মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রাথমিক স্কোয়াডে নেইমার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রাথমিক স্কোয়াডে নেইমার

অবশেষে সকল শঙ্কা পেছনে ফেলে জাতীয় দলে ফেরার পথে বড় এক ধাপ এগোলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। সোমবার কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত ব্রাজিলের প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি স্পষ্ট করে আসছিলেন, খ্যাতির জোরে দলে জায়গা মিলবে না, বরং পুরোপুরি ফিট ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকা খেলোয়াড়দেরই বিবেচনায় নেওয়া হবে। সে কারণেই ব্রাজিলের সর্বশেষ দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। তখনও এসিএল ইনজুরি থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তবে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে।

তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে নিজের পুরোনো ছন্দ ও প্রভাব ফিরে পেয়েছেন নেইমার। ১২ ম্যাচে পাঁচ গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড। তবে তার প্রভাব শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। তার নেতৃত্বে ব্রাজিলিয়ান লিগে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সান্তোস, পাশাপাশি কোপা সুদামেরিকানাতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে দলটি।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের জন্য ৫৫ সদস্যের দল ঘোষণা করতে হবে ১১ মের মধ্যে। আর বড় এই তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না। এখান থেকেই মূলত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড বেছে নিতে হয়।

আনচেলত্তির চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা হবে আগামী ১৮ মে। তখনই নিশ্চিত হওয়া যাবে বিশ্বকাপে নেইমারের প্রত্যাবর্তন। দলে জায়গা পেলে এটি হবে ব্রাজিলের হয়ে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ।

এবার দেখে নেওয়া যাক ব্রাজিল স্কোয়াড:

ফরোয়ার্ড: ভিনি (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনিহা (বার্সেলোনা), ম্যাথেউস কুনিহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), লুইজ হেনরিকে (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি (আর্সেনাল), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি), এস্তেভাও (চেলসি), নেইমার (সান্তোস), এন্দ্রিক (লিওঁ), রায়ান (বোর্নমাউথ), অ্যান্টনি (রিয়াল বেতিস),
ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), পেদ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), রিশার্লিসন (টটেনহাম), ইগর জেসুস (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), কাইও জর্জে (ক্রুজেইরো)

মিডফিল্ডার: কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারায়েস (নিউক্যাসল), ফাবিনিয়ো (আল-ইত্তিহাদ), আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি),দানিলো (বোটাফোগো), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো), গ্যাব্রিয়েল সারা (গালাতাসারাই), জোয়াও গোমেস (উলভস), আন্দ্রেয়াস পেরেইরা (পালমেইরাস), জোয়েলিন্তন (নিউক্যাসল), জেরসন (ক্রুজেইরো), ম্যাথেউস পেরেইরা (ক্রুজেইরো)

ডিফেন্ডার: মারকিনিওস (পিএসজি), থিয়াগো সিলভা (পোর্তো), গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (আর্সেনাল), ব্রেমার (ইউভেন্টাস), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), ইবানেজ (আল-আহলি), আলেক্সসান্দ্রো (লিল), ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো (ক্রুজেইরো), বেরালদো (পিএসজি), ভিতর রেইস (জিরোনা), মুরিল্লো (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), ওয়েসলি (রোমা), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), পাওলো হেনরিকে (ভাস্কো), ভিতিনহা (বোটাফোগো), অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ডগলাস সান্তোস (জেনিত)
লুসিয়ানো জুবা (বাহিয়া), কাইও হেনরিকে (মোনাকো), কাইকি (ক্রুজেইরো), কার্লোস অগুস্তো (ইন্টার মিলান)

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), বেন্তো (আল-নাসর), হুগো সৌজা (করিন্থিয়ান্স), জন (ফরেস্ট), কার্লোস মিগেল (পালমেইরাস)

Ads small one

চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর। এক সময়ের ব্যস্ত এই নায়িকা এখন অভিনয় থেকে অনেক দূরে। বিরতি দিয়ে মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো মুক্তির খবর নেই। নাটকেও নেই তিনি অনেক দিন। হুট করে সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন।

‎১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্রটি। এফডিসিতে দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে শুটিং। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
‎পূর্ণিমা বলেন, ‘প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনা ভালো লাগায় মানুষকে সচেতন করতে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজটি করেছি। আমি সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’

‎গাজী মাহবুব জানান, গল্পে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি এবং বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এটি দেখানো হবে। এছাড়াও অন্তর্জালে প্রকাশিত হবে। অনুষ্ঠানে সারাদেশের ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দিনব্যাপী ফ্রি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত সংস্থার ফেসবুক পেজে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু।

‎পূর্ণিমা ছাড়াও প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও রয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকেই।

শহীদ মিনারে নাট্যজন আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত সংস্কৃতি কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শহীদ মিনারে নাট্যজন আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত সংস্কৃতি কর্মীরা

নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে শেষ বিদায় জানালো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৩টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর থেকেই প্রিয় সহকর্মীকে শেষবার দেখার জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন বরেণ্য নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

শ্রদ্ধায় ও স্মরণে সিক্ত শহীদ মিনার

শহীদ মিনারে আতাউর রহমানের মরদেহে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তালিকায় ছিল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ছায়ানট, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ঢাকা থিয়েটার, প্রাচ্যনাট, কণ্ঠশীলন, পালাকার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগসহ বহু সংগঠন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, “আতাউর রহমান সবসময় শিল্পকে ধারণ করতেন। তিনি ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। শিল্পই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান।”

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আতাউর রহমান শিল্পকে গভীরভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তার হাত ধরেই অনেকে নাট্যজগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কর্মের মাধ্যমেই তিনি আমাদের মাঝে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন।”

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কন্যা শর্মিষ্ঠা। শ্রদ্ধানুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক ইনাম খানসহ সংস্কৃতিক কর্মীরা। সবার কণ্ঠে ছিল একই সুর—আতাউর রহমানের প্রয়াণে নাট্যজগতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।

শেষ বিদায় ও দাফন

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আগে জোহরের নামাজের পর মগবাজারের ইস্পাহানী সেঞ্চুরি আর্কেড সংলগ্ন খোলা মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকালে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নাট্যজন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে থিয়েটার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মঞ্চ নাটক নির্দেশনা, অভিনয় এবং লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।

নাহিদের ৫ উইকেট, মিরপুর টেস্টে জিতলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
নাহিদের ৫ উইকেট, মিরপুর টেস্টে জিতলো বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে: ৫২.৫ ওভারে ১৬৩/১০, লক্ষ্য ২৬৮ (, আব্বাস ৫*; ইমাম ২; আওয়াইজ ১৫, শান ২, ফজল ৬৬, সালমান ২৬, সৌদ ১৫, রিজওয়ান ১৫, হাসান ১, নোমান ৪, শাহীন ০)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০.৩ ওভারে ২৪০/৯ ডি., লিড ২৬৭ ( এবাদত ৩*; মাহমুদুল ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, মুশফিক ২২, লিটন ১১, শান্ত ৮৭, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩, তাসকিন ১১)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬/১০ (আব্বাস ৬*; ইমাম ৪৫, আজান ১০৩, শান ৯, সৌদ ০, ফজল ৬০, রিজওয়ান ৫৯, সালমান ৫৮, নোমান ২, শাহীন ১৩, হাসান ৬)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১১৭.১ ওভারে ৪১৩/১০ (নাহিদ ৪*; মাহমুদুল ৮, সাদমান ১৩, শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১, লিটন ৩৩, মিরাজ ১০, তাইজুল ১৭, মুশফিক ৭১, এবাদত ০, তাসকিন ২৮)

মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইতিহাস গড়তে হতো পাকিস্তানকে। চতুর্থ ইনিংসে কঠিন সেই চ্যালেঞ্জে সফল হতে পারেনি তারা। নাহিদ রানার গতি ঝড়ে ১৬৩ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস। ১০৪ রানের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ লিড নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির নেই কারও। পাকিস্তানও পারেনি। তবে তৃতীয় সেশনে নাহিদ রানার ঘূর্ণিতেই ম্যাচের দৃশ্যপটে বদলে এসেছে।

তবে তিনটি জুটিতে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। আজান আওয়াইজ-আব্দুল্লাহ ফজলের ৫৪, সালমান আগা ও আব্দুল্লাহ ফজলের ৫১ রানের জুটি ভাঙার পর তৃতীয় সেশনে দলকে ম্যাচে ফেরানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান-সৌদ শাকিল। এই দুজনকে ফিরিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রানা। তার গতিতে লেজ ছেঁটে যেতে বেশি সময়ও লাগেনি। শেষ পর্যন্ত ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। শেষ উইকেটে শাহীনকে ফিরিয়ে আরেকটি পঞ্চম উইকেটও তুলে নেন নাহিদ রানা। টেস্টে এটি তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট শিকারের নজির।

দ্বিতীয় ইনিংসে নাহিদের ৫ উইকেট ছাড়াও দুটি করে নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। একটি নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

নাহিদের চতুর্থ উইকেট

৪৯তম ওভারে এসে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। তার আঘাতে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন নোমান আলী। শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়াতেই মিলেছে সাফল্য।

তাইজুলের শিকার হাসান

রিজওয়ানের আউটের পর লেজ ছেঁটে ফেলতে বেশিক্ষণ সময় নিচ্ছে না বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে পড়েছে পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট। ১ রানে ফিরেছেন হাসান আলী। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন আর ২ উইকেট।

শাকিল-রিজওয়ানকে ফেরালেন রানা

পঞ্চম উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। ৭৩ বলে ৩১ রান যোগ করেন তারা। তাদের প্রতিরোধ স্থায়ী হতে দেননি পেসার নাহিদ রানা। দুজনকেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন তিনি। ৪৪.৩ ওভারে তার গতিতে পুরোপুরি পরাস্ত হন সৌদ শাকিল। ১৫ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। এক ওভার পর রিজওয়ানকে দুর্দান্ত এক সুইং ডেলিভারিতে বোল্ড করে তুলে নেন ইনিংসে নিজের তৃতীয় উইকেট। সপ্তম উইকেটের পতনে জয়ের পথে রয়েছে স্বাগতিকরা।

তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার সালমান, ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের

দ্বিতীয় সেশনে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আলী। তৃতীয় সেশনে ফিরতেই তাদের সাজঘরে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তাইজুল ফজলকে ফেরানোর পরের ওভারে সালমান আলীকে (২৬) দুর্দান্ত স্লিপ ক্যাচে ফেরান তাসকিন। দ্রুত দুই উইকেট তুলে তাদের চেপে ধরেছে স্বাগতিক দল। অবশ্য একই ওভারে তাসকিন রিজওয়ানকেও ফিরিয়েছিলেন। লেগবিফোরের আবেদনে রিজওয়ানকে আউট দিয়েছিলেন অনফিল্ড আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন রিজওয়ান।

ফজলের প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল

শুরু থেকে প্রান্ত আগলে বাংলাদেশকে হতাশ করছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল। ফিফটি তুলে আশার সঞ্চার করছিলেন তিনি। সালমান আগাকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারে তাকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়াতে মিলেছে সাফল্য। ফজল ১১৩ বলে ৬৬ রানে আউট হয়েছেন। তাতে পড়েছে পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেট।

চা বিরতি, শেষ সেশনে ৭ উইকেট প্রয়োজন বাংলাদেশের

মিরপুরে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে জমে উঠেছে খেলা। পাকিস্তান ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে। বাংলাদেশও তাদের চাপে রেখেছে। দ্বিতীয় সেশনে এসেছে ১১০ রান, পড়েছে ২ উইকেট। তবে জয়ের জন্য এখনও পাকিস্তানের দরকার ১৫২ রান। আর বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট। সেই আশায় চা বিরতিতে গেছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১৬ রান। ক্রিজে আছেন আব্দুল্লাহ ফজল (৬৬) ও সালমান আগা (২১)। দুজনে অবিচ্ছিন্ন আছেন ৪৮ রানে।

নাহিদের গতি ঝড়ে এলো তৃতীয় উইকেট

৫৪ রানের জুটি ভাঙার পর নতুন ব্যাটার শান মাসুদকে টিকতে দেননি নাহিদ রানা। তার গতি ঝড়ে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছেন শান। লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ২ রানে ফিরেছেন। বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট।

৫৪ রানের জুটি ভাঙলেন মিরাজ

প্রথম ওভারে উইকেট হারানোর পর লড়াই করার চেষ্টা করছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইজ। ৫৪ রানের জুটি গড়েন তারা। সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী ছিলেন ফজল। সতর্ক ছিলেন আওয়াইজ। কিন্তু ১২.১ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ভেঙেছে এই জুটি। ১৫ রানে বোল্ড হয়েছেন আওয়াইজ। তার ৩৩ বলের ইনিংসে ছিল ১টি চার।

শুরুতে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে শুরুতে উইকেট তুলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৬ রান। প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তুলে নেন ওপেনার ইমাম উল হকের উইকেট।

প্রথম ওভারেই তাসকিনের আঘাত

পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের উইকেট। তাসকিন আহমেদের বলে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন ওপেনার ইমাম উল হক (২)।

বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা, পাকিস্তানের লক্ষ্য ২৬৮ রান

শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৯ বলে পড়েছে ৩ উইকেট। ৭১তম ওভারে হাসান আলীর বলে তাসকিন আহমেদ আউট হতেই নবম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসও ঘোষণা করে তারা। তখন স্কোর ছিল ৯ উইকেটে ২৪০। লিড ছিল ২৬৭ রান। তাই পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬৮ রানের।

এক ওভারে নোমান আলীর শিকার মিরাজ-তাইজুল

শেষ দিকে রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়ায় উইকেট বিলিয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৯.১ ওভারে ক্যাচ তুলে ২৪ রানে থেমেছেন। তার পর তাসকিন আহমেদ ছক্কা মারলেও এক বল পর তাইজুল ইসলাম বোল্ড হয়ে ফিরলে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই তুলে নেন বামহাতি স্পিনার নোমান আলী।

৮৭ রানে থামলেন শান্ত

গতকাল থেকে বাংলাদেশকে দিশা দেখাচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্য ৮৭ রানে থামতে হয়েছে তাকে। তাকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়েছেন নোমান আলী। শান্ত রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। তার ১৫০ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।

শাহীনের শিকার লিটন

মুশফিকুর রহিমের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাসও। ২৮ বল স্থায়ী হয়েছে তার ইনিংস। শাহীন আফ্রিদির বাউন্সারে প্রলুব্ধ হয়ে হুক করতে গিয়েছিলেন। ফলাফল বাউন্ডারি লাইনে তার ক্যাচ নেন হাসান আলী। তাতে ১১ রানে আউট হয়েছেন লিটন।

মেরে খেলার চেষ্টায় আউট মুশফিক

শেষ দিনে দ্রুত রান বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সফল হননি মুশফিকুর রহিম। দিনের খেলা শুরুর পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ইনিংস। ইন্টেন্ট দেখাতে গিয়ে শান মাসুদের কাছে ২২ রানে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার।

শেষ দিনে ব্যাট করতে নেমেছে বাংলাদেশ

ঢাকা টেস্টে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে খেলা শেষ করেছে। আলোর স্বল্পতায় চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৫২ রান। পঞ্চম ও সর্বশেষ দিন বড় স্কোরবোর্ডের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।

২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা। মুমিনুল ৫৬ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। তার পর বাকি পথটা সামাল দেন নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম। শেষ দিন এই দুজন বড় লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে ব্যাট করতে নেমেছে। এখন পঞ্চম দিন বাংলাদেশ পাকিস্তানকে কত রানের লক্ষ্য দেয় সেটাই দেখার।