মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বড়দিনের চার মাস আগেই যেখানে জমে উঠেছে উৎসবের আমেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
বড়দিনের চার মাস আগেই যেখানে জমে উঠেছে উৎসবের আমেজ

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি বিশাল বাজারের একটি দোকানে সিলিং থেকে ঝুলে রয়েছে প্লাস্টিকের সান্তা ক্লজের দল। চারপাশের তাকে ঘিরে সাজানো হয়েছে নানারকম বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী। যদিও বড়দিনের উৎসব উদযাপনে এখনও পুরো চার মাস বাকি, তবুও শপগুলোতে এমন দৃশ্য অত্যন্ত চেনা। ফিলিপাইনে ১ সেপ্টেম্বর মানেই রেডিও স্টেশনগুলোতে বড়দিনের গান, বাসাবাড়িতে ঝলমলে আলোকসজ্জা এবং বড় বড় শপিং মলগুলোতে জমকালো প্রদর্শনীর সূচনা।

মূলত খ্রিস্টান প্রধান এই দেশে চার মাসব্যাপী দীর্ঘ কাউন্টডাউনকে বলা হয় ‘বার মান্থস’- অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর। জুলাইয়ের ৩১ তারিখ থেকেই দোকানে বড়দিনের সামগ্রী তুলতে শুরু করেছিলেন ৭৩ বছর বয়সী সেলস ক্লার্ক কোরা লানসাঙ্গান। এএফপিকে তিনি বলেন, আমরা সুবাস পেতে শুরু করেছি। সম্প্রতি এএফপি প্রতিনিধি দোকানটি পরিদর্শনের সময় দেখেন, বড়দিনের গাছ, অর্নামেন্টস, প্লাস্টিকের রেইনডিয়ার, যিশুর জন্মস্থানের প্রতিকৃতি ও উৎসবের লণ্ঠন কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রচুর ভিড় জমছে।

১০ হাজার পেসো বা ১৬০ ডলার বাজেট নিয়ে নিজের গাছের জন্য জরি ও নানা সাজসজ্জা কিনতে আসা ম্যানিলার ৩৩ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্যাথলিন সান্তিদাদ এএফপিকে বলেন, ‘জীবন কঠিন হলেও একটি ক্রিসমাস ট্রি দেখলেই মন শান্ত হয়ে যায়’। তিনি ভিড় এড়াতে আগেভাগে কেনাকাটা করতে এসেছেন, যাতে ৩০০ পেসোর ছোট জরি থেকে শুরু করে ৮ হাজার পেসোর ক্রিসমাস ট্রিগুলোর মধ্য থেকে নিজের পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বর্ষার শেষ ভাগে এই আগমনকে আরও ভালো সময়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী মার্ক গডউইন ভিলারেয়াল। তিনি জানান, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই উৎসব সমাজজীবনে এক ধরনের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা আনে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সেপ্টেম্বরের সময়টা মূলত সাজসজ্জার জন্য; অক্টোবরে শুরু হয় উপহার, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে পুনর্মিলনী ও বড়দিনের রাতের খাবারের জন্য টাকা জমানো। এই উৎসবে যোগ দিতে বিদেশে কর্মরত ১ লাখেরও বেশি ফিলিপিনো কর্মী দেশে ফিরে আসেন।

উৎসবে ফিলিপিনোদের কাছে বড়দিন মানে অন্তর্ভুক্তি, বিশ্বাস, আশা ও আনন্দ। ৯০টি শপিং মলের চেইন এসএম সুপারমলসের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ম্যাথে জানান, তারা আগস্ট থেকেই বড়দিনের সাজসজ্জা শুরু করেছেন যাতে ক্রেতারা দীর্ঘ সময় ধরে এই আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

ম্যানিলার উত্তরে পাম্পাঙ্গা প্রদেশে সাম্প্রতিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হলেও স্টার-শেপের ‘পারোল’ বা লণ্ঠন প্রস্তুতকারকদের উৎসাহ কমেনি। ঘরের অপরিহার্য এই লণ্ঠন প্রস্তুতকারক ২৬ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিকা ডেভিড বলেন, শোরুমে পানি ঢুকেছিল বটে, তবে এই লণ্ঠনগুলো ওয়াটারপ্রুফ। বন্যা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরই মানুষ লণ্ঠন কেনা শুরু করবে।

ফিলিপাইনে এই সাজসজ্জা খোলা হয় আগামী বছরের ৬ জানুয়ারি, যেদিন যিশুর জন্য ৩ জন জ্ঞানী ব্যক্তি উপহার এনেছিলেন বলে ধরা হয়। তবে ৫১ বছর বয়সী স্কুল সুপারিনটেনডেন্ট রিকি অ্যাঞ্জেলেস জানান, পুরো খরচের উসুল করতে তিনি বছরজুড়েই নিজ বাড়ির জানালায় লণ্ঠন ও বাগানে লাইট ঝুলিয়ে রাখেন। এই কথা বলেই তিনি মুচকি হেসে আরও কিছু জিনিস কিনতে দোকানে ঢুকে পড়েন।

সূত্র: এএফপি

Ads small one

তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

তালা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তালা উপজেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়, ম-পে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও প্রতিমাশিল্পীরা। উপজেলায় এবার ১২টি ইউনিয়নে মোট ২০২টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে ৮৭টি এবং তালা থানার আওতাধীন সাতটি ইউনিয়নে ১১৫টি পূজাম-প রয়েছে। উৎসব নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি ম-পে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ কুমার ম-ল ও পুরোহিত তপন হালদার জানান, ম-পগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তালা থানার এসআই (ওসির চার্জ) মহাসীন আলী, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জেল হোসেন এবং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরুজ্জামান গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন গাজীর (নূরী) ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর দেবনগর গ্রামের রফিকুল মোল্লার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে ট্রান্সফর্মারের ঢাকনা খোলার পর ভিতরকার জিনিসপত্র মাথায় পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্মক জখম হন নুরুজ্জামান। পরে চোর চক্রটি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুরির ওই ঘটনায় রফিকুল মোল্লা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার রাতে নুরুজ্জামানসহ অন্যরা ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে হাইভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে আসেন। পুলিশের ঝামেলার ভয়ে তাঁকে কোনো সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রেখে গোপনে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙা অফিসের এজিএম মোছা. মারিয়া ছিদ্দিকা জুঁই জানান, উত্তর দেবনগরের রফিকুল মোল্লার ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নুরুজ্জামান ওই ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

নিত্যপণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, সবজির পাশাপাশি ডিম ও মাংসের মতো আমিজাতীয় খাদ্যের দাম যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং আয়ের স্থবিরতা, অন্যদিকে লাগামহীন ব্যয়Ñএই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। সামান্য সঞ্চয়ের সুযোগ তো দূরের কথা, দৈনিক প্রয়োজন মেটাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে বেশিরভাগ পরিবার।
সাম্প্রতিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে পৌঁছেছে দেড়শ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ধানের চড়া দামের কথা বলা হলেও, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই ফারাক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিপণন প্রক্রিয়ায় তদারকি ও জবাবদিহির অভাব না থাকলে পণ্যের এই কৃত্রিম বা অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব নয়।

বাজার ব্যবস্থাপনার এই অস্থিরতা জনজীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। শুধু অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করতে হবে। সরবরাহ চেইনে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।