শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতীয় ভিসা: সহজ স্লট, জেলাভিত্তিক সেবা চালু হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
ভারতীয় ভিসা: সহজ স্লট, জেলাভিত্তিক সেবা চালু হোক

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন, পাসপোর্ট আছে, ভিসার আবেদনও প্রস্তুত। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার স্লট নেই। দিনের পর দিন অনলাইনে চেষ্টা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত স্লট পাচ্ছেন না। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে চান। অথচ ভ্রমণের প্রস্তুতির চেয়ে ভিসার স্লট পাওয়ার চেষ্টাই তাঁদের কাছে বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো, ভিসার আবেদন করতে গিয়ে একজন সাধারণ নাগরিককে এতটা ছোটাছুটি করতে হবে কেন?

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, আত্মীয়তার বন্ধন ও পর্যটনের কারণে প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি ভারতে যান। কিন্তু ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার স্লট পেতে অনিশ্চয়তা, অনলাইন ব্যবস্থার জটিলতা এবং অর্থ পরিশোধের নানা সমস্যায় অনেক আবেদনকারীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য এই ভোগান্তি আরও বেশি।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের একজন বাসিন্দার কথাই ধরা যাক। তাঁকে যদি ভারতীয় ভিসার আবেদনসংক্রান্ত কাজে ঢাকায় যেতে হয়, তাহলে যাতায়াতের খরচ, সময় ও শারীরিক কষ্ট—সবই বহন করতে হবে। প্রতাপনগর থেকে সাতক্ষীরা, সেখান থেকে খুলনা কিংবা সরাসরি ঢাকায় যাতায়াতের ধকল সামলানো সবার পক্ষে সহজ নয়। পরিবারের কোনো অসুস্থ সদস্যকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়ে। শুধু একটি আবেদন জমা দেওয়া বা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য এত দূর যাতায়াত কি সত্যিই অপরিহার্য?

ভিসার স্লট পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের বারবার অনলাইনে চেষ্টা করতে হয়। কখন স্লট পাওয়া যাবে, কীভাবে আবেদন জমা দিতে হবে কিংবা অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় কীভাবে জটিলতা এড়ানো যাবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রযুক্তিগত জটিলতায় আবেদন আটকে গেলে কিংবা অর্থ পরিশোধে সমস্যা হলে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

এই পরিস্থিতিতে স্লট পাইয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। কেউ কেউ মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিতে বাধ্য হন বলে জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী বলা যায় না। কিন্তু স্লটের সংকট ও প্রক্রিয়ার জটিলতা যদি মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ তৈরি করে, তাহলে তা বন্ধ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

ভিসার জন্য নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও আবেদনকারীকে যদি স্লট সংগ্রহ, অর্থ পরিশোধ কিংবা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি খরচ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়, তাহলে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

এই সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে জেলা পর্যায়ে ভিসা আবেদনসংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করা। যেসব জেলায় আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, সেখানে প্রয়োজন ও সক্ষমতা যাচাই করে ভিসা আবেদনকেন্দ্র বা অনুমোদিত সেবাকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এসব কেন্দ্রে আবেদনপত্র জমা, কাগজপত্র যাচাই, প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ এবং অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

সাতক্ষীরার মানুষের জন্য সাতক্ষীরাতেই সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে প্রতাপনগর, আশাশুনি, শ্যামনগর, কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ঢাকামুখী ছোটাছুটি অনেকটাই কমতে পারে। একইভাবে খুলনা, যশোরসহ অন্যান্য জেলার আবেদনকারীদের জন্যও স্থানীয় পর্যায়ে সেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অবশ্য ভিসা আবেদনকেন্দ্র চালু করা আর ভিসা অনুমোদন দেওয়া এক বিষয় নয়। ভিসা অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো আবেদন গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ভিসার স্লট পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করা জরুরি। আবেদনকারীরা যেন নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে স্লটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পান, সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। স্লট কখন খোলা হবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন না হলে কী করণীয়—এসব নির্দেশনা সহজ বাংলায় প্রকাশ করা প্রয়োজন।

অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও হতে হবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য। অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল, অনলাইন পেমেন্ট কিংবা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্টের সুযোগ যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে তা আরও ব্যবহারবান্ধব করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থ পরিশোধের পর লেনদেন সফল হয়েছে কি না, তার তাৎক্ষণিক নিশ্চিতকরণ এবং ব্যর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত বা অভিযোগ নিষ্পত্তির স্পষ্ট নিয়ম থাকা দরকার।

একই সঙ্গে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্লটের নামে অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়ার ঝুঁকি কমাতে সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত প্রচার করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, স্লট পাওয়া মানেই ভিসা পাওয়া নয়। তাই স্লট নিশ্চিত করার নামে কেউ ভিসার নিশ্চয়তা দিলে সতর্ক থাকা জরুরি।

ভারতীয় ভিসা শুধু পর্যটনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চিকিৎসা, পারিবারিক সম্পর্ক, ব্যবসা এবং দুই দেশের মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ। ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়া যত সহজ ও স্বচ্ছ হবে, বৈধ ভ্রমণকারীরা তত উপকৃত হবেন। অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চিত স্লট এবং বাড়তি যাতায়াতের ব্যয় মানুষের ভ্রমণ পরিকল্পনাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তাই আবেদনকারীদের ভোগান্তিকে নিছক ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সেবা ব্যবস্থাপনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আবেদনকারীদের চাপ ও চাহিদা পর্যালোচনা করে স্লটের ব্যবস্থা উন্নত করা, জেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করা এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করা।

সবচেয়ে বড় কথা, একজন নাগরিককে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে দিনের পর দিন চেষ্টা করতে হবে কেন? প্রতাপনগরের একজন মানুষকে একটি প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে কেন? প্রযুক্তির যুগে যেখানে ঘরে বসে অনেক কাজ করা সম্ভব, সেখানে আবেদনকারীদের জন্য সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা কি অসম্ভব?

ভিসা দেওয়া সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌম অধিকার। কিন্তু আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, স্লটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া এবং আবেদনকারীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। জেলাভিত্তিক সেবা চালু, সহজ অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং স্লট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিও কমানো যেতে পারে।

ভারতীয় ভিসার স্লট যেন আর সাধারণ মানুষের ছোটাছুটি ও অনিশ্চয়তার নাম না হয়। আবেদনপ্রক্রিয়া হোক সহজ, অর্থ পরিশোধ হোক স্বচ্ছ, আর জেলা পর্যায়েই মিলুক প্রয়োজনীয় সেবা—এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: সচ্চিদানন্দ দে সদয়, সংবাদকর্মী।

Ads small one

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর খুলনা সফর ২৫ অক্টোবর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর খুলনা সফর ২৫ অক্টোবর

পত্রদূত ডেস্ক: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক এক দিনের সফরে আগামী ২৫ অক্টোবর খুলনা আসছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, ওই দিন বেলা দেড়টায় তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৩টায় বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ (সিজন-২) উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়ে খুলনা বিভাগের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ত্যাগ করবেন।

জাতিসংঘ দিবস: বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়নে ঐক্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ দিবস: বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়নে ঐক্য

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। একই দিনে পালিত হয় বিশ্ব উন্নয়ন তথ্য দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের লক্ষ্য, অর্জন ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বনেতাদের একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৪১ সালের ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্রাসাদে গৃহীত ঘোষণা, একই বছরের ১৪ আগস্ট আটলান্টিক সনদ এবং ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘ডিক্লারেশন বাই ইউনাইটেড নেশনস’-এর মাধ্যমে নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ‘ইউনাইটেড নেশনস’ নামটি প্রস্তাব করেন। ১৯৪৩ সালের মস্কো ও তেহরান সম্মেলন এবং ১৯৪৪ সালের ডাম্বার্টন ওকস সম্মেলনে সংস্থাটির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াল্টা সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা নিয়ে সমঝোতা হয়। এরপর ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করেন। পরে পোল্যান্ডের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ প্রয়োজনীয়সংখ্যক রাষ্ট্রের অনুমোদনের পর ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, মানবাধিকার রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের ভূমিকা একই সঙ্গে অপরিহার্য ও সমালোচনাবিদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও লেবাননের সংকট এবং সুদানের গৃহযুদ্ধের মতো সংঘাত মোকাবিলায় সংস্থাটির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের ভেটো ক্ষমতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের দাবি, অর্থসংকট এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর জবাবদিহির অভাবও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। তবে জাতিসংঘ কোনো বিশ্বসরকার নয়; সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ও সদিচ্ছার ওপরই এর কার্যকারিতা নির্ভরশীল।

রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে জাতিসংঘের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খাদ্যসহায়তা দেয়, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে এবং ইউনিসেফ শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারি প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে, ইউনেস্কো শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এবং ইউএন উইমেন নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। পাশাপাশি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে এবং জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনগুলো বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জাতিসংঘের আরেকটি প্রধান উদ্যোগ হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, সুস্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈষম্য হ্রাস এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশন, নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা চালানো হয়। যুদ্ধ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় পৌঁছে দেওয়াও জাতিসংঘের অন্যতম মানবিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সম্পর্কও অত্যন্ত নিবিড়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা এবং স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ভূমিকা রাখে। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগ দেয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ অর্জনে বাংলাদেশের উদ্যোগ বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তিও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ ১৯৭৯–১৯৮০ এবং ২০০০–২০০১ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তাঁর পূর্বসূরি ছিলেন জার্মানির আনালেনা বেয়ারবক। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর পর তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, লেবানন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের দুই লক্ষাধিক শান্তিরক্ষী বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের মিশনে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো, জলবায়ু কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসন ও নিরাপদ অভিবাসনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে জাতিসংঘের প্রায় ২৪টি যৌথ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

জাতিসংঘ দিবস কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি মানবতা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক সংহতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। যুদ্ধ বন্ধ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সংস্কার ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতার পথ সুদৃঢ় করতে পারলেই জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা—জাতিসংঘ হোক সবার জন্য শান্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের কার্যকর মঞ্চ।

কলারোয়া সীমান্তে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস-এর ৬ আরবি থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে।

অন্যদিকে, মাদরা বিওপির আভিযানিক দল একই সীমান্ত পিলারের ৮ আরবি থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তেতুলতলা এলাকা থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। দুই অভিযানে জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বিজিবি জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চোরাচালান প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে বিজিবির এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অভিযানে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।