সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুন্দরবনে আলিম বাহিনীর হাতে জেলে জিম্মি, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে আলিম বাহিনীর হাতে জেলে জিম্মি, উৎকণ্ঠায় পরিবার

এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে বনদস্যু আলিম (দয়াল) বাহিনীর হাতে এক জেলে জিম্মি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে ওই জেলের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। জিম্মি হওয়া জেলের নাম রিপন গাজী (৪৫)। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মৃত শফিকুল গাজীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় তাঁরা খবর পান যে, সুন্দরবনের কুকুমারি খাল এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় ওত পেতে থাকা আলিম বাহিনীর সদস্যরা রিপন গাজীকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে রিপনের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্বজনরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকলেও পেটের তাগিদে ও জীবিকার সংকটে কিছু জেলে ঝুঁকি নিয়ে বনে যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দস্যু ও ডাকাত চক্র জেলেদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর এখনো তাঁদের কাছে আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বন্য প্রাণীর প্রজনন মৌসুম রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়াসহ সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ এবং পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় ১৫ দিনে ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতার কবলে লাখো মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ১৫ দিনে ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতার কবলে লাখো মানুষ

সিরাজুল ইসলাম: অগ্রিম পাঁচ মাসের জলবদ্ধতার কবলে পৌর এলাকাসহ সাতক্ষীরার লাখ মানুষ পানিবন্দী। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও একই ঘটনা ঘটেছে। ভারী বৃষ্টিতে দলবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না হাজার হাজার মানুষ। দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ডুবে গেছে বাড়িঘর এবং ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ। ভুক্তভোগীরা পৌর এলাকার অচল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শহরতলীতে অপরিকল্পিত মাছের ঘেরকে জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জুলাই সর্বোচ্চ ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমোল্যারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনী, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজারবাগান, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় কোমরসমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার মাগুরা, বিনেরপোতা, গোপিনাথপুর, গোবিন্দপুর, মাছখোলা, ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, লাবসা, ব্রক্ষ্ররাজপুর, ধুলিহর ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলের অধিকাংশ স্থান এখনও কোমর পানিতে ডুবে আছে।

জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়া ঘরবাড়িতে রান্নাবান্না কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেক এলাকায় রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বদ্দীপুর কলোনীর জাহেদা খাতুন বলেন, আমরা ১ যুগ ধরে এ অবস্থায় আছি। বৃষ্টি হলেই আমাদের এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রান্না-বান্না করা সম্ভব হয় না। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে বসবাস করে আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাই না।

রইচপুর এলাকার রাহিনুর রহমান বলেন, বৃষ্টির পানি এতটুকু সরছে না। রইচপুরের নিচের দিকে অনেকগুলো মাছের ঘের। তাই পানি সরতে পারছে না। দীর্ঘদিন জমা পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। তাই ঘরে ঘরে চর্মরোগ বেড়েছে।

এ বিষয়ে ইটাগাছা এলাকার মোকাররম বিল্লাহ জানান, আমাদের পরিবারের সবার পায়ে ঘা-পাচড়া হয়েছে। একদিকে যেমন প্রচুর চুলকাচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালা-যন্ত্রণা ও করছে।

মধ্যকাটিয়া এলাকার আমেনা খাতুন বলেন, আমাদের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। তার ওপর এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষা। মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা যাতে ভালো হয়, তার জন্য। আর আমাদের কী কপাল! জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না।

স্কুল ছাত্রী মাইশা তামান্ন বলেন, রাস্তা ওপরে হাটু পানি হওয়ায় ভ্যান রিকশা চালাচল করে না। দীর্ঘ দেড় মাস পানিবন্দী হয়ে আছি। স্কুলে যাওয়ার সময় ভেজা কাপড়ে স্কুলে যেতে হয়। এতে করে আমাদের লেখা পড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পৌরসভার কুলিন পাড়ার নজরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের একাডেমি মসজিদ থেকে জেবুনেছা ছাত্রীনিবাস, মুন্সিপাড়া থেকে ফকির ময়ারার বাড়ি ও মুনজিতপুরের চৌধুরি বাড়ি হতে খোলার টালি, বদ্দীপুর কলোনী, সরদার বাড়ি, মাদরাসা পাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে আছে। এসব রাস্তায় দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি। এসব এলাকার মানুষের ঘরের ভেতর পানি ওঠায় বাসা ভাড়া নিয়ে অনেকেই অন্যত্র চলে গেছে।

সদর উপজেলার বড়দল গ্রামের মোকলেছুর রহমান জানান, সদর উপজেলার বেতনা নদীর নব্যতা না থাকার এখন শহর ও কয়েকটি ইউনিয়নে বর্ষা মৌসুম পানি নিষ্কাশন হয় না। ফলে এসব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আমাদের এলাকার শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দী হয়ে আছে। আমন মৌসুমে রোপণ আমন ধান পানিতে ডুবে থাকায় এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, শহরের মধ্যে বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ এবং শহরতলীতে যত্রতত্র মাছের ঘের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীরা পড়েছে বিপাকে। রসুলপুর, কামালনগরসহ বিভিন্ন জায়গায় এই যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এটা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে। এছাড়া যারা যত্রতত্র মাছ চাষ করছে, পানি আটকে রাখছে-এগুলো অপসারণ করা আমাদের দাবি। এছাড়া নেটপাটা অপসারণ করাও জরুরি।

জেলা মৎস্য অফিসার জি. এম. সেলিম জানান, “বৃষ্টির পানিতে ২ শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে, যার আনুমানিক ক্ষয়-ক্ষতি কোটি টাকা।”

জেলার অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন বলেন, অতিবর্ষণে জেলার ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ২০টি, কলারোয়ায় ১০টি, তালায় ১টি, শ্যামনগরে ১২টি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২০টি স্কুল ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। চেয়ার-টেবিল ডুবে যাওয়ায় সেসব স্কুলে ক্লাস চালানো খুবই কষ্টের। তবুও কোমলমতি শিশুদের কথা ভেবে কষ্ট করে হলেও ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাগডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে পারছেন না শিক্ষকরা।

জেলা মৎস্য অফিসার জিএম সেলিম বলেন, বৃষ্টির পানিতে ২ শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে, যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। আর কিছু সবজি ক্ষেত পঁচে গেছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এই প্রতিবেদককে জানান, প্রকল্পটির ১০০%শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তিনি আরো বলেন মানুষের ফেলা ময়লা আবর্জনা ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে এবং কিছু অসৎ মানুষ এর অবৈধ স্থাপনের কারণে প্রতিবছর সাতক্ষীরায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, এতে কষ্ট পাচ্ছে লাখো মানুষ। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে দল মত নির্বিশেষে সকলকে একমত হয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে তা না হলে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী জলবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। আশরাফুল আলম আরো বলেন, সাতক্ষীরা জলবদ্ধতার জন্য শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দুষলে হবে না সকলকে উদ্যোগ দিতে হবে তাহলে এটা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, পৌরসভাসহ সদর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বিগত সময়ের মতো এবারও কিছু পয়েন্ট করে সেখানে কেটে বা ড্রেন করে বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে বদ্দীপুর কলোনীতে জলাবদ্ধতা প্রকট। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কলুবোল্লার খালের যে অংশে চর পড়েছে, সেই অংশ খনন করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা। আর কামালনগর খালের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করব। আর সিল্টেড স্লুইস গেটগুলো, যেগুলো জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ, সেগুলো অপসারণের চেষ্টা করছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে।

এদিকে সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে ও স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে খালের অবৈধ নেট-পাটা অপসারণে নেমেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খালে এ উচ্ছেদ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে খালের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী খালে এই বিশেষ উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

অভিযানের উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে বলেন, সারাদেশে সরকারি উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। এটি সাময়িক কোনো কাজ নয়, বরং এটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ঘের মালিকের চিংড়ি চাষের জন্য খালের পানি প্রবাহ আটকে রাখার কারণে লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তীব্র বর্ষার এই সময়ে সবাইকে নিজ দায়িত্বে খালের সব অবৈধ নেট-পাটা এবং বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এরপরেও যদি খালের স্বাভাবিক পানি চলাচলে বিঘœ ঘটানোর প্রমাণ মেলে, তবে প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সব চাওয়া পূরণ হলেই কি মানুষ সুখী হয়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
সব চাওয়া পূরণ হলেই কি মানুষ সুখী হয়?

সচিচ্চদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত তার আকাক্সক্ষা। জন্মের পর থেকেই মানুষ কিছু না কিছু চায়। শৈশবে খেলনা, কৈশোরে সাফল্য, যৌবনে প্রতিষ্ঠা, মধ্যবয়সে সম্পদ, আর বার্ধক্যে নিরাপত্তা। একটি চাওয়া পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটি চাওয়া জন্ম নেয়। যেন চাওয়ার কোনো শেষ নেই। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়Ñমানুষের সব চাওয়া যদি পূরণ হয়, তবে কি সে সত্যিই সুখী হয়ে ওঠে? আজকের বিশ্বে উন্নয়নের পরিমাপ অনেকটাই অর্থ, ভোগ এবং বাহ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা অন্যের সাফল্য দেখে আমরা নিজের জীবনকে অসম্পূর্ণ মনে করি।

 

প্রতিবেশীর বড় বাড়ি, সহকর্মীর দামি গাড়ি কিংবা পরিচিত কারও দ্রুত উন্নতি আমাদের মনে নতুন নতুন চাহিদার জন্ম দেয়। ফলে যা আছে, তার আনন্দ হারিয়ে যায়; যা নেই, তার অভাবই হয়ে ওঠে জীবনের প্রধান অনুভূতি। কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। ইতিহাস, সাহিত্য এবং সমাজÑসবখানেই দেখা যায়, সীমাহীন প্রাপ্তি সব সময় সুখ বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় অতিরিক্ত সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা আরাম মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দেয়। অহংকার বাড়ায়, সম্পর্কের উষ্ণতা কমায়, প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। যে সম্পদ একসময় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিই কখনো কখনো উদ্বেগ, ভয় এবং একাকীত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

অন্যদিকে অভাব বা সীমাবদ্ধতা সব সময় দুর্ভাগ্যের প্রতীক নয়। জীবনের অনেক বড় শিক্ষা আসে অপূর্ণতা থেকে। যে মানুষ সংগ্রাম করেছে, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়েছে, অপেক্ষা করতে শিখেছেÑসে সাধারণত জীবনের মূল্যও বেশি বোঝে। অল্প প্রাপ্তির আনন্দ তার কাছে অনেক গভীর হয়। কারণ সে জানে, প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে শ্রম, ধৈর্য এবং সময়। জীবনের এই বাস্তবতাকে বোঝাতে একটি সাধারণ পারিবারিক উদাহরণই যথেষ্ট। একটি শিশু অসুস্থ। সে তার প্রিয় মিষ্টি খেতে চায়। কিন্তু মা তাকে তা দেন না।

 

শিশুটি হয়তো কাঁদে, অভিমান করে, মনে করে মা তাকে ভালোবাসেন না। অথচ সত্য সম্পূর্ণ উল্টো। মা জানেন, এই মুহূর্তে সেই মিষ্টি শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই সাময়িক কষ্ট দিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে সন্তানকে রক্ষা করেন। এই ঘটনাটি কেবল পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ নয়; এটি জীবনেরও একটি গভীর সত্য। মানুষ অনেক সময় তাৎক্ষণিক ইচ্ছাকে প্রয়োজন মনে করে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় সেই ইচ্ছার সঙ্গে একমত হয় না। আজ যে সুযোগটি হাতছাড়া হয়েছে বলে আমরা হতাশ, কয়েক বছর পর হয়তো বুঝতে পারিÑসেই ব্যর্থতাই আমাদের অন্য একটি ভালো পথের দিকে নিয়ে গেছে।

 

আবার যে সাফল্য একসময় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে হয়েছিল, সেটিই হয়তো পরে নতুন সংকটের কারণ হয়েছে। মনোবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছেÑহেডোনিক অ্যাডাপটেশন। অর্থাৎ মানুষ নতুন প্রাপ্তির সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নেয়। নতুন বাড়ি, নতুন গাড়ি কিংবা উচ্চ বেতনÑপ্রথমে এগুলো আনন্দ দেয়, কিন্তু কিছুদিন পর সেগুলোই স্বাভাবিক হয়ে যায়। তখন আবার নতুন কিছুর আকাক্সক্ষা তৈরি হয়। অর্থাৎ সুখের উৎস যদি কেবল বাহ্যিক অর্জনের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রকৃত সুখের ভিত্তি বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণ। কৃতজ্ঞতা, আত্মসংযম, ধৈর্য, সম্পর্কের উষ্ণতা এবং অর্থপূর্ণ জীবনবোধÑএসবই মানুষের মানসিক শান্তির প্রধান উপাদান।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রতিদিন নিজের প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন, তাঁদের মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং জীবনের প্রতি সন্তুষ্টিও বেশি হয়। দুর্ভাগ্য জনক ভাবে আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রেই তার চরিত্র দিয়ে নয়, সম্পদ দিয়ে করা হয়। একটি শিশুকেও ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়Ñপ্রথম হতে হবে, বেশি উপার্জন করতে হবে, অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। কিন্তু খুব কম মানুষই শেখায়Ñনিজেকে জানো, নিজের সীমা বোঝো, যা আছে তার মর্যাদা দাও এবং অন্যের সুখ দেখে নিজের জীবনকে ছোট করে দেখো না।

 

অতিরিক্ত ভোগের সংস্কৃতি মানুষকে আরও অস্থির করে তুলছে। বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত আমাদের বোঝায়Ñএই পণ্যটি কিনলে তুমি সুখী হবে, ওই বাড়িটি পেলে জীবন সফল হবে, আরও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারলেই শান্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তব জীবনের পরিসংখ্যান ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অনেক সমাজেই উদ্বেগ, বিষণœতা, নিঃসঙ্গতা ও মানসিক অবসাদের হার বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সুখের একমাত্র উৎস নয়। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ উচ্চাকাক্সক্ষী হবে না বা উন্নতির চেষ্টা করবে না।

 

উন্নতির আকাক্সক্ষা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং সমাজের অগ্র গতিরও চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই আকাক্সক্ষা যদি সীমাহীন লোভে পরিণত হয়, তবে তা মানুষকে ক্লান্ত করে। তখন প্রাপ্তির আনন্দের চেয়ে অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা বড় হয়ে ওঠে। বরং জীবনের প্রতি একটি ভারসাম্য পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। চেষ্টা থাকবে, স্বপ্ন থাকবে, পরিশ্রম থাকবেÑকিন্তু সেই সঙ্গে থাকবে ধৈর্য, সংযম এবং ফলাফলকে গ্রহণ করার মানসিক শক্তি। কারণ মানুষ তার প্রচেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু সব ফলাফলকে নয়। আমরা প্রায়ই জীবনের ঘটনাগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করি।

 

চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি, কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হওয়া কিংবা কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে আমরা জীবনের শেষ বলে মনে করি। অথচ সময়ের ব্যবধানে দেখা যায়, সেই ঘটনা গুলোই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। জীবনের অনেক সিদ্ধান্তের প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন আমরা কিছুটা দূরত্ব থেকে ফিরে তাকাই। আজকের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের যে সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ এই অবিরাম তুলনা।

 

অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করার প্রবণতা আমাদের সুখ কেড়ে নিচ্ছে। অথচ প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা, বাস্তবতা আলাদা, সুযোগ-সুবিধাও আলাদা। তাই অন্যের সাফল্যকে নিজের ব্যর্থতার মানদ- বানানো কোনো ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃত শিক্ষা হলোÑযা আছে, তার সর্বোত্তম ব্যবহার করা; যা নেই, তার জন্য নিরন্তর হাহাকার না করা। কারণ মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে প্রাপ্তি দিয়ে নয়, প্রাপ্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছে এবং অপ্রাপ্তিকে কীভাবে গ্রহণ করছে, তার ওপর। শেষ পর্যন্ত সুখ কোনো গন্তব্য নয়; এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি।

 

যে মানুষ সীমিত সম্পদের মধ্যেও কৃতজ্ঞ থাকতে পারে, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, সততা ও সংযমকে জীবনের ভিত্তি বানায় এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, তার জীবনেই শান্তি বেশি। সব চাওয়া পূরণ হওয়াই জীবনের সাফল্য নয়। বরং কখন থামতে হবে, কোন আকাক্সক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং কোন প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ হতে হবেÑএই বোধই একজন মানুষকে পরিণত করে। কারণ জীবনের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্পদের পরিমাণে নয়, মনের প্রশান্তিতে। আর সেই প্রশান্তি আসে তখনই, যখন মানুষ বুঝতে শেখেÑসব অপ্রাপ্তি ক্ষতি নয়, সব প্রাপ্তিও আশীর্বাদ নয়।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ইউনিয়ন গঠনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ইউনিয়ন গঠনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুশীলনের আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এর আলোকে ইউনিয়নকে শিশুশ্রমমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজগার আলী, সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহেনা পারভিন এবং কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শিরিনা রসুলসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়নকে শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্যে ভিডিএস সদস্য, সিএল মনিটরিং কমিটির সদস্য, সিবিও প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা এবং কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শিশুশ্রমমুক্ত, নিরাপদ ও শিশুবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব।