বিনেরপোতা শ্মশানঘাট সংলগ্ন বেতনা নদীর বাঁধে ভাঙন আতঙ্ক, নির্ঘুম রাতে স্থানীয়রা
মো. জাবের হোসেন: সাতক্ষীরা সদরের বিনেরপোতা শ্মশানঘাট সংলগ্ন কুলুটিয়া খালের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ।
২০২৪ সালের সেই বিভীষিকাময় ভাঙনের স্মৃতি এখনও ভুলে যাননি এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। সে বছর কুলুটিয়া খালের বাঁধ ভেঙে এক রাতেই তলিয়ে গিয়েছিল নগরঘাটা, ধানদিয়া, সরুলিয়া, খলিষখালী ও লাবসা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চান না স্থানীয়রা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। জোয়ারের পানির প্রবল চাপে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে গেলে নগরঘাটা, ধানদিয়া, সরুলিয়া, খলিষখালী ও লাবসা ইউনিয়নের অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শত শত কোটি টাকার মৎস্য ঘের আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
স্থানীয় সাংবাদিক জাকির হোসেন জানান, বেড়িবাঁধের বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে নতুন করে আর বৃষ্টি না হলে হয়তো এটি টিকতে পারে। কিন্তু পুনরায় বৃষ্টি হলে এবং পানির ঢেউয়ের চাপ বাড়লে যেকোনো সময় বাঁধটি ধসে পড়বে। তিনি অবিলম্বে সেখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান।
শহিদুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বাঁধটি ভেঙে গেলে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ এক রাতে নিঃস্ব হয়ে যাবে। শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বাঁধটি টেকসই করার ব্যবস্থা করা।”
নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোহাব্বত আলী সরদার বলেন, “বাঁধে ফাটল ধরার খবর পাওয়ার পর থেকে সকাল-বিকাল নিজে গিয়ে তদারকি করছি। বাঁধটি যাতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য স্থানীয়দের নিয়ে কাজ করছি। যেহেতু বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই টেকসই সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি।”
এদিকে, খবর পেয়ে শনিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালীন সর্বশেষ অবস্থা ও পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকরা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) আব্দুর রহমান তাযকিয়া বিষয়টি অবগত আছেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাঁধটি শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে স্থায়ী সংস্কার কাজের জন্য রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে স্কেভেটর দিয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান।









