মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও

দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৫ ওভারে ৩৪/২ (তানজিদ ১৭*, শান্ত ৪*; সাইফ ৮, সৌম্য ৮)

নিউজিল্যান্ড ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (স্মিথ ১৮*; নিকোলস ১৩, ইয়াং ২, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, কেলি ৮৩, ক্লার্কসন ৬, ফক্সক্রফট ১৫, টিকনার ১২, লেনক্স ০, রুর্ক ৬)

১৯৯ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে হারিয়েছে দুই উইকেট। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের শেষ ডেলিভারিতে বোল্ড হন হাত খোলার চেষ্টায় থাকা ওপেনার সাইফ হাসান (৮)। তার পর একইভাবে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকারও। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ও’রুর্কের বলে আপার কাট করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ রানে।

১৯৮ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ১৯৯ রান।

বল হাতে মূল সর্বনাশটা করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ৩২ রানে এক মেডেনে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুটি ৩২ রানে দুটি নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি মেডেন দিয়েছেন। একটি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন।

রানা তিনবার ওভারের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে প্রভাব ফেলেন। শুরুতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে নেন দুটি উইকেট, এরপর ২৯তম ওভারে আরেকটি। শেষদিকে তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে আরও দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংস শেষ করেন।

ফিল্ডিংয়েও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় বাংলাদেশ। একাধিক সিঙ্গেল বাঁচানোর পাশাপাশি ডিপে কয়েকটি নিশ্চিত চার ঠেকিয়ে কিউইদের রান আটকেছে তারা। উইকেটকিপার লিটন দাস নেন দুটি চমৎকার ক্যাচ, আর তাওহীদ হৃদয় নেন তিনটি! যার মধ্যে ৪৯তম ওভারে লং-অনে ডাইভ দিয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট।

ব্যাট হাতে একার লড়াইটা করেছেন ওপেনার নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রান করেছেন তিনি। বাকিরা সেভাবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি।

নাহিদের পঞ্চম শিকার লেনক্স

শুরু থেকে নাহিদ রানার পেস বিপদে ফেলেছে কিউইদের। শেষটাতে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৪৬তম ওভারে তার পঞ্চম শিকার হয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নতুন ব্যাটারকে একেবারে বোল্ড করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড নবম উইকেট হারায় ১৮৩ রানে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন নাহিদ।

শরিফুলের আঘাতে পড়লো কিউইদের অষ্টম উইকেট

উইকেট পড়তে থাকায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়া দেখা যায় ব্লেয়ার টিকনারের। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। ৪৪.৫ ওভারে শরিফুলের বলে মেরে খেলতে গেলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২ রানে। তাতে ১৮২ রানে অষ্টম উইকেট পড়েছে সফরকারীদের।

নাহিদ রানার চতুর্থ শিকার ফক্সক্রফট

দিনে টানা তৃতীয়বার প্রথম বলে আঘাত হেনে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। তাতে অবশ্য মোট চতুর্থবার উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। শেষ দিকে এসে ৪৩তম ওভারে তার শিকার হয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। পুল করতে গিয়ে ১৫ রানে হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েছেন কিউই ব্যাটার। তাতে ১৬৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডের।

কেলির আউটের পর ক্লার্কসনকে ফেরালেন রিশাদ

সতীর্থরা ব্যর্থ হলেও শুরু থেকে প্রান্ত আগলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ওপেনার নিক কেলি। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। ৩৭তম ওভারে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো কেলিকে থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তাকে হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি। কেলি আউট হন ৮৩ রানে। তার বিদায়ে ১৪৫ রানে পড়েছে পঞ্চম উইকেট। পাশাপাশি ভেঙেছে ফক্সক্রফটের সঙ্গে কেলির ৩৭ রানের জুটি।

পরের ওভারে নতুন নামা ক্লার্কসন রিশাদের বলে চার মারলেও থিতু হতে পারেননি। রিশাদের ঘূর্ণিতে ৬ রানে থেমেছেন কিউই ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৬ রানে। যার ফলে টানা দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আব্বাসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রানা

তৃতীয় উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের জুটিতেই স্কোর একশ ছাড়িয়েছে। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ২৯তম ওভারে আবারও আক্রমণে এসে এই জুটি ভেঙে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন নাহিদ রানা। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। ফেরার আগে ৩৪ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি।

কেলির ফিফটিতে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড

৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়েছেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে এই জুটি। যার মূল দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন কেলি। ৬৬ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। তাদের জুটিতে ভর করে ২৭ ওভারে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড।

ল্যাথামকে ফেরালেন সৌম্য

কিউইদের রানই নিতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২৮ রানে দুই উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ল্যাথাম ও কেলি। ২৪ রান যোগ করেন তারা। ১৮তম ওভারে দলীয় ফিফটির পরই সৌম্য সরকারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক ল্যাথাম (১৪)। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনে আরও চাপে পড়েছে সফরকারী দল।

টানা দ্বিতীয় ওভারে নাহিদের আঘাত

অষ্টম ওভারের পর দশম ওভারে আবারও আঘাত হেনেছেন নাহিদ রানা। এবারও উইকেট নেন প্রথম বলে। তার গতি আর বাউন্সের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন নতুন ব্যাটার উইল ইয়াং। বলটা সামলাতে পারেননি। ব্যাটে স্পর্শ করে চলে যায় সৌম্য সরকারের হাতে। ইয়াং বিদায় নেন ২ রানে। নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২৮ রানে।

আক্রমণে এসেই নাহিদের উইকেট

টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও কিউইদের দুই ওপেনারকে সহজে রান দেননি পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। নিখুঁত লাইন লেংথে বল করে সফরকারী ব্যাটারদের হতাশ করেছেন। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ২৫। অষ্টম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে প্রথম বলেই এলবিডাব্লিউতে ফেরান তিনি। নিকোলস ২৬ বলে সাজঘরে ফিরেছেন ১৩ রানে। নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় ২৫ রানে।

আবারও টস হেরেছে বাংলাদেশ, একাদশে সৌম্য

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে আবারও ব্যাটিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তার মানে এই গরমে আবারও ফিল্ডিং করতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। ম্যাচ যথারীতি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছে। তাই এই সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচ জিততে মরিয়া স্বাগতিকরা। তার ওপর এই ম্যাচটা আবার লিটন দাসের শততম ওয়ানডে।

প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংটা খুবই বাজে করেছে বাংলাদেশ। ৩৭ রানে হারিয়েছে শেষ ৬ উইকেট। গুটিয়ে যায় ২২১ রানে। এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।

একাদশে কারা

গত ম্যাচ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, তার জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অবশ্য অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলছে।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:
উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও জেইডেন লেনক্স।

Ads small one

৯ সেপ্টেম্বর: আক্রমণ থেকে শিক্ষা সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
৯ সেপ্টেম্বর: আক্রমণ থেকে শিক্ষা সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান। কিন্তু বিশ্বের বহু অঞ্চলে যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মানবিক সংকটের কারণে শিক্ষা আজও মারাত্মক হুমকির মুখে। বিদ্যালয় ধ্বংস হচ্ছে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হচ্ছে, আর লাখ লাখ শিশু তাদের শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় শিক্ষার অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখার বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ সেপ্টেম্বর ‘আক্রমণ থেকে শিক্ষা সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক দিবস’ পালন করা হয়।

২০২০ সালের ২৮ মে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাব ৭৪/২৭৫-এর মাধ্যমে এই দিবসটি ঘোষণা করে। কাতার রাষ্ট্র প্রস্তাবটি উত্থাপন করে এবং বিশ্বের ৬২টি দেশ এতে সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। ইউনেস্কো ও ইউনিসেফ যৌথভাবে দিবসটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয় করে আসছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সংঘাত ও সংকটের মধ্যেও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে হামলা ও সামরিক ব্যবহার থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

২০২৬ সালের দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলোÑ’আক্রমণের মধ্যেও কি শিক্ষা টিকে থাকতে পারে? মানবসমাজের স্থিতিস্থাপকতা ও অদম্য সক্ষমতা।’

এই প্রতিপাদ্য যুদ্ধ, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও সংকটের মধ্যেও শিক্ষা চালিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অসাধারণ দৃঢ়তা এবং পুনরুদ্ধার ক্ষমতাকে তুলে ধরে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; এটি আশা, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি।

দিবসটি ঘোষণার ছয় বছরেরও বেশি সময় পরও বৈশ্বিক পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের বিষয়। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী স্কুলের ওপর ১৬৮০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতÑবিশেষ করে ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, সুদান, মিয়ানমার, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং আফগানিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বহু বিদ্যালয় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ শিশু দীর্ঘকাল ধরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

শিক্ষার ওপর আক্রমণ বলতে কেবল বিদ্যালয়ে বোমা হামলা বা গোলাবর্ষণকেই বোঝায় না; এর পরিধি বিস্তৃত। যেমনÑশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা দখল করা; বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়কে সামরিক ঘাঁটি বা ব্যারাকে রূপান্তর করা; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা, অপহরণ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো; সংঘাতের জেরে শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া। এসব আক্রমণ শুধু শিক্ষার মৌলিক অধিকারই কেড়ে নেয় না, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও বিপন্ন করে তোলে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসামরিক অবকাঠামো হিসেবে স্বীকৃত। জেনেভা কনভেনশনের আলোকে সংঘাতের সময় এগুলোর ওপর হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেউশন ২৬০১/২০২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেয়। পাশাপাশি ২০১৫ সালে গৃহীত ‘সেফ স্কুলস ডিক্লারেশন’ যুদ্ধকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সামরিক ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

২০২৬ সালে ইউনেস্কো একটি ‘প্রিভেনটেটিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ অনুমোদন করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো সংকট শুরুর আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তীতে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা। জাতিসংঘের মহাসচিবও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম; তাই শিক্ষাকে কখনোই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হতে দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ যুদ্ধাবস্থা না থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে সবার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ‘সেফ স্কুলস ডিক্লারেশন’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্বের কিছু দেশ শিক্ষা সুরক্ষার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান, ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। অন্যদিকে ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও সুদান বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও সংঘাত এসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। একইভাবে মিয়ানমার, আফগানিস্তান এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রেও শিক্ষার নিরাপত্তা একটি বড় বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়।

শিক্ষার সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার একক দায়িত্ব নয়; এটি সমগ্র মানবসমাজের যৌথ অঙ্গীকার। এর জন্য জরুরিÑশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সকল প্রকার সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংঘাতমুক্ত রাখা; বিদ্যালয়কে সামরিক বা যেকোনো অশিক্ষাগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করা; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা; আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও ‘সেফ স্কুলস ডিক্লারেশন’ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা; শিক্ষার ওপর যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক আহ্বানের সপ্তম বর্ষে এসে ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য আমাদের সেই বার্তাই দেয়Ñমানবসমাজের অদম্য স্থিতিস্থাপকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তাই বিশ্বব্যাপী সকল পক্ষের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং এমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষা কখনোই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হবে না।

আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাজরা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে কাপসন্ডা বাজারে উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন বুলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. ইউনুছ আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, খাজরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর সাত্তার গাজী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবাদুল গাজী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান প্রমুখ। কর্মসূচিতে এসময় বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অহিদুল মোল্লা অংশগ্রহণ করেন। তারা দাবী করেন, উক্ত অহিদুল মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একাধিক মামলার আসামী।

 

বক্তারা আরো বলেন, বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতা তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাকে দলে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে এভাবে চিহ্নিত কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির মঞ্চে গ্রহণ করাকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কিছুতেই মেনে নেবে না। বক্তারা এসময় বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল মোল্লার গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি যাতে কোনোভাবেই বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: সাক্ষরতা অর্জন করি, উন্নত জীবন গড়ি”—এমন প্রত্যয়কে সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় এনে দক্ষ ও সচেতন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা সন্তোষস্বর সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাক্ষরতার গুরুত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।