সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

৬ উইকেটে জিতে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটে জিতে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ

 

দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ (হৃদয় ৩০*, মিরাজ ৮*; সাইফ ৮, সৌম্য ৮, তানজিদ ৭৬, লিটন ৭, শান্ত ৫০*)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: ৫ উইকেট নেওয়া রানা।

নিউজিল্যান্ড ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (স্মিথ ১৮*; নিকোলস ১৩, ইয়াং ২, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, কেলি ৮৩, ক্লার্কসন ৬, ফক্সক্রফট ১৫, টিকনার ১২, লেনক্স ০, রুর্ক ৬)

প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা (১-১) ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৫.৩ ওভারে তাড়া করেছে স্বাগতিক দল।

২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনে শুরুর ধাক্কার পর জয়ের মূল ভিতটা গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে স্কোরবোর্ডে রান তুলেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে মিলে যোগ করেন ১২০ রান। শেষ পর্যন্ত ৭৬ রানে ফিরেছেন। তার পর জয়ের পথে দলকে অনেকটা এগিয়ে নেন শান্ত। তিনিও ফিফটি তুলে নেন ৭১ বলে। পরে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় দলের স্কোর ছিল ১৬৭। তার পর বাকি পথটা সামাল দেন তাওহীদ হৃদয় (৩০*) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৮*)।

ম্যাচটা ছিল লিটন দাসের শততম ওয়ানডে। লিটন অবশ্য এদিন আহামরি কিছু করতে পারেননি। তামিমের আউটের পর দ্রুতই ফিরেছেন ৭ রানে।

কিউইদের হয়ে ৩৬ রানে দুটি উইকেট নেন জেইডেন লেনক্স। একটি করে নেন নাথান স্মিথ ও উইল ও’রুর্ক।

ফিফটির পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেন শান্ত

লিটনের ফেরার পর হৃদয়কে নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭১ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি। তবে ফিফটির পর পরই তীব্র গরমে ক্র্যাম্প করতে দেখা যায় তাকে। হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল দেখে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

দ্রুত ফিরলেন লিটনও

জয়ের জন্য তখনও দরকার ৪৪ রান। নতুন নামা লিটন মেরে খেলার মাশুল দিলেন দ্রুতই। লেনক্সের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। নিজের শততম ওয়ানডেতে স্মরণীয় কিছু করতে পারলেন না। ক্যাচ তুলে ৭ রানে আউট হয়েছেন। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ১৫৪ রানে।

তানজিদকে ৭৬ রানে থামালেন লেনক্স

২১ রানে দুই উইকেট পতনের পর বাংলাদেশকে দিশা দেখিয়েছেন মূলত ওপেনার তানজিদ হাসান। কিউই বোলারদের বেধড়ক পিছিয়ে দ্রুত স্কোরবোর্ডে রান তুলেছেন তিনি। ৩৩ বলে তুলে নেন ফিফটি। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে মিলে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১২০ রান। তার পর আরও চড়াও হতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২৩তম ওভারে লেনক্সের বলে ছক্কা মারার পরের বলেই ক্যাচ তুলে ৭৬ রানে থেমেছেন তানজিদ। তার ৫৮ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ১৪১ রানে।

৩৩ বলে তানজিদের ফিফটি

২১ রানে দুই উইকেট পড়ার পর অনায়াসে খেলছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নিয়েছেন তানজিদ। তাও আবার সেটা করেছেন ছক্কা মেরে।

তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিং, পঞ্চাশ পার বাংলাদেশের

২১ রানে ২ উইকেট পড়ার পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল করেছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারেই ২ উইকটে ৫১ রান তুলে ফেলেছে বাংলাদেশ। এই সময় ১৯ বলে ২৫ রান তুলেছেন তানজিদ। সঙ্গী শান্ত অবশ্য সতর্ক থেকে খেলছেন।

সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও

১৯৯ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে হারিয়েছে দুই উইকেট। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের শেষ ডেলিভারিতে বোল্ড হন হাত খোলার চেষ্টায় থাকা ওপেনার সাইফ হাসান (৮)। তার পর একইভাবে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকারও। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ও’রুর্কের বলে আপার কাট করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ রানে।

১৯৮ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ১৯৯ রান।

বল হাতে মূল সর্বনাশটা করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ৩২ রানে এক মেডেনে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুটি ৩২ রানে দুটি নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি মেডেন দিয়েছেন। একটি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন।

রানা তিনবার ওভারের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে প্রভাব ফেলেন। শুরুতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে নেন দুটি উইকেট, এরপর ২৯তম ওভারে আরেকটি। শেষদিকে তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে আরও দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংস শেষ করেন।

ফিল্ডিংয়েও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় বাংলাদেশ। একাধিক সিঙ্গেল বাঁচানোর পাশাপাশি ডিপে কয়েকটি নিশ্চিত চার ঠেকিয়ে কিউইদের রান আটকেছে তারা। উইকেটকিপার লিটন দাস নেন দুটি চমৎকার ক্যাচ, আর তাওহীদ হৃদয় নেন তিনটি! যার মধ্যে ৪৯তম ওভারে লং-অনে ডাইভ দিয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট।

ব্যাট হাতে একার লড়াইটা করেছেন ওপেনার নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রান করেছেন তিনি। বাকিরা সেভাবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি।

নাহিদের পঞ্চম শিকার লেনক্স

শুরু থেকে নাহিদ রানার পেস বিপদে ফেলেছে কিউইদের। শেষটাতে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৪৬তম ওভারে তার পঞ্চম শিকার হয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নতুন ব্যাটারকে একেবারে বোল্ড করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড নবম উইকেট হারায় ১৮৩ রানে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন নাহিদ।

শরিফুলের আঘাতে পড়লো কিউইদের অষ্টম উইকেট

উইকেট পড়তে থাকায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়া দেখা যায় ব্লেয়ার টিকনারের। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। ৪৪.৫ ওভারে শরিফুলের বলে মেরে খেলতে গেলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২ রানে। তাতে ১৮২ রানে অষ্টম উইকেট পড়েছে সফরকারীদের।

নাহিদ রানার চতুর্থ শিকার ফক্সক্রফট

দিনে টানা তৃতীয়বার প্রথম বলে আঘাত হেনে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। তাতে অবশ্য মোট চতুর্থবার উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। শেষ দিকে এসে ৪৩তম ওভারে তার শিকার হয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। পুল করতে গিয়ে ১৫ রানে হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েছেন কিউই ব্যাটার। তাতে ১৬৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডের।

কেলির আউটের পর ক্লার্কসনকে ফেরালেন রিশাদ

সতীর্থরা ব্যর্থ হলেও শুরু থেকে প্রান্ত আগলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ওপেনার নিক কেলি। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। ৩৭তম ওভারে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো কেলিকে থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তাকে হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি। কেলি আউট হন ৮৩ রানে। তার বিদায়ে ১৪৫ রানে পড়েছে পঞ্চম উইকেট। পাশাপাশি ভেঙেছে ফক্সক্রফটের সঙ্গে কেলির ৩৭ রানের জুটি।

পরের ওভারে নতুন নামা ক্লার্কসন রিশাদের বলে চার মারলেও থিতু হতে পারেননি। রিশাদের ঘূর্ণিতে ৬ রানে থেমেছেন কিউই ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৬ রানে। যার ফলে টানা দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আব্বাসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রানা

তৃতীয় উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের জুটিতেই স্কোর একশ ছাড়িয়েছে। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ২৯তম ওভারে আবারও আক্রমণে এসে এই জুটি ভেঙে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন নাহিদ রানা। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। ফেরার আগে ৩৪ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি।

কেলির ফিফটিতে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড

৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়েছেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে এই জুটি। যার মূল দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন কেলি। ৬৬ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। তাদের জুটিতে ভর করে ২৭ ওভারে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড।

ল্যাথামকে ফেরালেন সৌম্য

কিউইদের রানই নিতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২৮ রানে দুই উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ল্যাথাম ও কেলি। ২৪ রান যোগ করেন তারা। ১৮তম ওভারে দলীয় ফিফটির পরই সৌম্য সরকারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক ল্যাথাম (১৪)। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনে আরও চাপে পড়েছে সফরকারী দল।

টানা দ্বিতীয় ওভারে নাহিদের আঘাত

অষ্টম ওভারের পর দশম ওভারে আবারও আঘাত হেনেছেন নাহিদ রানা। এবারও উইকেট নেন প্রথম বলে। তার গতি আর বাউন্সের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন নতুন ব্যাটার উইল ইয়াং। বলটা সামলাতে পারেননি। ব্যাটে স্পর্শ করে চলে যায় সৌম্য সরকারের হাতে। ইয়াং বিদায় নেন ২ রানে। নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২৮ রানে।

আক্রমণে এসেই নাহিদের উইকেট

টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও কিউইদের দুই ওপেনারকে সহজে রান দেননি পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। নিখুঁত লাইন লেংথে বল করে সফরকারী ব্যাটারদের হতাশ করেছেন। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ২৫। অষ্টম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে প্রথম বলেই এলবিডাব্লিউতে ফেরান তিনি। নিকোলস ২৬ বলে সাজঘরে ফিরেছেন ১৩ রানে। নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় ২৫ রানে।

আবারও টস হেরেছে বাংলাদেশ, একাদশে সৌম্য

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে আবারও ব্যাটিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তার মানে এই গরমে আবারও ফিল্ডিং করতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। ম্যাচ যথারীতি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছে। তাই এই সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচ জিততে মরিয়া স্বাগতিকরা। তার ওপর এই ম্যাচটা আবার লিটন দাসের শততম ওয়ানডে।

প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংটা খুবই বাজে করেছে বাংলাদেশ। ৩৭ রানে হারিয়েছে শেষ ৬ উইকেট। গুটিয়ে যায় ২২১ রানে। এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।

একাদশে কারা

গত ম্যাচ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, তার জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অবশ্য অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলছে।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:
উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও জেইডেন লেনক্স।

Ads small one

শহরে ফোর লেনের নতুন সম্ভাবনা: হাল ধরবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
শহরে ফোর লেনের নতুন সম্ভাবনা: হাল ধরবে কে?

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সাতক্ষীরা শহর এখন এক যানজটের নগরী। যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ১০০ বছরের পুরাতন এই শহরের যানজটের প্রধান কারণ অপ্রশস্ত সড়ক। মাত্র ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটের অপ্রশস্ত সড়ক নিয়ে রীতিমত এই শহরটি ধুকছে এবং বসবাসের অযোগ্য হওয়ার পথে। সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী শহরের প্রধান সড়ক গুলো ফোর লেনে রূপান্তর করা। এরই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্যাকেজ-১ এ শহরাংশে ফোর লেন সড়ক সংযুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের টেন্ডার ও ভূমি অধিগ্রহণ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরে পুনরায় ফোর লেন রাস্তা নির্মাণের এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন শুধু দরকার সাতক্ষীরার জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক প্রচেষ্টা।

সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বিগত আওয়ামীলীগ সরকার সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ (জেড-৭৬০২) এবং কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী (জেড-৭৬১৭) মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে শ্যামনগর এবং সীমান্তবর্তী ভেটখালী পর্যন্ত নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮২২ কোটি ৪৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ, সড়ক প্রশস্তকরণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট পুনর্র্নিমাণ ও মজবুতীকরণ, সার্ফেসিং, আরসিসি বক্স কালভার্ট, বাস-বে এবং ড্রেন নির্মাণসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হকের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে সাতক্ষীরা শহরের যানজট এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে শহরাংশের প্রথম ৫.৩০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা জমা দেয়া হয়েছিল। শহরের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সবার প্রত্যাশা ছিল, অবশেষে সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কটি আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

কিন্তু পরবর্তীতে সাতক্ষীরার বাকি জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আনা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫.৩০ কিলোমিটারের ফোর লেনের প্রস্তাবনাটি বাতিল করে সেটিকে দুই লেনে নামিয়ে আনা হয়। সংশোধিত এই প্রস্তাবনাই একনেক কর্তৃক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। ফোর লেনের এই প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার ফলে সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে।

ফোর লেন বাতিল হয়ে বর্তমানে যখন সড়কের কাজ চলমান রয়েছে তখন হতাশার মাঝে সাতক্ষীরা বাসীর জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে প্রকল্পের সাম্প্রতিক একটি আর্থিক মূল্যায়ন। যেকোনো মেগা প্রকল্পে সাধারণত ব্যয় বৃদ্ধির খবরই বেশি শোনা যায়, তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার কারণে এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ছয়টি প্যাকেজে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি প্যাকেজেই প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ন্যূনতম ১৬ শতাংশ বা তারও বেশি নি¤œদরে দরপত্র দাখিল করে। এর ফলে প্রকল্পের পূর্ত কাজ বা নির্মাণ ব্যয় থেকে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্যও একটি বড় অঙ্কের বাজেট রাখা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে আইনের ৭ ধারা সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত প্রাক্কলনে দেখা যাচ্ছে, ভূমি অধিগ্রহণ খাতেও আনুমানিক ৪৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে, ঠিকাদারদের নি¤œদরে কাজ নেওয়া এবং ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় হ্রাস পাওয়ার ফলে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ১৬৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ সাশ্রয়কৃত অর্থ এখন সাতক্ষীরার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

সাশ্রয়কৃত এই ১৬৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না পাঠিয়ে যদি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে পুনরায় প্যাকেজ-১ সংশোধন করা হয়, তবে শহরাংশের ৫.৩০ কিলোমিটার সড়কটিকে এই ১৬৯ কোটি টাকা থেকে সহজেই চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হবে । যেহেতু অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, তাই মন্ত্রণালয় চাইলেই ডিপিপি সংশোধন করে পূর্বের চার লেনের প্রস্তাবনাটি পুনরায় যুক্ত করতে পারে। এতে শহরের যানজট নিরসন হবে এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শতভাগ সফল হবে।

সাতক্ষীরার বর্তমান ৪ জন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক মহোদয়া, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ, সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন কমিটি গুলোর দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে সাতক্ষীরার সংসদ সদস্যদের অতি সত্ত্বর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পটির সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন করানোর ব্যবস্থা করা উচিত। যাতে সাতক্ষীরা শহরের ৫.৩০ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেন রূপান্তরিত হয়।
সাতক্ষীরা একটি বর্ধিষ্ণু জেলা শহর। সময়ের সাথে সাথে এই শহরের জনসংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর এলাকার রাস্তাঘাটগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকা-ও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে শহরের ভেতরের অংশ পর্যন্ত প্রতিদিন ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ থেকে আসা বাস এবং স্থানীয় থ্রি-হুইলারগুলোর চাপে শহরের রাস্তাগুলো প্রায়শই অচল হয়ে পড়ে। একটি চার লেনের রাস্তা নির্মিত হলে শহরের প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে যাবে এবং যানজট নিরসন হবে।

সাতক্ষীরার মতো সম্ভাবনাময় একটি জেলা শহরের প্রধান সড়কের এই দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাশ্রয়কৃত ১৬৯ কোটি টাকা সাতক্ষীরা বাসীর জন্য এক প্রকার আশীর্বাদ। এই অর্থকে কাজে লাগিয়ে শহরাংশের সড়ককে ফোর লেনে রূপান্তর না করতে পারলে সেটি হবে বর্তমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন সংসদ সদস্যের জন্য বড় ধরনের ব্যর্থতা। সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়নের আশায় তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। সেই আশা নিরাশা হয়ে যাবে সাতক্ষীরা বাসীর জন্য যদি তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে। আর সেই ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়বে আগামীর সকল নির্বাচনে।

সাতক্ষীরা শহরে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ফোর লেন সড়ক নির্মাণ এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। পূর্বে ফোর লেন বাতিল হওয়ায় যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল, সাশ্রয়কৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তা আনন্দে রূপান্তরিত হতে পারে। সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জোরালো ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সাতক্ষীরা বাসীর এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব। সাতক্ষীরা বাসী আশা করে, সাশ্রয়কৃত এই ১৬৯ কোটি টাকা দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের ৫.৩০ কিলোমিটার ফোর লেন এবং আনুষঙ্গিক উন্নয়ন কাজ দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং সাতক্ষীরা একটি আধুনিক ও যানজট মুক্ত শহর হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজারবাগান, সাতক্ষীরা

ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ধরিত্রী মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমাদের একমাত্র পরিচিত আশ্রয়স্থল। ধরিত্রী আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মল বায়ু, পানি, খাদ্য এবং প্রাকৃতিক উপাদান সরবরাহ করে।
ধরিত্রী শব্দের অর্থ হলো পৃথিবী, ধরণী বা ধরা। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ হলো যা ধারণ করে বা চরাচর ধারণকারী। পৃথিবীর সমার্থক শব্দ হিসেবে: ধরণী, অবনী, বসুধা, বসুন্ধরা বা ক্ষিতি অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়।

মহাবিশ্বে এ পর্যন্ত কেবল পৃথিবীই প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। এটি আমাদের খাদ্য, আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। ধরিত্রী বা আমাদের পৃথিবী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার, তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। ধরিত্রী আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বায়ু, পানি, খাদ্য এবং বাসস্থান প্রদান করে।

 

ধরিত্রী আমাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। সাগর, নদী, পাহাড় এবং বনভূমি নিয়ে গঠিত ধরিত্রী মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ধরিত্রী কাজ করে। পাহাড়-পর্বত ও বন উজাড় করলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। ধরিত্রী আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ, অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ুম-ল এবং মিঠা পানির আধার হিসেবে কাজ করে, যা সব ধরণের প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ধার্য করা একটি দিবসই হলো ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সানফ্রান্সিস্কোতে ইউনেস্কো সম্মেলনে শান্তি কর্মী জন ম্যাককনেল পৃথিবী মায়ের সম্মানে একটা দিন উৎসর্গ করতে প্রস্তাব করেন এবং শান্তির ধারণা থেকে, উত্তর গোলার্ধে বসন্তের প্রথম দিন হিসেবে ১৯৭০ সালে ২১ মার্চ প্রথম এই দিনটা উদযাপিত হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই দিনই পরে একটা পরিঘোষণায় অনুমোদিত হয়, যেটা লিখেছিলেন ম্যাককনেল এবং মহাসচিব উ থান্ট জাতি সংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এক মাস পর একটা পরিবেশগত শিক্ষামূলক দিন হিসেবে ১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল একটা আলাদা ধরিত্রী দিবসের অবতারণা করেন যুক্তরাষ্ট্র সেনেটর গেলর্ড নেলসন।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস প্রতি বছর ২২ এপ্রিল পরিবেশ রক্ষার সমর্থনে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। ধরিত্রী দিবস পালনের উদ্দেশ্য পৃথিবী এবং এর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বন উজাড়ের কারণে এই বাসযোগ্য গ্রহটি হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমাদের এই পৃথিবীকে রক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরি।

মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির সবকিছু একপক্ষীয়ভাবে ভোগ করে আসছে, মানুষ তার চাহিদার সীমানাকে নির্দিষ্ট করতে ভুলে গেছে। মানুষ তার ভোগ-বিলাসপূর্ণ অফুরন্ত চাহিদা আর উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন উজাড় করছে,পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলা ও সমুদ্র সৈকতে আবাসিক এলাকা করছে। কলকারখানার বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস গ্যাসসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের নিঃসরণ, ক্ষতিকারক কেমিক্যালের ব্যবহারসহ নানা ধ্বংসাত্মক কাজ করায় ফল হিসেবে মাটি, পানি, বায়ুদূষণ, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরফ গলে সাগরের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে বিশ্বের বহু জনপদ। বিশ্বে এখন এই যে ঘন ঘন ভূমিকম্প, খরা, অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল নামছে তা মানুষে অপরিণামদর্শিতার কারণে ঘটছে। বিশ্বের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কার্বনের নিঃসরণ না কমে বরং তা বাড়ছে।

ধরিত্রীর বয়স আনুমানিক ৪৫০ কোটি বছর। দীর্ঘ পরিক্রমায় ধরিত্রী যেমন সুগঠিত হয়েছে, ধারণ করেছে প্রাণ-অপ্রাণসহ নানা প্রাকৃতিক উপাদান। ধরিত্রী নিজস্ব নিয়মশৃঙ্খলে আবদ্ধ। ধরিত্রীর এ শৃঙ্খল তার প্রতিটি উপাদানকে একটি একক নিয়মে আবদ্ধ করে রাখে। এ নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই দেখা দেয় বিপর্যয়। তাই যখন ধরিত্রীর এই শৃঙ্খলে কোনোভাবে আঘাত আসে, তখন তার প্রভাব প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের ওপর পড়ে। প্রকৃতি যখন বিরূপ হয় মানুষ তখন অসহায় হয়ে পড়ে। পৃথিবী সুস্থ না থাকলে মানুষও বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। তাই অসুস্থ পৃথিবীকে ধীরে ধীরে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তার জন্য মানুষকে পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী ধরিত্রী দিবস পালন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য পরিবেশ রক্ষা এবং পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকলে মানব সভ্যতা হুমকির মুখে পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সবুজ বা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পৃথিবী হলো আমাদের একমাত্র ঘর এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ এর ওপরই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ধরিত্রীর সুস্থ থাকা জরুরি। ধরিত্রী দিবস পালনের মাধ্যমে প্রতিবছর এই সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতি যেন মাতৃশ্রদ্ধা পায়। তাই আমাদের প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে সম্মান করা উচিত।

পৃথিবীর অস্তিত্বসংকটের জন্য প্রকৃতি দায়ী নয়, মানুষ দায়ী। আর তাই পৃথিবী রক্ষার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। কেন পৃথিবীর ক্ষতি হচ্ছে এবং কীভাবে তা কমানো যায় তা জানার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। ধরিত্রীকে রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

রাজশাহীর অভিষেক ম্যাচে জয়ে শুরু নিগারদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর অভিষেক ম্যাচে জয়ে শুরু নিগারদের

স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ নারী দলের ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের। ঐতিহাসিক দিনটি জয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ওয়ানডেতে ৩ উইকেটে হারিয়েছে নিগার সুলতানার দল।

ম্যাচটা কঠিন করে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০৬ রানের লক্ষ্যে ৩৪ রানের মধ্যে হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। তার পর ধাক্কা সামাল দেন শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। ৭৮ রানের জুটি গড়েন তারা। মোস্তারি ৪১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে শারমিনের সঙ্গে জুটি গড়েন স্বর্ণা আক্তার। সেখানেও তারা যোগ করেন ৭৮ রান। শারমিন ৮৬ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। তার ১২৭ বলের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার। তার পরই নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় শ্রীলঙ্কা। ১৯৯ রান থেকে ১ রান যোগ করতেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ! ২০০ রানে সপ্তম উইকেট পড়লেও পরে অবশ্য আর কোনও বিপদ হতে দেয়নি তারা। ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার।

লঙ্কান দল প্রথমে টস জিতে ব্যাট করেছে। ৯ উইকেটে তারা সংগ্রহ করে ২০৫ রান। যার পেছনে ভূমিকা রাখে হানসিমা করুনারত্নে ও ইমেশা দুলানির ফিফটি। হানসিমা করেন সর্বোচ্চ ৫৪, ইমেশা করেন ৫২। এছাড়া কাভিশা দিলহারি, হাসিনি পেরেরা উল্লেখযোগ্য ৩০ ও ২৭ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে ৩৬ রানে ৩টি উইকেট নেন রিতু মনি। ৩৮ রানে দুটি নেন নাহিদা আক্তার। একটি করে নেন মারুফা আক্তার, রাবেয়া খাতুন ও সোবহানা মোস্তারি।