শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে খাঁচায় ফিরলো ‘সেলিব্রেটি’ নেকড়ে নেউকু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে খাঁচায় ফিরলো ‘সেলিব্রেটি’ নেকড়ে নেউকু

৯ দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা, নির্ঘুম রাত আর পুরো দক্ষিণ কোরিয়াকে কাঁপিয়ে দেওয়া এক উত্তেজনার অবসান ঘটলো। অবশেষে খাঁচায় ফিরেছে দেজন শহরের ও-ওয়ার্ল্ড চিড়িয়াখানা থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী নেকড়ে নেউকু। শুক্রবার ভোরে ড্রোন, পুলিশ আর সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এক বিশাল বাহিনীর অভিযানে অচেতন করা হয় এই ‘ফেরারি’ নায়ককে।

গত ৮ এপ্রিল আস্ত সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চম্পট দেয় নেউকু। ২০১৮ সালে এই চিড়িয়াখানা থেকে পালানো একটি পুমাকে মেরে ফেলার তিক্ত স্মৃতি থেকে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, নেউকু কি বাঁচবে? খোদ প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং বিবৃতি দিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে নির্দেশ দেন নেউকু’কে জীবিত উদ্ধারের। পাহাড়ের আঁধারে গাড়ির হেডলাইটের আলোয় তার দৌড়ে চলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তাকে রাতারাতি ‘জাতীয় সেলিব্রেটি’তে পরিণত করে।

 

টানা ৯ দিন ড্রোন আর বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো নেউকু’কে যখন উদ্ধার করা হয়, দেখা যায় তার পেটে একটি বড় মাছ ধরার বড়শি আটকে আছে। তবুও দমে যায়নি সে। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বড়শিটি সরিয়ে তাকে এখন বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নেউকু’র ফিরে আসায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারনেটে বইছে আনন্দধারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘ওয়েলকাম ব্যাক নেউকু’ ট্রেন্ডিংয়ে। দেজন শহরের মেয়র লি জাং-উ পুরো জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

১৯৬০-এর দশকে বিলুপ্ত হওয়া নেকড়ে প্রজাতির এই বংশধর এখন স্থিতিশীল। আপাতত চিড়িয়াখানা বন্ধ রেখে বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা। তবে নেউকু যে এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ‘দর্শনীয় বস্তু’, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সূত্র: এপি

Ads small one

এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা

অরুণ সান্যাল
এই পৃথিবী বড়ই অভাগা
এখানে সুখের চেয়ে
চোখের জলের মাত্রা বেশি দাগা।
মানুষের বুকে নেই মানুষের টান,
স্বার্থের বাজারে বিক্রি হয় পবিত্র সব মান।

স্নেহের আলো নিভে যায় স্বার্থের ঝড়ে
বিশ্বাস হারিয়ে যায় শূন্যতার ঘরে।
চোখের পলকে আপন মানুষ অচেনা হয়ে যায়,
ভালোবাসা শুধু আজ বেদনার খেলায় হারায়।

তবুও মানুষ বাঁচে মিথ্যে আশার টানে,
অশ্রু লুকিয়ে রাখে মলিন হাসির গানে।
ক্ষতের ওপর প্রলেপ মেখে পথ চলে একা,
ভাগ্যের সাথে যেন নেই কোনো সুখের লেখা।
তবুও তো এই ধরায় কোনো এক কোণে,
ভালোবাসা বেঁচে থাকে নিঃস্ব মানুষের মনে।

“কথার ভার”

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“কথার ভার”

 

 

বাপী নাগ
রাগ-অভিমান ভুলে একবার এসো, জমে থাকা কথাগুলো একটু ভাগ করে নিই।
কী হলো, শুনতে পাচ্ছ? এখনও কিছু না-বলা কথা রয়ে গেছে— সময়ের ভাঁজে, নীরবতার আড়ালে।
না না, ভয় নেই! আমার শত দুঃখের ভার তোমায় নিতে হবে না, তোমার সুখের অংশও আমায় দিতে হবে না। শুধু কিছু কথার বিনিময়— হয়তো এতেই মনটা একটু হালকা হবে।
রাগ কোরো না, তোমার রোজনামচায় জমে থাকা কিছু কথা আজ নির্দ্বিধায় আমায় বলতে পারো। আমিও প্রতিদিনের বুকের ভেতর জমে থাকা কিছু অপ্রকাশিত কথা নিঃসংকোচে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই।
বাকশক্তি থাকা কালীন কথা বিনিময় ছাড়া বেঁচে থাকা বোধহয় অসম্ভব। কারণ, কিছু নীরবতা শব্দের অপেক্ষায়ই বেঁচে থাকে।
আজ নিরবে, নিঃশব্দে, জমে থাকা অনেক কথা বলতে চাই। নেবে কি আমার কথার ভার? শুনবে কি আমার হৃদয়ের দীর্ঘদিনের নীরব স্বীকারোক্তি?
বিশ্বাস করো, সব কথা অভিযোগ নয়, কিছু কথা শুধু মানুষ হয়ে মানুষের পাশে বসার আকুতি। কিছু কথা ক্ষমা চায়, কিছু কথা ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া সেই সহজ সম্পর্ক।
হয়তো কথা বললেই দুঃখের যন্ত্রণা পুরোপুরি মুছে যাবে না, তবু বুকের ভারটা একটু হালকা হবে। কারণ, না-বলা কথার চেয়ে বলা কথার আফসোস অনেক কম।
তাই একবার এসো— শুধু কিছুক্ষণ সময় নিয়ে। আজ কথা হোক, কারণ একদিন হয়তো সময় থাকবে, কিন্তু বলার মতো মানুষটি আর থাকবে না।
কথারা কখনও দূরত্ব বাড়ায় না, দূরত্ব বাড়ায় শুধু নীরবতা। তাই এসো, অভিমানের দেয়াল ভেঙে একবার কথা বলি… হিসেব-নিকেশ নয়,আজ শুধু হৃদয়ের দরজাটা খুলে দিই। যদি কিছুই ফিরে না পাই,তবু এই তৃপ্তিটুকু থাকবে—চেষ্টা করেছিলাম,নীরবতাকে হারিয়েকথার আলোয় ফিরে আসতে।
শেষবারের মতো বলছি- এসো, একবার কথা হোক।
হয়তো সব অভিমান মুছে যাবে না, সব প্রশ্নের উত্তরও মিলবে না। তবু কিছু নীরবতার অবসান হবে, কিছু দীর্ঘশ্বাস ফিরে পাবে মুক্তির পথ।
জীবন তো অনিশ্চিত— কে কখন কোন মোড়ে হারিয়ে যায়, তা কেউ জানে না। তাই সময় থাকতে কথাগুলো বলে নিই, ক্ষমাগুলো চেয়ে নিই, ভালোবাসাগুলো জানিয়ে দিই।
কারণ, একদিন হয়তো মানুষ থাকবে না, শুধু থেকে যাবে— না-বলা কিছু কথা….. আর বুকভরা একরাশ আফসোস।

শ্রাবণের বর্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
শ্রাবণের বর্ষা

দুখু হুমায়ুন
শ্রাবণ মেঘে বরষা নামে
বাংলার পল্লী-গাঁয়,
টিনের চালে মজার তালে
নূপুর বেজে যায়।
তালের পাতা শালের পাতা
বৃক্ষ-লতা যত,
নাচছে হেলে রূপের ছন্দে
দক্ষ পটুয়ার মতো।
হঠাৎ ফাঁকে থামলো বৃষ্টি
সূর্য আঁখি খোলে,
উঠলো হেসে পল্লী বাংলা
অরূপ রূপের কোলে।

আকাশকোণে ফিনকি দিয়ে
রংধনুটা হাসে,
ছড়িয়ে পড়ে রূপের ছটা
সাতটি রঙের পাশে।

হঠাৎ আবার আসলো ধেয়ে
ঝমঝমিয়ে ঢল,
একটুখানি জিরিয়ে বুঝি
ফিরে পেল বল।
শ্রাবণ দিনে এমনি চলে
রূপের লুকোচুরি,
বাংলার বুকে বর্ষা সাজায়
হাজার রূপের ডালি।