বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুক্তমত: সামেক হাসপাতাল কী এখন বহিরাগতদের দাদাগিরির হাট!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: সামেক হাসপাতাল কী এখন বহিরাগতদের দাদাগিরির হাট!

মোহাম্মদ মুজাহিদ
একটি হাসপাতাল মানে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল যেখানে জীবন বাঁচানোর লড়াই চলে, যেখানে কান্না আর আশার মিশেলে গড়ে ওঠে মানবতার এক অনন্য ক্ষেত্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) কি এখনও সেই মানবতার জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি এটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্যের এক ভয়ংকর আস্তানায়?
সাম্প্রতিক সময়ে বারবার অভিযোগ উঠছে একটি সংঘবদ্ধ বহিরাগত চক্র হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসা কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে, এমনকি চিকিৎসকদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এই ধরনের অরাজকতা শুধু অনাকাক্সিক্ষতই নয়, বরং চরম উদ্বেগজনক।
প্রশ্ন হলো এই সাহস তারা পায় কোথা থেকে? কার ছত্রচ্ছায়ায় এরা এতটা বেপরোয়া?
প্রতিদিন অসহায় রোগীরা যখন সেবা নিতে আসে, তখন তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে এই তথাকথিত বহিরাগতদের দম্ভ। কখনো তারা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, কখনো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে। ফলে চিকিৎসা পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয়ংকরভাবে অনিরাপদ। একজন চিকিৎসক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন, তাহলে সেই হাসপাতাল থেকে জনগণ কীভাবে মানসম্মত চিকিৎসা আশা করবে?
এ যেন এক নীরব দখলদারিত্ব, যেখানে হাসপাতালের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ নয়, বরং কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজনই নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো পরিবেশ। এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই সামেক হাসপাতাল তার আস্থা ও সুনাম সম্পূর্ণভাবে হারাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রথমত, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গেটে প্রহরী বসালেই দায়িত্ব শেষ নয় কারা ঢুকছে, কেন ঢুকছে, কতক্ষণ অবস্থান করছে এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যারা বহিরাগত পরিচয়ে হাসপাতালের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় এখানে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তৃতীয়ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, চোখের সামনে ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে এই নীরবতাই দুষ্টচক্রকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চতুর্থত, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ এই হাসপাতাল সবার এটি কোনো গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হাসপাতাল কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জায়গা। এখানে যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্ব চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক ভয়ংকর সংকেত। সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নইলে একদিন এই হাসপাতালের করিডোরে চিকিৎসার চেয়ে আতঙ্কই বেশি প্রতিধ্বনিত হবে। (এটা সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব অভিমত)। লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।