সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামিসা হত্যা মামলায় চার্জগঠন শুনানি আজ, আদালতে কঠোর নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় চার্জগঠন শুনানি আজ, আদালতে কঠোর নিরাপত্তা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জগঠন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে দেখা গেছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আদালতের সামনের হাজতখানার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। চার্জগঠন শুনানিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল দেখা যায়। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত অনেককে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। তারা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শুনানিকে কেন্দ্র করে আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় তাদের আদালতের এজলাসে তোলা হবে।

জানা গেছে, বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।

পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।

Ads small one

পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পেছনে মূলত শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে মন্ত্রণালয়ের রুটিন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন। নির্বাচন-পরবর্তী গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ পদত্যাগ করলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা। বিজিবি বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। ভারতীয় বিএসএফ বেশ কিছু বাংলাদেশিকে পুশব্যাকের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজর দারীতে রয়েছে বিজিবি।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক গোলম মোহাম্মদ সাইফুল আলস খান নিশ্চিত করে জানান, বেনাপোল সাদিপুর খড়েরমাঠ এলাকা  ২১/৬ নং পিলারের কাছ দিয় ভারতীয় বিএসএফ বেশকিছু নগরিককে পুশব্যাকের চেষ্টা করলে জিরো লাইন এলাকায় রুখে দিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয়রা জানান সোমবার গভীর রাতে ৮/১০ জনের মত একদল নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে টেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। রাত থেকে জিরো লাইনে অবস্থান করছেন তারা।
বিজিবি কর্পকর্তারা জানান, সকাল দশটার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা।

প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছার মৌয়াল বারিক স্থানীয় গাছ ও বাসা-বাড়ি থেকে মৌমাছির চাক কেটে সরাসরি ক্রেতার সামনে মধু বিক্রি করেন। এটি খাঁটি মধু পাওয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপায়। প্রাকৃতিক মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মৌয়াল আব্দুল বারিক। এলাকায় তিনি মধু বারিক নামে পরিচিত।

 

সবাই খাটি ভালো মধু চায়। ভেজাল মুক্ত মধু পেতে ক্রেতার বিড়ম্বানার শেষ নেই। তাই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু পেতে সবাই বারিকের উপর আস্থা রেখেছে। বারিক চাক কেটে বাগানে বসে ক্রেতাকে মধু দিচ্ছে। কেহ চাইলে চাক সহ মধু নিতে পারে। তাই খাটি মধু পেতে বারিকের উপর ভরসা।

 

খুলনা জেলার পাইকগাছার মটবাটি গ্রামে আব্দুল বারিকের বাড়ি। তিনি এলাকার বিভিন্ন গাছ বা বাসা বাড়িতে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন। সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তাই দিয়েই চলে তার সংসার। মধু আহরণের পাশাপাশি সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন।

 

গ্রামের কোথাও মৌচাকের সন্ধান পেলেই মৌয়াল বারিককে ডাকা হয়। অত্যন্ত যত্নসহকারে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বারিক মৌচাক থেকে কীভাবে মধু সংগ্রহ করেতে হয় তার কৌশল আয়ত্ত করেছেন । মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের পেশাদার মৌয়াল হয়ে ওঠেছেন তিনি। কয়েক বছর সুন্দরবনের মধু আহরণে মৌয়ালদের সাথে মধু আহরণ করেছেন। সুন্দরবনের পার্শবর্তি উপকূল এলাকায় বড় বা দাশ মৌমাছির চাক বেশী পাওয়া যায়।

 

মৌয়াল বারিক বলেন, আমি প্রায় ২০ -২৫ বছর যাবৎ মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। মৌচাক কেটে মালিকদের অর্ধেক আমি অর্ধেক নিয়ে থাকি। মৌমাছির চাকের প্রতি কেজি মধু এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করি। চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে শুকনা কাচা পাতা পেচিয়ে মশালের মতন তৈরি করা হয়। একে কোনো কোনো এলাকায় বোলেন বা বুন্দা বলা হয়। এ মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরি করে মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাক ছেড়ে আশপাশে উড়তে থাকে। এ সময় চাকের কিছু অংশ রেখে মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর মৌমাছি আবার চাক বানাতে তৈরি শুরু করে ।

 

মৌয়াল বারিক আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণ ও তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় চাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপে অনেক চাক নষ্ট হয়ে ছিড়ে পড়ছে। তাছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাল্গুন মাস থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত চাকে মধু বেশী পাওয়া যায়। এসময় প্রায় সকল গাছে ফুল ফোটে। আর বাকী মাস গুলোতে চাকে তেমন মধু পাওয়া যায় না।

 

আব্দুল বারিক পাইকগাছা এলাকার একজন সুপরিচিত পেশাদার মৌচাক সংগ্রহকারী। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা গাছের প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করেন। তিনি কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে সরাসরি চাক থেকে মধু চিপে বা কেটে বিক্রি করেন, যার ফলে মধু শতভাগ খাঁটি থাকে।