জাহাজ চলাচল টোলমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও ইরান ভিন্ন একটি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ভবিষ্যতে চলাচলকারী নৌযানগুলো থেকে ফি বা টোল আদায়ের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালির যে পরিস্থিতি ছিল, তা আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকবে বলে দুই দেশই আশ্বস্ত করেছে।









