সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ায় মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ায় মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ

একদিকে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ভারে ন্যুব্জ সাধারণ মানুষ। এমন বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনই উদ্বেগও কম নয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দেওয়া এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের আগে সরকারকে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

সরকার বাজেটকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ উৎসাহ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। কারণ রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহ কমে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান।

ঋণ পরিশোধেই যাচ্ছে বিপুল অর্থ

বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছে। এখন সেই ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের সময় এসে গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ৩৮০ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ৩৫০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।

অন্যদিকে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ৪২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে শুধু বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধেই প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। অর্থাৎ সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ উন্নয়ন ব্যয়ের পরিবর্তে ঋণ পরিশোধেই চলে যাবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ পরিশোধের এই চাপ আগামী কয়েক বছর আরও বাড়বে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ

ঋণের চাপের পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি সেই লক্ষ্য অর্জনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

বাজেটের আগেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি

বাজেট ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। খুচরা পর্যায়ে গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা, যা প্রায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, ‘‘বাজেট সামনে রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের ব্যয় কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে কোনও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এ মন্তব্য নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় না, বরং পুরো অর্থনীতিতে ব্যয়ের একটি নতুন ঢেউ তৈরি করে।’’

জ্বালানির নতুন ধাক্কা

বিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দামও সম্প্রতি আবার বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিল মাসে এক দফা বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর জুনে আবারও অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যদিও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে এই সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

কিন্তু ভোক্তারা বলছেন, বাস্তবে এর প্রভাব সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার ওপর পড়ছে।

কেন বাড়বে সব কিছুর দাম?

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে একটি ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত— সবখানেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের দামের মাধ্যমে ভোক্তার ওপর চাপানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে, সেবা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হবে।

সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত

সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, ‘‘সব কিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। সংসারের খরচ মেলাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।’’ মানিকনগরের গৃহিণী রাহেলা বেগমের ভাষায়, ‘‘আগে বাজারে গিয়ে তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করা যেত। এখন প্রতিটি জিনিস কিনতে হিসাব করতে হয়।’’ রাইড শেয়ারিং চালক মিনহাজ বলেন, ‘‘অকটেনের দাম বাড়ছে, কিন্তু যাত্রীরা ভাড়া বাড়াতে চায় না। ফলে আয় কমে যাচ্ছে।’’

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে তার সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব খাতে পড়ে। ব্যক্তিপর্যায় থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা, কৃষি, পরিবহন ও সেবা খাত—সব ক্ষেত্রেই উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ ভোক্তার ওপরই বর্তায়, যা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয় এবং মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিদ্যুৎ, ডিজেল, কেরোসিনসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পরিবর্তে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।’’

এস এম নাজের হোসাইন আরও বলেন, ‘‘বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আগে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠন বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এসব কাঠামোগত সমস্যা দূর করার পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ আরোপ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের অনেক দেশ নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক গ্রাহকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি ও বিল সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে। সেখানে ভর্তুকি কমানোর যুক্তিতে ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।’’

ক্যাবের এই নেতা আরও বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ খাতে প্রয়োজনীয় গতি ও কার্যকর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।’’

শিল্প খাতেও বাড়ছে উদ্বেগ

শিল্প উদ্যোক্তারাও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকা রফতানি খাতে নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘‘শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে দাম বাড়ানোর পরিবর্তে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’’

ঘাটতি মেটাতে বাড়তি ঋণ

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সামনে কঠিন পথ

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়—এটি হবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার একটি বড় পরীক্ষা। একদিকে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং রাজস্ব ঘাটতি—সব মিলিয়ে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা এবং উৎপাদন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে শুধু বড় অঙ্কের বরাদ্দের ওপর নয়, বরং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণনির্ভরতা কমানোর মতো কঠিন লক্ষ্যগুলো কতটা অর্জন করা যায়

Ads small one

কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মায়ের হত্যাকারী ও আপন চাচার করা ‘মিথ্যা’ মামলা ও জীবননাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই এতিম ভাই-বোন। সোমবার সকালে কাশিমনগর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইটভাটার শিশু শ্রমিক মো. রিফাত গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিফাত গাজী বলেন, ২০২১ সালে তাদের বাবা এনামুল গাজী মারা যান। এরপর ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার মা রাশিদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রিফাত বাদী হয়ে চাচা মহিদুল গাজীকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সেদিনই মহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেয়েই মহিদুল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রিফাত ও তার ছোট বোন তাসমিরা খাতুনসহ (১৪) সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১১ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিফাত।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, মায়ের হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাচা মহিদুল গাজী উল্টো তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সম্প্রতি তিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাতসহ ৭ স্বজনের নাম উল্লেখ করে একটি ‘মিথ্যা’ মামলা (সিআর-৪০৪/২৬) দায়ের করেছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে—তার মা আত্মহত্যা করেছেন এবং রিফাত ও অন্যরা মিলে চাচার ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পুকুরের মাছ ও কলাসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি ও ক্ষতিসাধন করেছে। রিফাত এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, রাশিদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। ফলে মামলাটি হত্যা (৩০২ ধারা) থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার (৩০৬ ধারা) অপরাধে রূপ নেয়।
রিফাত গাজীর দাবি, তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচা মহিদুল তার মাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও মহিদুল উপস্থিত হননি। ঘটনার রাতে তার মাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরের বাইরে থেকে শিকল আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে লিচু গাছ থেকে মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের নানা অসঙ্গতি ছিল। তাই মায়ের মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই এতিম তরুণ।

 

 

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।