সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বিদ্যুৎ সাশ্রয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বিদ্যুৎ সাশ্রয়

বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যে তথ্যচিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল চোখ খুলে দেওয়ার মতো নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনের জন্য এক বড় বার্তা। সভায় জানানো হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলাতেই বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক যদি স্রেফ সচেতন হয়ে প্রতিদিন মাত্র ১ ইউনিট করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারেন, তবে জেলাজুড়েই বছরে প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সচেতনতা যে কত বড় অর্থনৈতিক ও জাতীয় সম্পদে রূপ নিতে পারে, এই হিসাব তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তথ্যমতে, সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রায় ১৩ টাকা ০৯ পয়সায় ক্রয় করে তা আবাসিক গ্রাহকদের কাছে মাত্র ৪ টাকার কাছাকাছি দরে সরবরাহ করছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটানো হয় জনগণের করের টাকায়। সুতরাং, ভর্তুকি মূল্যের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব। বিদ্যুৎ কেবল একটি সেবা নয়, এটি দেশের অগ্রগতির জ্বালানি। আমরা যখন ঘরে বা অফিসে অপ্রয়োজনীয় একটি বাতি জ্বালিয়ে বা ফ্যান চালিয়ে রাখি, তখন শুধু নিজের পকেটের টাকাই নষ্ট করি না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এখন বড় কোনো ত্যাগের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন কেবল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সদিচ্ছার। বাজারে এখন ইনভার্টার প্রযুক্তিসম্পন্ন এসি বা ফ্রিজ পাওয়া যায়, যা সাধারণ যন্ত্রপাতির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। এ ছাড়া সাধারণ টাংস্টেন বাল্বের পরিবর্তে এলইডি লাইট এবং সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারের মাধ্যমে অনায়াসেই বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব। দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অফিস বা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক সুইচের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এই বার্তাই দেয় যে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লড়াইটি একক কোনো উদ্যোগ নয়, এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি গৃহকোণে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ব্যবহার পরিহারের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমরা যত বেশি সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হব, ব্যক্তি হিসেবে আমরা নিজেরা যেমন আর্থিক সুবিধা পাব, তেমনি রাষ্ট্রও এক বিশাল অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত হবে। সাশ্রয়কৃত এই বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের কলকারখানা ও উৎপাদনশীল খাতকে সচল রাখা সম্ভব, যা চূড়ান্ত বিচারে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। আসুন, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে আমরা নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করি। আমাদের একটি ছোট সচেতন পদক্ষেপই পারে দেশকে আরও অন্ধকারমুক্ত ও সমৃদ্ধিশালী করতে।

Ads small one

কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত মফজুলার রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত মফজুলার রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫৮ নম্বর কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ মো. মফজুলার রহমান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফার জেসমিনের সভাপতিত্বে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সভাপতি এবং বিদুর সরকারকে সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মফজুলার রহমান বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণে কমিটির সকল সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যরা নবনির্বাচিত সভাপতি ও সহসভাপতিকে অভিনন্দন জানান এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

বিলজুড়ে খুরের দাপট: সদরের চেলারবিলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়ে হাজারো দর্শকের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
বিলজুড়ে খুরের দাপট: সদরের চেলারবিলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়ে হাজারো দর্শকের ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধি: আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর সোঁদা মাটির ঘ্রাণ উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারবিলে চারপাশ তখন লোকারণ্য। মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের চোখ গিয়ে ঠেকেছে দূর সীমানায়। আচমকাই নিস্তব্ধতা ভেঙে বাতাসে ভেসে এল খুরের আওয়াজ। ধুলো উড়িয়ে একের পর এক ঘোড়া ছুটে চলল লক্ষ্যের পানে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া এক টুকরো ঐতিহ্যকে সাক্ষী রেখে এভাবেই মুখরিত হয়ে উঠেছিল ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারবিল। যান্ত্রিকতার যুগে গ্রামীণ এই লোকজ সংস্কৃতি যেন এক পশলা আনন্দের হাওয়া বয়ে এনেছে বিলপাড়ের জীবনে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা উপস্থিত আবালবৃদ্ধবনিতাকে দেয় অনাবিল আনন্দ।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় বড় খামার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন চেলারবিলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন দেখতে দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় ধুলিহর, জাহানাবাজ, কোমরপুর, ফয়জুল্যাপুর, বড়খামার, উমরাপাড়া, মেল্লেকপাড়া, বালিথা, দহাকুলা, চেলারডাঙা, কালেরডাঙা, বাঁধনডাঙা, ননিগোলা, বালুইগাছা, এলাল্লারচর, ব্রহ্মরাজপুরসহ অন্তত ২০টি গ্রামের হাজারো উৎসুক দর্শকের ঢল নামে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রহ্মরাজপুর ইউপির সাবেক সফল চেয়ারম্যান স. ম. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুখ খান মিঠু এবং জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৩নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা। সাবেক ইউপি সদস্য খুরশিদ আলমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করেন এবং খেলার ধারাভাষ্য প্রদান করেন আব্দুল্লাহ সানা।
রোমাঞ্চকর এই প্রতিযোগিতায় খুলনা জেলার কয়রা থেকে আসা ‘ভোরের পাখি’ প্রথম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের ‘কানাই’ দ্বিতীয়, নড়াইলের ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ তৃতীয়, সাতক্ষীরার তালার ‘বেলী’ (তাহসিন রানি) চতুর্থ এবং খুলনার শিরমনির ‘পাখি’ পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে এলইডি টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিজয়ীদেরও বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়। উৎসবমুখর পরিবেশের এই আয়োজনটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

 

শাঁখরা-কোমরপুর হাইস্কুলে ‘মনের মন্দিরে মানবী দেবী’ নাটকের মহড়া শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
শাঁখরা-কোমরপুর হাইস্কুলে ‘মনের মন্দিরে মানবী দেবী’ নাটকের মহড়া শুরু

পত্রদূত ডেস্ক: ‘জীবনকে প্রত্যক্ষ দেখতে ও বুঝতে নাটকের বিকল্প নেই’Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার ভোমরা ললিত কলা একাডেমীর উদ্যোগে এক নতুন সামাজিক নাটকের উদ্বোধনী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে শাঁখরা কোমরপুর আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে ‘মনের মন্দিরে মানবী দেবী’ শীর্ষক নাটকটির শুভ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক মাস্টার শফিকুল ইসলামের রচনা ও নির্দেশনায় এবং ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর ইসলাম, শাঁখরা কোমরপুর আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ শরীফ ইকবাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ধ্রুবগোপাল দাশ এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
শিশুশিল্পী শ্রাবন্তী মন্ডলের কণ্ঠে ভজনগীতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন বাসুদেব ঘোষ, অসিত ঘোষ, তরিকুল ইসলাম, শিবায়ন সরকার, সত্যজিত সরকার, শহিদুল ইসলাম, গোবিন্দ মন্ডল, ভগিরত সরকার, প্রসেনজিৎ, সন্ধ্যা রানী ও শিশুশিল্পী পীরতম মন্ডল। নাটকের আবহ সংগীত পরিচালনা করেন নাট্যকার নিজেই।