শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভারে দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার মঞ্চও। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ৩টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মদরিচ ও রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের দুই অসাধারণ আইকন। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সৌভাগ্য হয়েছে, যা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। মদরিচের সঙ্গেও আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। যতটুকু দেখেছি, তিনি ভীষণ ভদ্র ও আন্তরিক একজন মানুষ। কিন্তু আগামীকাল একজনের যাত্রা শেষ হবেই। আমি চাই, সেটি যেন মদরিচের হয়।’

ক্রমশ সময় ফুরিয়ে আসছে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী মদরিচ এবং ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুজন মিলে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের ঝুলিতে উঠেছে মোট ছয়টি ব্যালন ডি’অর, যার পাঁচটিই রোনালদোর। আর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা জনমতের ঊর্ধ্বে থাকা ফুটবলার। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রাখা-ই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। ৪০ পেরিয়েও মদরিচ নিয়মিত খেলছেন এবং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা আমাদের অধিনায়ক রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, তারা মাঠে কী দিচ্ছেন এবং ড্রেসিংরুমে কী ধরনের উদাহরণ তৈরি করছেন।’

এবারের বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ যে তাদের পারফরম্যান্সে পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট।

পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। করেছেন দুটি গোলও। তবে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ২৫০ মিনিটের বেশি খেলা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বল স্পর্শ, বল দখল, প্রগ্রেসিভ পাস এবং দ্বৈরথে অংশ নেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে মদরিচ খেলেছেন ২২৯ মিনিট। একটি অ্যাসিস্টসহ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ২২৫ মিনিটের বেশি খেলা মিডফিল্ডারদের মধ্যে বল দখল ও দ্বৈরথের পরিসংখ্যানে তিনিও অনেকটাই নিচের দিকে।

তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই কিংবদন্তির চেয়ে তাদের সতীর্থদের ভূমিকাই হতে পারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইকে দুই কোচই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন।

এই জায়গায় পর্তুগালের শক্তি নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন নেভেস—প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে বিশ্বের সেরাদের একজন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মদরিচ ও মাতেও কোভাচিচের পাশাপাশি উদীয়মান পেতার সুচিচকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি মিডফিল্ড গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠেই। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে এটি হবে বিশাল এক লড়াই। সম্ভবত মধ্যমাঠের আধিপত্যই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।’

Ads small one

নিঃশব্দ বিদ্রোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
নিঃশব্দ বিদ্রোহ

 

জহুরুল হক জুলু
যারা ভেবেছিল
মানুষের কণ্ঠ চেপে রাখলেই
নদীর স্রোত থেমে যাবে,
তারা বোঝেনি-
জমে থাকা নীরবতাও একদিন
বজ্রের ভাষা শিখে নেয়।

এই নগরের বাতাসে আজ
অদ্ভুত এক ধাতব গন্ধ।
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অবিশ্বাসের কালো ছায়া।

চোখে চোখ পড়লেই
মানুষ এখন হিসেব কষে
কে বন্ধু, কে ছদ্মবেশী শত্রু।

একসময় বিকেলের মাঠে
শিশুরা দৌড়ে বেড়াতো পাখির মতো,
এখন সন্ধ্যা নামলেই
দরজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যায়।

মায়েরা জানালার ফাঁক দিয়ে
ফিরে আসা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে,
যেন প্রতিটি পদধ্বনি
ভয়ের কোনো সংবাদ বহন করে।

রাত গভীর হলে
অনেক ঘরে চুলা জ্বলে না,
তবু ক্ষুধার শব্দ
দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসে।

একজন বাবা অন্ধকারে বসে
নিজের হাত দুটো দেখেন—
কেন এত অসহায় লাগে আজ!
চারদিকে এত উচ্চারণ,
তবু সত্যের জন্য কোথাও জায়গা নেই।

মানুষের দীর্ঘশ্বাসগুলো
ধোঁয়ার মতো জমে আছে আকাশে।
যে মুখগুলো একদিন
স্বপ্নে দীপ্ত ছিল,
আজ সেখানে কেবল
ক্লান্ত সময়ের দাগ।

তোমরা শুনতে পাও না?
ভেঙে পড়া মানুষের বুকের ভেতর
কেমন প্রচ- শব্দ ওঠে!
সেটা কোনো ঝড় নয়,
কোনো সমুদ্রের গর্জনও নয়
সেটা বেঁচে থাকার শেষ আর্তি।

 

শুভ স্নান যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শুভ স্নান যাত্রা

 

 

বাপী নাগ
জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে পবিত্র
স্নানযাত্রা শুভ ক্ষণ।
স্নান যাত্রা’য় জাগে যে ভক্তের
অটল এ অনুরণন।
একশো আট’টি পবিত্র ঘড়ায়
মহাস্নান হয় আজ।
জগন্নাথ বলভদ্র ও সুভদ্রাকে
ভক্তি সোনার সাজ।

স্নানের পবিত্র ছোঁয়ায় দূর হয়
এই মনের ক্লান্তি।
প্রভুর চরণে নত হয়ে’ই মেলে
আজ চিরশান্তি।

বলভদ্র সুভদ্রা সনে মহা প্রভু
শ্রী জগন্নাথ মহান।
করুণা ধারায় ভাসিয়ে করেন
সুখ ও শান্তি দান।

নীলাচলের এই মহালীলা চির
পবিত্রতার এ জয়।
প্রভুর কৃপায় খুশি ভরে উঠুক
সবার জীবনময়।

পবিত্র মন ও ভক্তি নিয়ে করি
শ্রী’জগন্নাথে’র ধ্যান।
জয় শ্রী জগন্নাথ ধ্বনিতে ভরে
উঠুক এই মন প্রাণ।

শোধ নেবো বলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শোধ নেবো বলে

মুকুল ম্রিয়মাণ
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি,
রাগের, ক্রোধের- উদ্ধত ফণাগুলো অবদমন হয়ে গেছে সেই কবে,
এখন কোনো অপার্থিব ইশারায় অগ্নিচুল্লিতে চুপচাপ ফুটছে সব নির্ঘুম শান্ত্রিক ফুল।
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি আজ অব্দি,
ডুবে গেছে সব সংক্ষুব্ধ আবেগ, উবে গেছে সব ক্রুদ্ধস্বর আর প্রতিশোধের প্রতিচিন্তা।
অনুরাগের বিপ্রতীপ আনাগোনায়
অবশ্যম্ভাবী ভাবেই থেমে গেছে সব প্রতিপাক্ষিক দুঃখ বিলাপ;
কার বিরুদ্ধে শোধ নেবো?কার বিরুদ্ধেইবা ছুঁড়বো বিষমাখা তীর?
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি-
রক্তকণা থেকে মুছে গেছে সব ঘৃণা ও ধ্বংসের কার্তুজ,
তার ছুঁড়ে দেওয়া ব্যথা ও পাপ প্রণোদনা তাই আজ হয়েছে এক সুবিশাল প্রেমের স্মারক।