শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সহজ উপায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সহজ উপায়

এখন চলছে গরমের সময়। বাড়িতে ব্যবহৃত এয়ার কন্ডিশনার (এসি), গিজার বা ওয়াটার হিটার, বৈদ্যুতিক চুলা, ওভেন ও ইস্ত্রিতে সাধারণত সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে ফ্যান, এলইডি বাল্ব ও মোবাইল চার্জারের মতো যন্ত্র তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব। কোন কোন যন্ত্র বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে এবং কীভাবে সেই খরচ কমানো যায়, অনেকেই তা জানেন না।

যেসব পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়

* ফ্যান, বাতি, টিভি, কম্পিউটার ব্যবহার না করলে সব সময় এগুলোর সুইচ বন্ধ করে রাখলে এবং মেশিন বা ইস্ত্রি ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখলে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়।

* প্রচলিত বাতির তুলনায় এনার্জি বাল্ব বা এলইডি বাতি ব্যবহার করা হলে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমে আসে। যেখানে প্রচলিত একটি বাতি ১০০ ওয়াট ব্যবহার করে, সেখানে একটি এনার্জি বাতি ব্যবহার করে মাত্র ২৫ ওয়াট।

* এখন ইনভার্টারযুক্ত ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন পাওয়া যায়। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

* বাসাবাড়িতে এসি ব্যবহার এখন অনেক বেশি নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু নিয়ন্ত্রিতভাবে এসি ব্যবহার করা গেলে এর বিল কমিয়ে আনা সম্ভব। এসির তাপমাত্রা সবসময় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে।

* বিদ্যুতের সংযোগ ও তারের ওপর বিদ্যুতের বিল অনেক সময় নির্ভর করে। খারাপ মানের তার হলে, সংযোগ দুর্বল বা নড়বড়ে হলে সেটি লো ভোল্টেজের সৃষ্টি করে, ফলে বিলও বেড়ে যায়।

* বহুতল ভবনের সাব-স্টেশন পুরাতন হলে সেটি বেশি বিলের কারণ হতে পারে।

* বছরে অন্তত একবার এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে হবে। বাসার এসি ও ফ্রিজের ফিল্টার নিয়মিত সময় পরপর পরিষ্কার করানো হলে সেটি কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে।

* বাসায় রান্না করা বা খাবার গরম করার ক্ষেত্রে মাইক্রো ওভেন ব্যবহার না করে চুলা ব্যবহার করতে পারেন। স্লো কুকার বা টোস্টার ব্যবহার করা যায়।

আপনার বিদ্যুৎ বিল কত বাড়বে, হিসাব করবেন যেভাবে
* দিনের বেলায় ঘরের ভেতর বাতি না জ্বালিয়ে সূর্যের আলোর সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করা ভালো। সেটি আবাসিক বিদ্যুতের ব্যবহার অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।

* বাসা তৈরির সময় পশ্চিম দিকে রান্নাঘর, আর দক্ষিণ দিকে শোবার ঘর রাখলে ঘরে আলো-বাতাস বেশি ঢোকে, ফলে বাতি ও পাখার সীমিত ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

* বাসার প্রতিটি জানালায় রঙিন কাচের ব্যবহার না করে স্বচ্ছ কাচ লাগালে ঘর প্রাকৃতিকভাবে আলোকিত হবে।

* সোলার লাইটের (সৌরবাতি) ব্যবহার করা যেতে পারে। যাদের বাসায় সোলার আছে, তাদের সেটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি।

* দিনের আলোর ব্যবহার বাড়াতে হবে। যত ভোরে সম্ভব ঘুম থেকে ওঠা ও রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

* কাপড় অল্প ময়লা হলেই ওয়াশিং মেশিনে না দিয়ে বেশ কিছু কাপড় জমিয়ে একত্রে ধুয়ে ফেলা যায়।

* বিদ্যুৎ–চালিত যন্ত্র ব্যবহার না করে কিছু পণ্যের ম্যানুয়াল ডিভাইস ব্যবহার করলে বা রান্নাঘরে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করলে বিল কম আসবে। যেমন ব্লেন্ডার, এগ বিটার, ফুড প্রসেসর, টোস্টার, স্যান্ডুইচ মেশিন, জুসার ইত্যাদি।

Ads small one

অপ্রতিম হত্যা: ২ কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
অপ্রতিম হত্যা: ২ কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ন্যাশনাল ডেস্ক: কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও দুই কিশোর সরাসরি জড়িত এবং সিয়াম (১৯) হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার বাসা থেকে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়।

চার আসামিই গ্রেপ্তার রয়েছে। তুহিন ও সিয়াম কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং দুই কিশোর গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

কাজের অভাবে পাইকগাছার হাজারো শ্রমিকের ইটভাটায় পাড়ি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
কাজের অভাবে পাইকগাছার হাজারো শ্রমিকের ইটভাটায় পাড়ি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে কাজের তীব্র সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবিকার সন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলার ইটভাটায় পাড়ি জমাচ্ছেন হাজারো নিম্নআয়ের মানুষ। তাঁদের সঙ্গে যাচ্ছেন নারী ও শিশুরাও। সংসারের খরচ, সন্তানদের খাবার ও পড়ালেখার ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়েই তাঁরা নিজ এলাকা ছেড়ে দূরদূরান্তে শ্রমিকের কাজ বেছে নিচ্ছেন।

স্থানীয়ভাবে স্থায়ী কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত দৈনিক কাজের সুযোগ না থাকায় দিনমজুরদের আয় অনিয়মিত। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও। এ পরিস্থিতিতে জীবিকার তাগিদে ইটভাটায় কাজ করতে যাচ্ছেন পাইকগাছার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ।

সাধারণত বর্ষা মৌসুম শেষে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার মৌসুম শুরু হয়। চলে পরবর্তী বর্ষা মৌসুমের আগ পর্যন্ত। উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকাজের ব্যস্ততা কমে গেলে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যান।

ইটভাটার মালিক বা শ্রমিক সরবরাহকারী সর্দাররা অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘দাদন’ নামে পরিচিত। দরিদ্র পরিবারগুলো এই টাকা দিয়ে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটায়। পরে ইটভাটায় কাজ করে সেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক শ্রমিক একা না গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার নিয়ে ভাটায় যান, যাতে পরিবারের একাধিক সদস্য কাজ করে আয় করতে পারেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট তৈরির মৌসুমে তাঁদের কাজ করতে হয়। সর্দারের মাধ্যমে ছয় মাসের চুক্তিতে তাঁরা ইটভাটায় যোগ দেন। কাজ শুরুর আগে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। তবে এই অর্থ পরিশোধের দায় থাকায় অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

কাজের ধরন অনুযায়ী ছয় মাসে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও ভিন্ন। ইট তৈরির কারিগররা পান প্রায় এক লাখ টাকা। জোগালিরা পান ৪৫ হাজার টাকা, আগাটক শ্রমিকরা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, গোড়ারটক শ্রমিকরা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং মাটি বহনকারীরা পান ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কাজ শেষে খোরাকি হিসেবে সাত দিনে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয় বলে শ্রমিকেরা জানান।

শ্রমিকদের জানান, তাঁদের দুই শিফটে কাজ করতে হয়। ফজরের আজানের পরপরই কাজ শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। এরপর স্বল্প বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। আবার শ্রমিকদের একটি অংশ পালাক্রমে রাতে কাজ করেন। সব মিলিয়ে অনেক শ্রমিককে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়।

ইটভাটার পাশেই টিনের ঘর তৈরি করে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেই তাঁরা বসবাস করেন এবং নিজেরাই রান্না করে খাবার তৈরি করেন। তবে এসব ঘরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁদের জীবনযাপন করতে হয় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

ইটভাটার শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। অস্থায়ী ও অপর্যাপ্ত আবাসনে বসবাসের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘ সময় ধোঁয়া, ধুলাবালি ও গরম পরিবেশে কাজ করতে হয়। এতে শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কাজের জন্য পরিবারের সঙ্গে ইটভাটায় যাওয়া অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে পাইকগাছার শ্রমজীবী মানুষকে জীবিকার জন্য নিজ এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে তাঁদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সীমিত বিশ্রাম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ বাড়ানো গেলে এসব মানুষের দূরদূরান্তে গিয়ে কঠিন পরিবেশে কাজ করার চাপ কমতে পারে।

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ দিন ফল প্রকাশিত হতে পারে।

এবার এইচএসসিতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে এবার থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে এবং তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ের বেশি সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করতে হবে।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা, নাকি আরও বেশি—সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবারের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেও পরে অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।

এক বছর অপেক্ষা না করানোর ঘোষণা উপদেষ্টার

এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।

এবার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।