নিজস্ব প্রতিনিধি: আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর সোঁদা মাটির ঘ্রাণ উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারবিলে চারপাশ তখন লোকারণ্য। মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের চোখ গিয়ে ঠেকেছে দূর সীমানায়। আচমকাই নিস্তব্ধতা ভেঙে বাতাসে ভেসে এল খুরের আওয়াজ। ধুলো উড়িয়ে একের পর এক ঘোড়া ছুটে চলল লক্ষ্যের পানে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া এক টুকরো ঐতিহ্যকে সাক্ষী রেখে এভাবেই মুখরিত হয়ে উঠেছিল ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারবিল। যান্ত্রিকতার যুগে গ্রামীণ এই লোকজ সংস্কৃতি যেন এক পশলা আনন্দের হাওয়া বয়ে এনেছে বিলপাড়ের জীবনে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা উপস্থিত আবালবৃদ্ধবনিতাকে দেয় অনাবিল আনন্দ।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় বড় খামার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন চেলারবিলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন দেখতে দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় ধুলিহর, জাহানাবাজ, কোমরপুর, ফয়জুল্যাপুর, বড়খামার, উমরাপাড়া, মেল্লেকপাড়া, বালিথা, দহাকুলা, চেলারডাঙা, কালেরডাঙা, বাঁধনডাঙা, ননিগোলা, বালুইগাছা, এলাল্লারচর, ব্রহ্মরাজপুরসহ অন্তত ২০টি গ্রামের হাজারো উৎসুক দর্শকের ঢল নামে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রহ্মরাজপুর ইউপির সাবেক সফল চেয়ারম্যান স. ম. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুখ খান মিঠু এবং জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৩নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা। সাবেক ইউপি সদস্য খুরশিদ আলমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করেন এবং খেলার ধারাভাষ্য প্রদান করেন আব্দুল্লাহ সানা।
রোমাঞ্চকর এই প্রতিযোগিতায় খুলনা জেলার কয়রা থেকে আসা ‘ভোরের পাখি’ প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের ‘কানাই’ দ্বিতীয়, নড়াইলের ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ তৃতীয়, সাতক্ষীরার তালার ‘বেলী’ (তাহসিন রানি) চতুর্থ এবং খুলনার শিরমনির ‘পাখি’ পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে এলইডি টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিজয়ীদেরও বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়। উৎসবমুখর পরিবেশের এই আয়োজনটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।