কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় “খাল খনন কর্মসূচি” এবং অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় দেবহাটা ইউনিয়নের বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও খালের দুই পাড়ে রোপণ করা গাছগুলো রক্ষায় খুঁটি ও নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ১৩ হাজার ২৬৯ দশমিক ৪৪০ ঘনমিটার মাটি অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে ১১৯ জন উপকারভোগী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার টাকা। প্রকল্পের এনইউআর (ঘটজ) হওয়ার তারিখ ৩১ মে ২০২৬।
প্রকল্পের শ্রম ব্যয় বাবদ প্রায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬০ টাকা এবং বৃক্ষরোপণের জন্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা, দেবহাটা, সাতক্ষীরা। প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেবহাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিত এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পুনঃখননের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, খালের পাড়ে যে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে গবাদিপশু ও অন্যান্য কারণে যাতে গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রতিটি গাছ খুঁটি ও নেট দিয়ে ঘিরে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজ সঠিক ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের মধ্যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, খালের পাড়ে গাছ রোপণ করা হলেও অনেক স্থানে গাছের সুরক্ষার জন্য খুঁটি ও নেটের ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং বিষয়টি সরেজমিনে দেখানোর কথাও জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে রোপণকৃত গাছগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।