মুক্তমত: সামেক হাসপাতাল কী এখন বহিরাগতদের দাদাগিরির হাট!
মোহাম্মদ মুজাহিদ
একটি হাসপাতাল মানে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল যেখানে জীবন বাঁচানোর লড়াই চলে, যেখানে কান্না আর আশার মিশেলে গড়ে ওঠে মানবতার এক অনন্য ক্ষেত্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) কি এখনও সেই মানবতার জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি এটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্যের এক ভয়ংকর আস্তানায়?
সাম্প্রতিক সময়ে বারবার অভিযোগ উঠছে একটি সংঘবদ্ধ বহিরাগত চক্র হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসা কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে, এমনকি চিকিৎসকদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এই ধরনের অরাজকতা শুধু অনাকাক্সিক্ষতই নয়, বরং চরম উদ্বেগজনক।
প্রশ্ন হলো এই সাহস তারা পায় কোথা থেকে? কার ছত্রচ্ছায়ায় এরা এতটা বেপরোয়া?
প্রতিদিন অসহায় রোগীরা যখন সেবা নিতে আসে, তখন তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে এই তথাকথিত বহিরাগতদের দম্ভ। কখনো তারা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, কখনো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে। ফলে চিকিৎসা পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয়ংকরভাবে অনিরাপদ। একজন চিকিৎসক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন, তাহলে সেই হাসপাতাল থেকে জনগণ কীভাবে মানসম্মত চিকিৎসা আশা করবে?
এ যেন এক নীরব দখলদারিত্ব, যেখানে হাসপাতালের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ নয়, বরং কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজনই নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো পরিবেশ। এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই সামেক হাসপাতাল তার আস্থা ও সুনাম সম্পূর্ণভাবে হারাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রথমত, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গেটে প্রহরী বসালেই দায়িত্ব শেষ নয় কারা ঢুকছে, কেন ঢুকছে, কতক্ষণ অবস্থান করছে এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যারা বহিরাগত পরিচয়ে হাসপাতালের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় এখানে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তৃতীয়ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, চোখের সামনে ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে এই নীরবতাই দুষ্টচক্রকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চতুর্থত, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ এই হাসপাতাল সবার এটি কোনো গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হাসপাতাল কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জায়গা। এখানে যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্ব চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক ভয়ংকর সংকেত। সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নইলে একদিন এই হাসপাতালের করিডোরে চিকিৎসার চেয়ে আতঙ্কই বেশি প্রতিধ্বনিত হবে। (এটা সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব অভিমত)। লেখক: গণমাধ্যমকর্মী









