রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে এবার ৯৭ মুসলিম প্রার্থী জয়ী, নেপথ্যে কী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে এবার ৯৭ মুসলিম প্রার্থী জয়ী, নেপথ্যে কী?

ইসলামোফোবিয়া ও ইসলামবিরোধী প্রচারণার রেকর্ড বৃদ্ধির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম আমেরিকান জয়ী হয়েছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায় মিলিয়ে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

চলতি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দুই দল মিলিয়ে মোট ১৬৮ জন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রাথমিক পর্ব (প্রাইমারি) পার হয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেন। এখনও ডাকযোগে আসা ভোট গণনা চলায় আরও এক ডজনের বেশি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বিজয় এবং তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এই রেকর্ড জয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকান আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবার কোনও মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) বিজয়ী হয়েছেন ছয়জন মুসলিম আমেরিকান। তারা হলেন, পুনর্নির্বাচিত ইলহান ওমর, রশিদা তাইব, আন্দ্রে কারসন ও লাতিফাহ সাইমন এবং নতুন বিজয়ী অ্যাডাম হামাভি ও দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার। কেয়ারের তথ্যমতে, এই ৭ জন ছাড়া রাজ্য আইনসভা ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ ৩৯টি রাজ্যপর্যায়ের পদে, স্থানীয় কাউন্টি ও পৌরসভায় ১৬টি পদে, শিক্ষা ও স্কুল বোর্ডে ২৭টি পদে এবং বিচারক হিসেবে ৮ জন মুসলিম বিজয়ী হয়েছেন।

ইসলামিক পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক) এবং অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ও রিপাবলিকান পার্টিতে ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও অপপ্রচার এক প্রজন্মের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও এবার ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব। বিগত এক বছরে মুসলিমদের ভোটার নিবন্ধনের হার অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং জরিপ অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মুসলিম ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম আমেরিকানরা কেবল দল দেখে নয়, বরং নীতির ভিত্তিতে ভোট দেন। অলাভজনক সংস্থা জর্জিয়া মুসলিম ভোটার প্রজেক্ট-এর যোগাযোগ পরিচালক উরুজ আলী জানান, মুসলিম ভোটাররা দলের চেয়ে নীতির ওপর ভিত্তি করে ভোট দেওয়ার প্রবণতা দেখান। অনেকেই নিজেদের দলীয় পরিচয়ের চেয়ে স্বতন্ত্র ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষা এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। কেয়ারের জরিপে ৭০ শতাংশ মুসলিম জানান, ইসলামফোবিয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই তারা ভোট দিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং ৮০ শতাংশের মতে গাজা পরিস্থিতি তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নতুন বিজয়ী মুসলিম নেতৃত্বের ধরণ নিয়ে মুসলিম পাবলিক সার্ভিস-এর প্রধান আহমেদ মাতি বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখন জাতীয় ও স্থানীয় নীতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছেন। এই জয় বছরের পর বছর ধরে চলা সামাজিক প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে এড়িয়ে না গিয়ে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেই ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকান রাজনীতিতে এই জয় কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের নয়, বরং বহুমাত্রিক আমেরিকান বৈচিত্র্যের এক বড় অগ্রগতি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Ads small one

রাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুন

রাজধানীর ভাটারার ১০০ ফিট এলাকায় একটি স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার দিকে জলসিড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

ভাটারা থানার কর্তব্যরত অফিসার দেবাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। কারা, কীভাবে আগুন দিল এখনও সেটি জানা যায়নি। তদন্ত শেষে বলা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। গতকাল শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কয়েক দিনে রাজধানীতে অন্তত আটটি বাসে আগুন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

মিরপুরে প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুর-১ এর সনি হলের সামনে একটি প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সনি হলের সামনে একটি প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে করে আসা লোক এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

হৃদয় মনে করেন, ৩৫০ রানও তাড়া করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
হৃদয় মনে করেন, ৩৫০ রানও তাড়া করা সম্ভব

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের শেষ দিনে ৩৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব বলে মনে করেন তাওহীদ হৃদয়।

সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। তাতে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। কাভেম হজ ১৪০ রানে অপরাজিত আছেন, সঙ্গে আমির জাঙ্গু ২০ রানে ব্যাট করছেন। শেষ দিনে কখন ও কত রানের লক্ষ্য দিয়ে ক্যারিবীয়রা ইনিংস ঘোষণা করে, সেটির ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ।

প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২৪২ রান করে ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার হওয়া হৃদয়ের বিশ্বাস, উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। তাই শেষ দিনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখছেন তিনি। হৃদয় বলেছেন, ‘দেখুন, এটা নির্ভর করবে আমরা কীভাবে শুরু করি তার ওপর। উইকেট এখনো ভালো। আমরা যদি শুরুটা ভালো করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় রান তাড়া করা সম্ভব। তবে আগামীকাল কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তারা কত রানের লক্ষ্য দেয়, সেটা দেখে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক। আগামীকাল পঞ্চম দিন অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, আগেও যেমন বলেছি, শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভালো শুরু করতে পারি, তাহলে আমার বিশ্বাস ৩৫০ রানও তাড়া করা সম্ভব। তবে বারবারই বলছি, শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি।’

সমালোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন হৃদয়। তার মতে, পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবনে প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই থাকবে। তাই সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করেন তিনি।

ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পর হৃদয়ের টেস্ট দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দুটি আউট হওয়ার ক্ষেত্রে তার শট নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল, দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে তিনি কতটা উপযুক্ত, তা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। সিলেটে ব্যাট হাতে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন হৃদয়। ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করে প্রথম ইনিংসে লিড এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

হৃদয় বলেন, ‘প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাতে চাই, আমি দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। সমালোচনা থাকবেই। আপনার পেশা কিংবা যেকোনো পেশাতেই সমালোচনা থাকবে। যেদিন আমরা ভালো করি, আপনারাই আমাদের হয়ে কথা বলেন, ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন। আবার যেদিন খারাপ করি, আপনারাই সমালোচনা করবেন। এটাই স্বাভাবিক। আমার মনে হয়, সঠিকভাবে চিন্তা করলে সমালোচনা থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে।’

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা একবারও ভাবেননি হৃদয়। তার কাছে দলের অবস্থান ভালো করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘এটা হয়তো আমার ভাগ্যে ছিল। আমি আসলে ভাবিনি কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি কিংবা কী হতে যাচ্ছে। ওই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়েছে, দলের জন্য যতটা সম্ভব লড়াই করতে হবে, দলকে ভালো অবস্থানে নিতে হবে। সেটাই চেষ্টা করেছি।’