শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লেবাননের আকাশে ঘাতক ড্রোন: সাতক্ষীরায় নিঃস্ব দুই পরিবারের স্বপ্নের সমাধি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
লেবাননের আকাশে ঘাতক ড্রোন: সাতক্ষীরায় নিঃস্ব দুই পরিবারের স্বপ্নের সমাধি

এসএম শহীদুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ভালুকা চাঁদপুর। গ্রামের কর্মকার পাড়ায় ঢুকতেই কানে আসে কান্নার করুণ সুর। সেই সুরের উৎস শফিকুল ইসলামের জীর্ণ বাড়ি। অন্যদিকে, শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামেও বইছে একই শোকের মাতম। সেখানে তরুণ অবিবাহিত নাহিদুলের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।
লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এই দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে যারা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভিটেমাটি আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন পরবাসে, সেখানে ফলের দোকানে কাজ করতেন তারা। আজ তাঁদের মৃত্যুর খবর এলাকায় এনে দিয়েছে পাথরের নীরবতা।
শফিকুলের ঘরে দুই মেয়ের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কোন সান্ত¡নায় তাঁদের থামানো যাচ্ছে না। শফিকুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় শোকের দৃশ্য। শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন যেন পাথর হয়ে গেছেন। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন, আর জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছেন, “ওগো, তুমি কেন আমাদের একা ফেলে চলে গেলে? মেয়ে দুটোর কী হবে? কার কাছে ওরা বাবার আবদার করবে?”
রুমা খাতুন বলেন, দশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ যায় শফিকুল। এখন সুদে-আসলে সেই ঋণের মাত্রা প্রায় ১২ লাখে ঠেকেছে। কীভাবে এই ঋণ শোধ হবে আর কীভাবে দুই মেয়ের লেখাপড়া চালাবেন? কীভাবে চলবে সংসার? এভাবে বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
শফিকুলের বড় মেয়ে তামান্না আক্তার মৌ এবার এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। বাবার সেই স্বপ্নের কথা মনে করে মৌ বারবার মুর্ছা যাচ্ছে। সে ডুকরে কেঁদে বলছে, “বাবা তো বলেছিল ঈদে আমাদের জন্য নতুন জামা পাঠাবে। এখন বাবার বদলে লাশ আসবে কেন? আমি এখন কাকে বাবা বলে ডাকব?”

 


পাশেই বসে কাঁদছে ছোট মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্নি আক্তার বৃষ্টি। বাবার অভাব বুঝতে শেখার আগেই সে আজ এতিম। বৃষ্টির কান্নায় প্রতিবেশী মহিলারাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। শফিকুলের মা মাটিতে আছাড়ি-পাছাড়ি করছেন। তাঁর বিলাপ যেন থামছেই না।
নিহত শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারে একটু সুখ আসবে বলে। এখন আমার ছেলেটা লাশ হয়ে ফিরতেছে। আমি আমার ছেলের মুখটা শেষবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে আকুতিÑযেন দ্রুত আমার ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনে।’
স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ বলেন, ‘শফিকুল ইসলামের পরিবার খুবই দরিদ্র। ঋণ করেই তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা। এখন সেই বাবা ছেলের লাশ ফেরত পেতে আকুতি করছেন। বিদেশ থেকে মরদেহ আনার সামর্থ্যও তাদের নেই। সরকারের উদ্যোগেই মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া উচিত।’
নিহতের মেয়ে তামান্না আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা দুই বোন, আমাদের কোনো ভাই নেই। আব্বু আমাদের ভালো রাখার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন আমরা শুধু চাই, সরকার যেন দ্রুত আব্বুর লাশ দেশে আনে। শেষবার আব্বুকে দেখতে চাই।’
শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, ‘দুই মেয়ের পড়াশোনা আর সংসারের ভালো ভবিষ্যতের আশায় ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। আমি এখন কীভাবে বাঁচবো?’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর বাবার খুব ইচ্ছা ছিল দুই মেয়েকে ভালোভাবে বিয়ে দেবে। সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল।’
স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর কলেজের অধ্যক্ষ এআরএম মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি বলেন, ‘পরিবারকে সুখে রাখার আশায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে মাত্র তিন মাস আগে বিদেশে গিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যেই তার মৃত্যুসংবাদ এলো। পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়।’
শফিকুলের প্রতিবেশী ও স্থানীয় হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ বাবলু বলছিলেন, “শফিকুল ছিল পরিবারের একমাত্র আশার আলো। গত ২০ রমজান অনেক স্বপ্ন নিয়ে সে বিদেশে গিয়েছিল। এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই সব শেষ।”
ধুলিহর ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, “শফিকুল অনেক পরিশ্রমী ছেলে ছিল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সে লেবানন গিয়েছিল পরিবারের সুদিন ফেরানোর লড়াই শুরু করতে। কিন্তু লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ঘাতক ড্রোনের আঘাতে সব চূর্ণ হয়ে গেল।”

 


এদিকে নিহত নাহিদুলের বাড়িতেও চলছে স্বজনদের আহাজারি। আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছিলেন বড়। নাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। মা বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বিড়বিড় করে বলছেন, “বাবা রে, তুই তো বললি ভালো আছিস, কয়েক দিন পর টাকা পাঠাবি। এখন তোর লাশ কেন আসবে?” নাহিদুলের বাবা আব্দুল কাদের নির্বাক হয়ে বসে আছেন, তাঁর দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে চড়া সুদে ঋণ করে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেই ঋণের কথা মনে করে স্বজনরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
নিহত নাহিদুল ইসলামের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমার দুইটা ছেলে। বড় ছেলে নাহিদকে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার লাশটা দেশে এনে যেন মাটি দিতে পারিÑসরকারের কাছে এইটুকুই দাবি।’
নাহিদুল ইসলামের চাচা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমার ভাইপোর সাথে শেষবার কথা হয়। ভিডিও কলে সে দেখাচ্ছিল আশপাশে বোমা ফেলা হচ্ছে। সে বলছিল দ্রুত ফোন রাখতে, না হলে ট্র্যাকিং করে হামলা হতে পারে। সন্ধ্যায় জানতে পারি, সে নিহত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এখন পরিবারের একটাই দাবিÑদ্রুত যেন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “এই দুটি পরিবার অত্যন্ত অসহায়। ঋণ করে সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। শফিকুলের মেয়ে দুটি এখন পড়াশোনা করবে কীভাবে? পরিবার দুটি এখন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কে শোধ করবে, আর এই এতিম সন্তানদের কে দেখবে?”
এদকি বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে নাবাতিয়েহ প্রদেশের জেবদিন গ্রামের একটি আবাসিক বাড়িতে অতর্কিত ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই বাড়িতেই থাকতেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং নাহিদুল ইসলাম (২৬)। হামলায় ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তাঁরা। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শফিকুল ও নাহিদুল ছাড়াও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকার একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে ড্রোন হামলায় আরও দুই স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওই এলাকা দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হয়। বর্তমানে দুই বাংলাদেশির মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও বাস্তবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত থামেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের নিরপরাধ প্রবাসী শ্রমিকরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, ‘দুইজন নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। এর মধ্যে একজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। আমরা পরিবারের সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছি।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘নিহত পরিবারের বাড়িতে এসে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বজনদের একটাই দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই সাথে অসহায় এই পরিবার দুটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
গ্রামের মেঠোপথ ধরে ফেরার পথে কানে বাজছিল স্ত্রী রুমা খাতুন আর দুই কিশোরী মেয়ের বিলাপ। যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা শফিকুলকে বিমানবন্দরে বিদায় জানিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ লেবাননের ধ্বংসস্তূপে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সাতক্ষীরার এই দুই নিভৃত পল্লীর ঘরে ঘরে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস আর শূন্যতা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আকস্মিক এ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে, আওয়ামী লীগৈর নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না, ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের স্থানটি সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন নিউজ পোটাল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, “শিশু হত্যা, খুন, ধর্ষণ, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ এর সংকট ও শিক্ষার অধিকার হরণের দায়ে সরকারের পদত্যাগ করতে হবে” স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে মছিলটি সড়কের কিছু অংশ অতিক্রম করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলটি শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এসব নিউজ পোটালের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
“মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে” এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোের্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের এমপি, মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. নূরুল আফসার মুর্তাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম মুকুল। অন্যদের মধ্যে আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক লিংকন আসলাম, কোষাধ্যক্ষ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক মুস্তাহিদুর রহমানসহ উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ১২টি বিদ্যালয়ের “স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপনকৃত মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে, সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে, গুনাকরকাটি শাহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদরের ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ আল-আমিন ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শহীদুল ইসলাম মুকুল।
এছাড়াও বিভিন্ন সেশনে বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন,জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রফেসর আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা উসমান গনি, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি আলী আহসান আল মুজাহিদ প্রমুখ।