পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত পাচ দিনে নতুন করে জেলায় ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময় প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪১ জন রোগী। এ সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৭ জন রোগীকে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪১ জন। তবে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরের হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এর পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ৭ জন। এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং দেবহাটা ও কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক ১৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া সদর হাসপাতালে ৪০ জন এবং তালায় ২৯ এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া আশাশুনিতে ৫ জন, দেবহাটায় ১২ জন এবং কলারোয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সূত্র অনুযায়ী, গত চার দিনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জনের মতো রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর ১৫ জন, ৭ সেপ্টেম্বর ১৩ জন, ৮ সেপ্টেম্বর ২৩ জন এবং ৯ সেপ্টেম্বর ১৯ জন, ১০ সেপ্টেম্বর ১৯ জন এবং ১১ সেপ্টেম্বর ২ জন ডেঙ্গু রোগী নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, “জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে নতুন করে ১৫ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিন রোগী বাড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আক্রান্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার বিস্তার এবং বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিকে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে।”
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইকবাল মাহমুদ পিয়াল জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।
সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”