রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

মতামত: অবৈধ পাইপে ভাঙছে ইছামতির বাঁধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
মতামত: অবৈধ পাইপে ভাঙছে ইছামতির বাঁধ

তরিকুল ইসলাম

সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তঘেঁষা ইছামতি নদী শুধু একটি নদী নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং পরিবেশের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ কেটে কিংবা ফুটো করে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি ওঠানামার ব্যবস্থা করছে। সাময়িক আর্থিক লাভের আশায় তারা যে ক্ষতি করছে, তার মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে পুরো জনপদকে।

কালিগঞ্জ উপজেলার শুইলপুর থেকে দেবহাটা উপজেলার ভাতশালাসহ ইছামতি নদীর বিভিন্ন অংশে বর্তমানে এমন অসংখ্য অবৈধ পাইপের অস্তিত্ব দেখা যায়। কোথাও বাঁধ কেটে, কোথাও আবার বাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি মাছের ঘেরে বা চিংড়ি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে থেকে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভয়াবহ পরিবেশগত ও প্রকৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

একটি বেড়িবাঁধ কেবল মাটির স্তূপ নয়; এটি একটি বৈজ্ঞানিক নকশায় নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যে বাঁধ নির্মাণ করে, তার প্রতিটি স্তর নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত মান অনুসরণ করে তৈরি করা হয়। সেই বাঁধের কোনো অংশ কেটে বা ফুটো করে পাইপ বসানো মানে পুরো কাঠামোকেই দুর্বল করে দেওয়া। বর্ষাকাল কিংবা পূর্ণ জোয়ারের সময় পানির তীব্র চাপ সবচেয়ে আগে আঘাত হানে এই দুর্বল অংশগুলোতে। ফলাফল-একসময় হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙে যায়, আর মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

প্রতিবছর সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে, দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায়, মানববন্ধন করে, সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই আত্মসমালোচনা হয়-এই বাঁধ দুর্বল হওয়ার পেছনে স্থানীয়ভাবেই কতটা অবহেলা বা অবৈধ কর্মকান্ড দায়ী ছিল।

বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই যেসব বাঁধ পরে ভেঙে যায়, সেগুলোর গায়ে আগেই অসংখ্য অবৈধ পাইপ বসানো হয়েছিল। ব্যক্তিগত ঘেরে পানি ওঠানোর সুবিধার জন্য বাঁধের স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়। পরে যখন দুর্যোগ আসে, তখন ক্ষতির বোঝা বহন করে পুরো সমাজ এবং রাষ্ট্র।

এর আরেকটি ভয়াবহ প্রভাব পড়ে কৃষিতে। লবণাক্ত নদীর পানি যখন বাঁধ ভেঙে ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে, তখন শুধু একটি মৌসুম নয়, বহু বছর ধরে সেই জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ধান, পাট, শাকসবজি কিংবা অন্যান্য ফসল চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষক হারান তাঁর পুঁজি, শ্রম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

শুধু কৃষিই নয়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। অপরিকল্পিতভাবে পাইপ বসানোর ফলে জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়। এতে নদীর তীর ক্ষয়, পলি জমার ধরন এবং জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ নদী ধীরে ধীরে পরিবেশগত ভারসাম্য হারাতে শুরু করে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব কর্মকান্ড কোনোভাবেই বৈধ নয়। সরকারি বেড়িবাঁধ কাটা, ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা অনুমতি ছাড়া নদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য বাঁধে পাইপ বসানো বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ। তারপরও প্রকাশ্যে দিনের পর দিন এই কাজ চললেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি বা আইন প্রয়োগ চোখে পড়ে না। কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়া, কোথাও প্রশাসনিক উদাসীনতা-সব মিলিয়ে অবৈধ কর্মকান্ড যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বোপরি স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কোথাও নতুন করে বাঁধ কেটে পাইপ বসানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে অবৈধ পাইপ অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মাছ বা চিংড়ির ঘেরে পানি নেওয়ার প্রয়োজন থাকতেই পারে। কিন্তু তার জন্য নদীর বাঁধ ধ্বংস করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রকৌশলগতভাবে অনুমোদিত স্লুইসগেট, নিয়ন্ত্রিত খাল অথবা পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। নদী রক্ষা করেও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালানো যায়-প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা।

স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজ একজন ব্যক্তি নিজের সুবিধার জন্য বাঁধ কাটছেন, কিন্তু আগামীকাল সেই বাঁধ ভেঙে তাঁর নিজের ঘরবাড়ি, জমি কিংবা ব্যবসাও পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। তাই এটি শুধু প্রশাসনের বিষয় নয়; এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রশ্ন।

ইছামতি নদী আমাদের ঐতিহ্য, সীমান্তের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নদী ও এর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষা করা মানে হাজারো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে জনস্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।

আজ যদি আমরা অবৈধভাবে বাঁধ কাটাকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ ভেবে এড়িয়ে যাই, তাহলে আগামী দিনের ভয়াবহ বন্যা, নদীভাঙন ও কৃষি বিপর্যয়ের দায় আমাদের সবাইকেই বহন করতে হবে। তাই এখনই সময়-অবৈধ পাইপ অপসারণ, বাঁধ কাটা বন্ধ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের। কারণ, বেড়িবাঁধ ভাঙে একদিনে; কিন্তু তার ক্ষত শুকাতে লেগে যায় বহু বছর।

লেখক: তরিকুল ইসলাম, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী, মোবাইল: ০১৭১৫২৬১৮২৭
ইমেইল: tarikulbdnews@gmail.com

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।