সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

রহস্যময় অন্ধকার কোঠা ও গুপ্তধনের লোককথা ঘিরে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
রহস্যময় অন্ধকার কোঠা ও গুপ্তধনের লোককথা ঘিরে চাঞ্চল্য
জুলফিকার আলী
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এক ঐতিহাসিক জনপদ সোনাবাড়িয়া। প্রায় দুই শত বছর আগের গোটা সোনাবাড়িয়াজুড়ে আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জমিদার শাসনের নানা প্রাচীন নিদর্শন। আর এই ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় ধারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির’। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু, টেরাকোটা ফলক খচিত এই শ্যামসুন্দর মন্দিরটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। তবে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি এখন চরম জরাজীর্ণ। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে এর অবশিষ্ট অংশটুকুও চিরতরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
​পুকুরের ‘টাকার মেঠে’ ও সুরঙ্গ রহস্য
​এই মঠ মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে কিছু রোমাঞ্চকর ও গা ছমছমে রহস্য। এলাকার প্রবীণদের দাবি, মন্দিরের সামনের বিশাল পুকুরটিতে একটি লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা ‘টাকার মেঠে’ বা জালা (গুপ্তধনের পাত্র) ছিল। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাতে ওই মেঠে থেকে টাকাগুলো বের হয়ে পুকুরের পানিতে কিলবিল করে ভাসতো, যা তৎকালীন সময়ে অনেকেই নিজ চোখে দেখেছেন। এ ছাড়াও লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, পুকুরের মাঝ বরাবর একটি গোপন সুরঙ্গ পথ ছিল, যা দিয়ে সরাসরি মঠ মন্দিরের ভেতরে যাতায়াত করা যেত।
​আশ্চর্য অন্ধকার কোঠা ও স্বয়ংক্রিয় কষ্টিপাথর
​মন্দিরের ভেতরে রয়েছে এক রহস্যময় কক্ষ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘অন্ধকারা কোঠা’ নামে পরিচিত। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, একসাথে ১০টি টর্চ লাইট জ্বালালেও সেই কোঠার ভেতরের অন্ধকার দূর করা যেত না; আলোর তীব্রতা ভেদ করে সেখানে শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকারই দেখা যেত। তবে ওই কোঠার ভেতরে আসলে কী ছিল, তা আজও এক রহস্য।
​প্রবীণরা জানান, ওই কোঠার মধ্যে একটি অলৌকিক কষ্টিপাথর ছিল, যা প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে আপনা-আপনি ঘুরতো। আর এই অলৌকিক দৃশ্য দেখতে ও পূজা করতে তখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভিড় জমাতেন। ধারণা করা হয়, কোনো কারণে ওই কোঠার পবিত্রতা নষ্ট হওয়ায় অলৌকিক কষ্টিপাথরটি শিকল কেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুকুরে পড়ে যায়। বর্তমানে সেই শিকলের মাত্র দুটি আংটা বা কড়া মন্দিরের কোঠায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় অনেকেরই বিশ্বাস, সেই ‘টাকার মেঠে’ বা গুপ্তধনের পাত্রটি আজও পুকুরের তলদেশে লুকিয়ে আছে।
​ইতিহাস ও অলৌকিক জনশ্রুতি
​বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলা ১২০৮ সালে রানী রাশমনি এই মঠ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই মঠ মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে রয়েছে নানা রোমাঞ্চকর অলৌকিক জনশ্রুতি। প্রচলিত আছে, সোনাবাড়িয়ার এক বেলগাছ তলায় রাতের আঁধারে মাটি ফুঁড়ে একাধিক শিব মূর্তি বের হয়েছিল। পরবর্তীতে রানী রাশমনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে স্নানের সময় নদী থেকে একটি ভাসমান পাথরের শিবমূর্তি উদ্ধার করেন এবং এই অলৌকিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই মঠ মন্দিরটি নির্মাণ করেন।
​স্থাপত্যশৈলী ও কাঠামোগত সৌন্দর্য
​আম, কাঁঠাল, নারকেল, মেহগনি, সেগুন ও দেবদারু গাছের বাগান দিয়ে ঘেরা প্রায় ১৫ একর জমির ওপর অবস্থিত এই মন্দির প্রাঙ্গণ। মূল মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এবং প্রস্থ ১৫ ফুট। বিশালাকৃতির এই মঠ মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট পাতলা ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে। এর দেয়ালজুড়ে রয়েছে নজরকাড়া টেরাকোটা ফলকের কারুকাজ।
​মন্দিরের সামনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। পুকুরের পাশ দিয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য ছিল একটি বড় তোরণ, যার ওপর নির্মিত হয়েছিল নহবতখানা। মন্দিরের পূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১২টি ঘরে একসময় ১২টি শিবলিঙ্গ ছিল। এ ছাড়াও মূল মঠ মন্দিরের দোতলায় ঝুলন্ত দোলনায় থাকত সোনার তৈরি রাধাকৃষ্ণের মূর্তি।
​বৌদ্ধ ধর্মের সংযোগ ও ভিন্নমত
​মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমৎকার একটি তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের মতে, প্রাচীনকালে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা এখানে প্রথম একটি মঠ বা উপাসনালয় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারে সুবিধা করতে না পেরে তারা সোনাবাড়িয়া ত্যাগ করেন। এরপর মঠটি বেশ কিছুকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। বহু বছর পর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই পরিত্যক্ত কাঠামোটি পুনরায় নির্মাণ ও সংস্কার করে এটিকে মন্দিরে রূপান্তরিত করেন।
​বর্তমান দশা ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা
​কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ যত্নের অভাবে হারিয়ে গেছে মন্দিরের সেই জৌলুস। চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান কষ্টিপাথর ও সোনার মূর্তি। ধসে পড়েছে নহবতখানাসহ অনেক কক্ষ। বর্তমানে দেয়ালের টেরাকোটা খসে পড়ছে এবং পুরো ভবনটিই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
​এলাকাবাসী ও ইতিহাস সচেতন মহলের দাবি, দক্ষিণবঙ্গের এই অনন্য প্রাচীন স্থাপত্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই ঐতিহাসিক মঠ মন্দিরটি রক্ষার্থে ও এর রহস্য উদ্ঘাটনে অতি দ্রুত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখনই সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সোনাবাড়িয়ার এই গৌরবময় ইতিহাস কেবলই রূপকথা হয়ে থাকবে।

Ads small one

কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও শোভাযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন, কুইজ প্রতিযোগিতা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে সভাপতিত্ব করেন ইউপি প্রশাসক মোতাহার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাইম, ইউপি সদস্য শাফিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নাজমুন নাহার ও ডলি আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও আইনি সেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কলারোয়া উপজেলা সমন্বয়কারী মোস্তাক আহমেদ। আলোচনা শেষে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ী ২০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উল্লেখ্য, সর্বসাধারণের দোরগোড়ায় গ্রাম আদালতের তথ্য পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে উপজেলার হেলাতলা, লাঙ্গলঝাড়া, কয়লা ও জালালাবাদ ইউনিয়নে ভিডিও প্রদর্শনী ও বিশেষ ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘সচিত্র বাংলাদেশ ও নবারুণ’ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘সচিত্র বাংলাদেশ ও নবারুণ’ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ‘সচিত্র বাংলাদেশ ও নবারুণ’ নামের দুটি বই বিতরণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের এই দুটি প্রকাশনা সোমবার সকালে জেলা তথ্য অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বই দুটি বিতরণ করেন। এ সময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, কমিউনিটি অর্গানাইজার মনির হোসেন, যুব সদস্য সিহাব হোসেন, সাগর হোসেন, সাদিয়া সুলতানা এবং শিশু সদস্য আফিয়া আক্তার রসনী ও আম্বিয়া খাতুনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বই বিতরণকালে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি দেশের জীববৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে বর্তমান প্রজন্মের বেশি বেশি পড়াশোনা করা প্রয়োজন।

সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৫৫ লক্ষ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৫৫ লক্ষ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল পার্টস, চিংড়ির রেণু পোনা এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বাংলাদেশি ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিনভর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মশাখরা বিওপির একটি দল সাতক্ষীরা সদরের বটতলা এলাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ করে। বাঁকাল চেকপোস্টের টহল দলও একই রূপ আরও ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার রেণু পোনা আটক করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, তলুইগাছা বিওপির বিশেষ দল শালবাগান এলাকা থেকে ক্যানসার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৬ লাখ২৭ হাজার৮০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি মূল্যবান ওষুধ জব্দ করে, যা অবৈধভাবে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
এছাড়া কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি ও রাজপুর সীমান্ত এলাকা থেকে মাদরা এবং কাকডাঙ্গা বিওপির সদস্যরা পৃথক দুটি অভিযানে যথাক্রমে ৮ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করেন।
৩৩ বিজিবি জানায়, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার সময় জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি পণ্যের মোট বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ টাকা।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এমন কঠোর ও জনস্বার্থমূলক অভিযানকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।