শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বেনাপোলে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিকের মৃত্যু: বন্দরে শোকসভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বেনাপোলে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিকের মৃত্যু: বন্দরে শোকসভা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য খালাসের সময় ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক শাহজাহান আলীর (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং ৮৯১) কার্যালয়ের সামনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকসভায় বন্দরের প্রায় তিন হাজার সাধারণ শ্রমিক অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সভায় যোগ দেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও। এ সময় নিহত শ্রমিকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত ও বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী। বক্তারা অবিলম্বে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং আহত শ্রমিকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বন্দরের ক্রেনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির ফিটনেস পরীক্ষার দাবিও তোলা হয়।

বন্দর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বেনাপোল বন্দরের একটি শেডে (গোডাউন) পণ্য খালাসের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ ক্রেনের তার ছিঁড়ে ভারী পণ্য নিচে থাকা শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শাহজাহান আলীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন সোহেল হোসেন নামের আরেক শ্রমিক। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা জানান, নিহত শাহজাহান আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আহত সোহেলের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের বিষয়েও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এই দুর্ঘটনার পর বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।