এমএসএফ’র এপ্রিলের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতিবেদন: বেড়েছে মব-অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত উপাত্তের ভিত্তিতে এপ্রিল ২০২৬ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত উপাত্তের ভিত্তিতে এপ্রিল ২০২৬ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি মিশ্র কিন্তু উদ্বেগজনক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যুর ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে—বিশেষত জমি সংক্রান্ত বিরোধে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একাধিক নারীকে নির্যাতনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক সহিংসতার সামগ্রিক মাত্রা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রতিপক্ষীয় হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। পাশাপাশি দুস্কৃতিকারীদের তৎপরতার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এ মাসে গুরুতর চাপে পড়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, সত্য প্রকাশের পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে রানী ইয়েন ইয়েনকে তাঁর কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে একজন জেলা প্রসাশকের পত্র প্রেরণ সরকার কর্তৃক নাগরিকদের একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও খর্ব ও নিয়ন্ত্রণ করার একটি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার—এবং অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহার—অব্যাহত রয়েছে। যদিও আইনটিতে কিছু সংস্কারের কথা বলা হয়, বাস্তবে এর প্রয়োগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা রয়ে গেছে, যার ফলে মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও কিছু উপখাতে সামান্য হ্রাস দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে এই গোষ্ঠীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থিতিশীল।
এছাড়া অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিস্তার—আইনের শাসনের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সীমান্ত এলাকায় হতাহতের ঘটনা, অপহরণ ও নির্যাতন, এবং পার্বত্য অঞ্চলে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতার অভাবে নাগরিক জীবনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সহনশীলতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি—এই মর্মে এমএসএফ জোর দাবি জানাচ্ছে।
নীচের সারণীতে বিগত দুই মাসের মানবাধিকার লংঘনের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হল:

উপরের সারণির ভিত্তিতে মার্চ ও এপ্রিল ২০২৬ মাসে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিশ্লেষণধর্মী চিত্র নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
সামগ্রিক প্রবণতা
মার্চ থেকে এপ্রিল ২০২৬-এ মানবাধিকার পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির আভাস থাকলেও, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অবনতি বা নতুন ঝুঁকি স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা কিছুটা কমলেও নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, এবং ডিজিটাল আইনের নিবর্তনমূলক ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক ও সহিংসতা সম্পর্কিত পরিস্থিতি
রাজনৈতিক সহিংসতা:
মার্চে আহত (৩৯০) ও নিহত (১৪) তুলনায় এপ্রিল মাসে তা কমে যথাক্রমে ৩০৩ ও ৩ হয়েছে। এটি সহিংসতা কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
তবে দুস্কৃতিকারীদের হামলায় নিহত (৩→৫) এবং আহত (১৪→২৯) বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধপ্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলা যায়।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা:
মার্চে বিদ্যমান থাকলেও এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনা অনুপস্থিত, যা পরিস্থিতির আংশিক স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।
গণপিটুনি/মব:
নিহত (১৯→২১) এবং আহত (৩১→৪৯) উভয়ই বেড়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা ও বিচারবহির্ভূত প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও হেফাজত সংশ্লিষ্ট ঘটনা
হেফাজতে মৃত্যু:
মার্চে ২ থেকে এপ্রিল মাসে ১-এ নেমে এসেছে—একটি ইতিবাচক দিক।
কারা হেফাজতে মৃত্যু:
১১ থেকে ৬-এ কমেছে, তবে এখনও উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে।
নির্যাতনজনিত আহত:
মার্চে না থাকলেও এপ্রিল মাসে ৫টি ঘটনা ঘটেছে, যা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা
নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও হয়রানি: ৩০ → ৪৬ (উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি)
আইনি হয়রানি: ৭ → ৮
গ্রেফতার: ০ → ১
এই প্রবণতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইন
মামলা: ৩ → ৪
গ্রেফতার: ২ → ৩
আসামির সংখ্যা: ৯ → ২৪
আইনের ব্যবহার বা অপব্যবহার উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সীমান্ত পরিস্থিতি
এপ্রিল মাসে নতুন করে নিহত (৩) ঘটনা দেখা গেছে।
ভারতীয় সীমান্তে ধরে নিয়ে যাওয়া (১) এবং আরাকান আর্মি সংশ্লিষ্ট অপহরণ (২০ → ০)—এখানে ধরণগত পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়।
গুলিবিদ্ধ (৩→২) সামান্য কমেছে।
সীমান্তে অনিরাপত্তা এখনও বিদ্যমান।
সংখ্যালঘু নির্যাতন
প্রতিমা ভাঙচুর/চুরি অপরিবর্তিত (১০)
ঘরবাড়ি ভাঙচুর/অগ্নিসংযোগ: ১০ → ২ (উন্নতি)
অন্যান্য নির্যাতন স্থিতিশীল
কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।
নারী ও শিশু সহিংসতা
এই খাতে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে:
ধর্ষণ: ৪৮ → ৫৪
হত্যা: ৭৩ → ৮৯
শারীরিক নির্যাতন: ৩৭ → ৬৪
অপহরণ/নিখোঁজ: ১৩ → ১৪
অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে হ্রাস:
আত্মহত্যা: ৪৪ → ২৬
যৌন নিপীড়ন: ২২ → ১৭
➡️ সার্বিকভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক
অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার: ৫৩ → ৫৬ (বৃদ্ধি)
➡️ এটি অপরাধ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
উপসংহার
মার্চ থেকে এপ্রিল ২০২৬-এ মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি মিশ্র প্রবণতা প্রদর্শন করে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও কিছু হেফাজত-সংক্রান্ত ঘটনায় উন্নতি দেখা গেলেও,
নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, গণপিটুনি এবং ডিজিটাল আইনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
➡️ সামগ্রিকভাবে, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা, এবং জবাবদিহিতা জোরদার করা জরুরি, বিশেষ করে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু
১২ এপ্রিল মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদক উদ্ধার অভিযানের সময় আকুব্বর (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, অভিযান চলাকালে মাথায় লাঠির আঘাতে তার মৃত্যু হয়। ১২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে মাগুরার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল মাদক উদ্ধারে জেলার মহম্মদপুর উপজেলার আকুব্বর নামে যুবকের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ডিবির লোক পরিচয় প্রদানকারীদের একজন আকুব্বরের মাথায় লাঠির আঘাত করলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন।
নিহতের স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুন দাবি করেন, ”১০-১২ জন লোক হঠাৎ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তল্লাশি শুরু করে। তারা ঘরে কিছু না পেয়ে একপর্যায়ে আকুব্বরকে আটক করে প্লাস্টিকের পাইপ, লাঠি দিয়ে বেধড়ক আঘাত করে ঘটনাস্থলে মেরে ফেলে দিয়ে যায়। আমি এই হত্যার বিচার চাই।”
এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযানে অংশ নেওয়া উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহারা ইয়াসমিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান; নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তিনি আরও বলেন, তাকে মারধরের কোন ঘটনা ঘটে নাই।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারে সময় ধস্তাধস্তি এবং কিল-ঘুষি দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি মারা গেছেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন
এ মাসে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী নির্যাতনে দুটো ঘটনায় ৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে যা অনাকাঙ্খিত ও অগ্রহণযোগ্য। এমএসএফ মনে করে এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক।
বিরোধপূর্ণ জমি মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে বাদীর নিকট কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের এসআই ফারুক ১ লাখ টাকা দাবি করেন। রফিক টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে এসআই ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন।
৭ এপ্রিল সকালে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের ছোট ভাইয়ের বউ ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাতকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এছাড়াও রফিকের স্ত্রী পিংকি আক্তার ও ছোট বোন শারমিন আকতারকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রফিক জানান, ঘটনার পর তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে এসআই ফারুক ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তার টাকা চুরির সাথে পিরোজপুর সদরের খানাখুনিয়ারী শহরতলির ঝাটকাঠি এলাকায় অবস্থিত পুলিশ কর্মকতাদের মেসের চারতলা ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুস ফকির (৪০)কে জড়িত সন্দেহে পিরোজপুরে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। অন্য কর্মীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের পরও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
১৩ এপ্রিল জেলা ডিবির ওসি আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁর (আরিফুল) কক্ষ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এ জন্য ভবনের তত্ত্বাবধায়ক ইউনুসকে দায়ী করেন। টাকা চুরির কথা অস্বীকার করায় তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ওসি আরিফুল ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান। সেখানে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
পরবর্তী সময় ডিবির আরও সাত-আট সদস্য এসে ইউনুসকে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর দুই পায়ের পাতায় উপর্যুপরি পেটানো হয়। তীব্র যন্ত্রণায় ইউনুস চিৎকার করলে তাঁর মুখে লাঠি ঠেসে দেন ডিবির সদস্যরা। এক পর্যায়ের ডিবির কনস্টেবল কাওসারের নেতৃত্বে তিন-চারজন ইউনুসকে টেনেহিঁচড়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর পুরুষাঙ্গে আগুনে মোমবাতি গলিয়ে তপ্ত মোম ফেলা হয়। পাশবিক এই নির্যাতনে তার পুরুষাঙ্গ ঝলসে যায়।
রাজনৈতিক সহিংসতা
গত মাসের তুলনায় এ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, নিহত ও আহতদের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেলেও, আধিপত্য বিস্তার এবং দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি’ র দলীয় কর্মীদের অর্ন্তদন্দ্ব এবং ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে লক্ষ্যণীয়ভাবে দ্বন্দ্ব বেড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মোট ৪৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন মোট ৩০৬ জন ব্যক্তি। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জন নিহত এবং ৩০৩ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে দুইজন বিএনপির কর্মী এবং একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। উল্লেখ্য, নিহত তিনজনই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষের সময় প্রাণ হারান। অন্যদিকে, আহতদের মধ্যে অন্তত ৩ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এপ্রিল মাসে সংঘটিত ৪৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘটনাই দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।
সহিংসতার ৪৮ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ২৮টি, বিএনপি- আওয়ামী লীগ ৮টি, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ২টি, বিএনপি-এনসিপি-জামাতের ১টি, বিএনপি-গণঅধিকার সংঘর্ষের ১টি, বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষের ১টি, জামাতের অন্তর্দ্বন্দ্বে ১টি, এনসিপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১টি, বিএনপি-খেলাফতের ১টি, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ১ টি ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ৪৮ টি ঘটনার মধ্যে ৩ টি ঘটনায় ভাংচুর হলেও কেউ হতাহত হয়নি।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, সহিংসতার পরিমাণ কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে এখনও অস্থিতিশীল করে রাখছে।
রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত
২৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে।
২৫ এপ্রিল খুলনার তেরখাদা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথমেনুর আলম (৫৬) নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. হিজমুল্লাহ সোহেল রানার (৪০) মৃত্যু হয়।
রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের উপর দুস্কৃতিকারীদের হামলায় নিহত ও অপমৃত্যু
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল ২০২৬ মাসে দুষ্কৃতিকারি কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপর হামলার ২২ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ২৯ জন। এছাড়াও ২ জনের অপমৃত্যু ও ৩ জন ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত হয়েছেন। দুষ্কৃতিকারি কর্তৃক নিহত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন বিএনপির এবং ১ জন জামায়াতে ইসলামের সমর্থক। আর অপমৃত্যু ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন লীগের এবং ২ জন বিএনপির নেতা-কর্মী।
দুর্বৃত্ত কর্তৃক নিহত
২ এপ্রিল পাবনার ঈশ্বরদীতে ইমরান হোসেন (২৭) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে কথিত দুর্বৃত্তরা।
১১ এপ্রিল খুলনায় কথিত দুর্বৃত্তরা জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের আহ্বায়ক সোনা মিয়াকে (৩৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির কাউসারুজ্জামানকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করেছে একদল কথিত সন্ত্রাসী ।
২৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি কর্মী নাছির উদ্দীনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে কথিত দৃর্বৃত্তরা ।
২৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মুখোশধারী একদল কথিত দুর্বৃত্তের হামলায় আহত জামায়াত কর্মী মুহাম্মদ শাহাদাত (৩৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ এপ্রিল মারা গেছেন।
অস্বাভাবিক ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত
৩ এপ্রিল বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা আলাল শেখ মারা যান। তিনি ২৮ মার্চ হামলার শিকার হয়েছিলেন।
৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারার হেয়াঁকো বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে রাশেদুল আনোয়ার টিপু (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতা মো. শামীম (৪০) কে পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়।
৯ এপ্রিল রংপুর মহানগরীতে রাকিব হাসান (১৭) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কথিত মাদককারবারি।
২৩ এপ্রিল বরিশালের মুলাদীতে পারভেজ হাওলাদার (৩৫) নামের এক যুবলীগ কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর গ্রেফতার
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৩১ জন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে কোটা সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার হয়েছেন ১ জন ব্যক্তি। এছাড়াও চলতি মাসে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৫৩৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন
কারা হেফাজতে মৃত্যু
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৬ মাসে কারা হেফাজতে মোট ৬ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল মোট ১১ জন। এ মাসে ৩ জন কয়েদি ও ৩ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে। ৩ জন মৃত হাজতি বন্দির মধ্যে জিয়াউল হক জিয়া নামের ১ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা বলে জানা যায়।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ জন হাজতি ও ১ জন কয়েদি, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ জন কয়েদি ও জামালপুর জেলা কারাগারে ১ জন হাজতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য সকল বন্দির মৃত্যু হয় কারাগারের বাহিরের হাসপাতালে।
এ ছাড়া এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী মানশ দাস সংশ্লিষ্ট কারা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এই নোটিশ প্রদান করেন।
মোহাম্মদ শফি নামের এক বন্দিকে আদালতের জামিন আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে বিভিন্ন মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়ে প্রায় ২৫ ঘন্টা অবৈধভাবে আটক রাখে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জামিন বন্ড জমা দেওয়ার পরও তাকে নির্ধারিত সময়ে মুক্ত না করে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়। যা বিচারিক আদেশের লংঘন ।
সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের লংঘন
এপ্রিল, ২০২৬ মাসে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেভাবে শারীরিক মানসিক এবং আইনি হয়রানি, আক্রমণ, হুমকি ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে তা শুধুমাত্র অনাকাঙ্খিতই নয় বরং সৎ সাংবাদিকতার কন্ঠরোধ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ারই নামান্তর। এ মাসেও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘনের চিত্র ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ২৭ টি ঘটনায় ৪৬ জন সাংবাদিক দেশের বিভিন্ন জেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নানাভাবে হামলা, আইনি হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আক্রান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ১৪ জন সাংবাদিক তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আহত এবং হামলার শিকার হয়েছেন। লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার হয়েছেন ২৪ জন, আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮ জন সাংবাদিক।
আইনি হয়রানির ক্ষেত্রে ১ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে ১৮ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২ জনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। এ তিনজনই কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি। পাশাপাশি ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে।
আর লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে ৬ জন সাংবাদিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১০ জন সাংবাদিক শাহবাগ থানার মধ্যে হেনস্তার শিকার হোন। অভিযোগ অনুযায়ী প্রথম ঘটনায় সরাসরি সরকারি দলের সংস্লিষ্ট্তা এবং ২য় ঘটনায় মব সৃষ্টি করে সরকারি দল সাংবাদিকদের হেনস্তা করেছে বলা জানা যায়।
এ মাসের ২৭ টি সাংবাদিক নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনার ৫ টিতে বিএনপি, ৬ টিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, ৪ টিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৩টিতে দুস্কৃতিকারি ও ২টি করে ঘটনায় তৈল পাম্পের মালিক, ও ভূমি দস্যু জড়িত ছিল। পাশাপাশি ১টি ঘটনায় মব, পুলিশ, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, মাদক ব্যবসায়ী ও সেনাবহিনীর সংস্লিষ্টতা ছিল বলে জানা যায়।
সাংবাদিক নির্যাতনের মোট ২৭টি ঘটনার ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ৪টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা, সাতক্ষীরা ও গাজীপুরে ২টি করে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, শেরপুর, মুন্সিগঞ্জ, পিরোজপুর, রাজশাহী, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, বরিশাল, শ্রীমঙ্গল, সিলেট, শরীয়তপুর ও খুলনায় ১টি করে ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ঘটনাগুলোর মধ্যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজে ১টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এর ব্যবহার/অপব্যবহার
চলতি মাসে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা আইন আগের তুলনায় উন্নত হলেও, আইনের কিছু ধারা অস্পষ্ট হওয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কিছু বাধা রয়েই গেছে। ফলে এ আইনে দায়ের করা মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রেফতারের সংখ্যাও বাড়ছে। যা উদ্বেগজনক। গত মাসে মামলার সংখ্যা ছিল ৩, এ মাসে বেড়ে ৪ টি হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সাইবার সুরক্ষা আইনে ৪ টি মামলা হয়েছে। ৪টি মামলায় নামধারী অভিযুক্ত ৮ জন ও অজ্ঞাত ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ টি ফেসবুক পেজের পরিচালকদেরও আসামী করা হয়েছে। নামধারী ৮ জন আসামির মধ্যে ২ জন শিক্ষার্থী ও ১ জন যুবকসহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবগুলো মামলা করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা, চিফ হুইপ, সাংবাদিক,পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে।
গত মাসে ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করার অভিযোগে করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলার বাদীর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়। প্রথমে তিনি মামলার বিষযে কিছু জানেন না বললেও পরবর্তীতে তিনি জানান তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেছেন এবং পুলিশ তাকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি আজিজুল হক জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা যায়।
সীমান্তে হত্যা ও পরিস্থিতি
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৬ মাসে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এর গুলিতে ১ জন নিহত এবং ১ জন আহত হন। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় খাসিয়াদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ বাংলাদেশি নিহত, ১ জন আহত এবং নিখোঁজ হন ১ জন। সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে অজ্ঞাতনামা ভারতীয়দের হামলায় বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হন।
এছাড়াও ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে ১ আফগান নাগরিক এবং ১ বাংলাদেশীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ২ পা উড়ে যায়। পাশাপাশি, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নাফ নদী থেকে এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হয় যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকেরা উৎকন্ঠা ও আতংকের জীবনযাপন করছেন।
৭ এপ্রিল, ২০২৬ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। ঘটনার দিন ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে ধবলগুড়ি সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ৮৭৪ নম্বর পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
১ এপ্রিল, ২০২৬ বুধবার ৪ (চারজন) মিলে সীমান্তের ওপারে গেলে ভারতীয় খাসিয়ারা তাদের ধাওয়া করে। ওই সময় তাদের একজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন ফিরে আসেন । কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পরেও খোঁজ মেলেনি সাদ্দাম হোসেনের (৩২)। গুলিবিদ্ধ সহযোগী আবু বক্কর (৩০) খোঁজ না পাওয়া সাদ্দামের পরিবারকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় খাসিয়াদের গুলিতে সাদ্দাম মারা গেছেন।
৬ এপ্রিল,২০২৬ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২৪) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক গুরুতর আহত হন। ১৬ এপ্রিল ২০২৬, নাইদহের মহেশপুর উপজেলা সীমান্ত এলাকা থেকে ‘গুলিবিদ্ধ’ রতিকান্ত জয়ধর (৪৬) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয় সুত্রমতে, ইছামতি নদীর বাংলাদেশ অংশে প্রায় ১০ গজ ভেতরে কচুরিপানার নিচে লাশটি পাওয়া যায়।
১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনার ১১ দিন পরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লাশটি আফগানিস্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদির বলে তার পরিবার জানালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান।
গত ২২ মার্চ, ২০২৬ বিএসএফের হাতে আটককৃত বাংলাদেশি দিনমজুর আজিজুর রহমানের (৪৫)ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতা ও অর্থের অভাবে এখনো লাশ ফিরে পায়নি পরিবার। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে আটকের পর আজিজুলের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় বিএসএফ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ ১১ মাস ভারতের কারাগার ও হাসপাতালে কাটানোর পর তাঁর মৃত্যু হয়।
৯ এপ্রিল, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারতের অভ্যন্তরে এই ঘটনাটি ঘটে।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয়দের হামলার শিকার হন। ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আনুমানিক রাত ৯টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার বুটিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
২২ এপ্রিল,২০২৬ টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে সা মুং চিং চাকমা (৩৫) নামের এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এর আগে একইভাবে নিখোঁজ হওয়া আরও দুই চাকমা যুবকেরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি।
১০ এবং ১৫ এপ্রিল,২০২৬ কক্সবাজারের উখিয়ার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামের এক বাংলাদেশি এবং মো. ইউনুছ (২৫) নামক এক রোহিঙ্গা যুবকের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এমএসএফ মনে করে, সীমান্তে পরিস্থিতির বিষয়ে প্রতিবাদ করা সত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আশাব্যাঞ্জক প্রতিকার হচ্ছে না।
সংখ্যালঘু নির্যাতন
গণমাধ্যম ও এমএসএফ’র সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৬ মাসে বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ৬টি এবং আদিবাসী নির্যাতনের ২টিসহ মোট ৮টি ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ৬ টি ঘটনার মধ্যে ২ টি ঘটনা জমি দখল, ১ টি ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি, ২ টি মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর এবং ১ টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরে চুরির ঘটনাটি চট্রগ্রামে আর প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনাগুলো ঘটেছে টাঙ্গাইল ও হবিগন্জে। এ সকল ঘটনায় কমপক্ষে ১০ টি প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে।
আদিবাসী নির্যাতনের ২ টি ঘটনা ভূমি সংক্রান্ত। একটি ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধায় সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের ভূমি উদ্ধার নিয়ে আয়েজিত মিছিলে হামলা এবং অন্য ঘটনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস জমি নিয়ে স্থানীয় আদিবাসীদের উপর হামলা করেন রেজাউল ইসলাম ও তার দল। এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১ জন আদিবাসী।
এছাড়াও, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় শ্মশান কালী মন্দিরের সামনে থেকে প্রভাত চন্দ্র রায় (৫৫) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বাসায় ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের শিকার এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার পাহাড়ি এলাকা থেকে সেবায়েত নয়ন দাশের (৩৫) ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
অজ্ঞাতনামা লাশ
এপ্রিল, ২০২৬ মাসে একই ধারাবাহিকতায় অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় উদ্ধারে অপারগতার কারণে আইন শৃঙ্খলারক্ষারী বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৬ সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১ জন শিশু, ২জন কিশোর, ১২ জন নারী ও ৪১ জন পুরুষ, মোট ৫৬ টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে যা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ। অল্প সংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কয়টি লাশের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। দাফনে জন্য দেওয়া হচ্ছে আঞ্জুমান মহিদুল ইসলামকে।
গত মাসে এর সংখ্যা ছিল ৫৩ জন। এসব অজ্ঞাতনামা লাশের বেশীর ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেল লাইনের পাশে, ফসলী জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়। অল্প সংখ্যক মৃতদেহ গলা কাটা, বস্তাবন্দী, হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে, শিশু ১ জন, ২ জন কিশোর, ২০-৩০ বয়সী ৯জন পুরুষ ও ২ জন নারী, ৩১-৪০ বয়সী ১৯ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী, ৪১-৫০ বয়সী ৪ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ, ৫০ বয়সের উর্দ্ধে ২ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জনের বয়স শনাক্ত করা যায় নি।
এমএসএফ মনে করে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের পর এদের পরিচয় জানার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী। পরিচয় উদ্ধার করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা যত ক্ষমতাবানই হোক, এ সব অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
গণপিটুনি/মব সন্ত্রাস
গণমাধ্যমসূত্রে পাওয়া এমএসএফ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৬ মাসে একই ধারাবাহিকতায় গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি সময়ে গণপিটুনির ঘটনা কমে না আসায় জনমনে নিরাপত্তা বোধের বিষয়টি প্রশ্নাতীতভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়াও ধর্ষণ এবং ধর্ষণ চেষ্টার হার বেড়ে যাওয়ায় ধর্ষণে অভিযুক্তদের ধরে গণপিটুনি দেয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে লক্ষণীয়ভাবে এর প্রভাব থাকায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মাসে অন্তত ৪৯ টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২১ জন নিহত ও ৪৯ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ৩০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে ৩ জন হত্যার অভিযোগে, ৭ জন চুরির অভিযোগে, ৭ জন বাকবিতণ্ডার জেরে, ২ জন ডাকাতির অভিযোগে, ১ জন কটূক্তির অভিযোগে, ১ জনকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগে হত্যা করা হয়।
অপরদিকে ১৭ জন চুরির অভিযোগে, ১ জন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ১ জনকে খুনের অভিযোগে, ২ জনকে বাকবিতণ্ডার জেরে, ২ জনকে মাদকব্যবসা, ৭ জনকে জমি সংক্রান্ত কারণে , ৯ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা বা নিপীড়নের অভিযোগে, ১ জনকে রাজনৈতিক কারণে, ২ জনকে পরকিয়ার জেরে, এছাড়া লেনদেনের জেরে, প্রতারণা, এ ধরনের অপরাধজনিত কারণে ৮ জনকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
এমএসএফ মনে করে, আইন অবজ্ঞা করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারী অপরাধ যা বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, ২০২৬ মাসে ৩১২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যা গত মাসের তুলনায় ২৩টি বেশী। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৫৪টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৪টি, ধর্ষণ ও হত্যা ১টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী।
উল্লেখ্য যে, ধর্ষণের শিকার ৫৪ জনের মধ্যে ১৮ জন শিশু ও ১৪ জন কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ জন শিশু, ৪ জন কিশোরী ও ৯ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কিশোর ও ১ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৩টি, যৌন হয়রানি ১৭টি, শারীরিক নির্যাতনের ৬৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন নারী।
এ মাসে ৫ জন কিশোরী ও ২১ জন নারী মোট ২৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু ও ২ জন কিশোরী অপরদিকে ১ জন কিশোরী ও ৯ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও এপ্রিল মাসে ২ জন কিশোরী ও ৫ জন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৮৯ শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। যা গত মাসের তুলনায় ১৬টি বেশী। এদের মধ্যে ১১ জন শিশু ও ১২ জন কিশোরী রয়েছে।
গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য, প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত, হতাশা ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। এ মাসে ১টি শিশু ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ও ১টি নারী ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা সমাজপতিরা আপোষ করেছেন যা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বেআইনিভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত। এ সময়ে ৪ জন জীবিত ও ২ জন মৃত মোট ৬ জন নবজাতক শিশুকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে যা অমানবিক ও নিন্দনীয়।






