মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত

খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপন, নারীর জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ বিষয়ে প্রেসব্রিফিং আজ (বুধবার) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসব্রিফিং করেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।

প্রেসব্রিফিং এ জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবর্তিত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতিমাসে দুই হাজার পাঁচশত টাকা হারে এ সুবিধা পাচ্ছে। গত ১০ মার্চ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথম পর্যায়ে পাঁচ হাজার দুই শত ৭৫ জন উপকারভোগীদের মাঝে চার হাজার একশত ৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

খাল খনন ও পুন:খনন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তীত স্বেচ্ছাশ্রমে খান খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিঃমিঃ নদী, খাল খনন, পুন:খনন ও পুন: উদ্ধারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাথমিকভাবে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খাল এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খনন কাজ চলমান রয়েছে।

বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩.৫ লক্ষাধিক সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যেখানে নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে অংশ নেবে। একই সাথে ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে যা আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান তৈরি করবে। সরকার নারীদের চলাচলের স্বক্রীয়তা, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সরকার কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা ভর্তুকি, সহজ লোন, বীজ ও সারসহ ১০ ধরণের বিশেষ সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম পর্যায়ে কৃষক কার্ডের সুবিধার উদ্বোধন করেন। এ কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে দেশের একশত ৬৫ লাখ কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবে।

এ কর্মসূচির আওতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গত ১৮০ দিনে এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক বা কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১ হাজার ৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, তিন হাজার ২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানের লাইভ প্রচার ও দুই হাজার ৩৬১টি অনলাইন প্রচার বাস্তবায়ন করেছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, একটি ফ্যামিলি সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানের লাইভ প্রচার ৪টি বাস্তবায়ন করেছে। এ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসব্রিফিং এ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন।

উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি জেলা ও চারটি উপজেলা তথ্য অফিসসমূহে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় একযোগে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য বিবরণী

Ads small one

কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বিটুমিনের কাঁচা কার্পেটিং শক্ত হওয়ার জন্য প্রকৌশলগত নির্দিষ্ট সময় বা কিউরিং দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই সময় দেওয়ার আগেই কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রোধ করতে হবে, অন্যথায় সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।

সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি এবং নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমেই হাত দিয়ে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ তুলে ফেলার প্রবণতা স্থায়ীভাবে রুখতে হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংস্কারের পরপরই স্থানীয়দের হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এটি মূলত ঠিকাদারদের অনিয়ম এবং কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই হাত দিয়ে টেনে তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা টেনে তোলা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যেন তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তা নষ্ট করার এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কার্পেটিং শক্ত হওয়ার প্রকৌশলগত ধাপগুলো হলো। বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণটি প্রায় ১৪০ ডিগ্রি থেকে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। রোলার দিয়ে কমপ্যাকশন করার পর, রাস্তাটির ভেতরের আর্দ্রতা শুকিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে এবং পাথরগুলো নিখুঁতভাবে লক হতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তাটি পুরোপুরি স্থায়ী রূপ নিতে ও ট্রাফিকের চাপ নেওয়ার উপযোগী হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। প্রকৌশলগত এই সময়ের আগে যদি রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল শুরু করে বা কেউ কাঁচা কার্পেটিং খুঁচিয়ে বা হাত দিয়ে টেনে তুলে ফেলার চেষ্টা করে, এতে রাস্তার স্থায়ীত্ব নষ্ট করে দেয়।

কার্পেটিং বা বিটুমিনাস সারফেসিং শক্ত হতে এবং টেকসই রূপ নিতে প্রকৌশলগত প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজ শেষের পরপরই ভারী যানবাহন চলাচলের আগে বিটুমিনকে পুরোপুরি সেট হওয়ার জন্য এবং নিচের স্তরের সাথে স্থায়ী বন্ডিং তৈরি করার সময় দিতে হয়।

সড়ক সংস্কারের পর হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলার প্রবণতা মূলত দুটি বড় কারণে ঘটে থাকে। ঠিকাদারি দুর্নীতি এবং প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা। নিম্নমানের বিটুমিন ও ইটের খোয়া ব্যবহার এবং কার্পেটিংয়ের নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় না রাখলে এই সমস্যা দেখা দেয়। কার্পেটিং করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ও ট্যাক কোট বা বিটুমিন ছিটানো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হয়।

 

মূল খোয়া বা পাথরের ওপর জমে থাকা কাদা ও ধুলার আস্তরণ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে তবেই পিচ ঢালাই করতে হবে। অন্যথায় নতুন আস্তরণ স্থায়ী হয় না। চুক্তি অনুযায়ী কার্পেটিংয়ের জন্য নির্ধারিত পুরুত্ব যেমন ২৫ বা ৪০ মিলিমিটার কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। পোড়া মাটির খোয়া, রাবিশ বা নিম্নমানের ইটের পরিবর্তে উচ্চমানের পাথর ও সঠিক গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের কাজের প্রতিটি ধাপে সশরীরে উপস্থিত থেকে তদারকি করতে হবে। কার্পেটিং যেন নির্ধারিত পুরুত্বের হয় এবং সেখানে সঠিক অনুপাতে বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কার্পেটিং শুরুর আগে রাস্তার বেস বা ইটের খোয়ার ওপর জমে থাকা ময়লা এবং কাদার আস্তরণ অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

কোনো স্থানে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বিল আটকে দেওয়া উচিত। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স বাতিল এবং আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ল্যাব টেস্টে কাজের মান উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের চূড়ান্ত বিল প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

সড়ক নির্মাণ একটি অতি-প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পর তা শক্ত হতে এবং স্থায়ী বন্ধন তৈরি করতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সম্প্রতি কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা নরম থাকে। এই অবস্থায় হাত দিয়ে টেনে তোলা হলো একটি নবজাতক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। কার্পেটিং তুলা মানে কাজের গুণগত মান নয়, বরং সময়ের আগেই তার ওপর যান্ত্রিক বল প্রয়োগের ফল। রাস্তায় কার্পেটিং করার পর রোলার দিয়ে করা হয়। রোলার দেওয়ার সাথে সাথেই রাস্তাটি তার পূর্ণ শক্তি অর্জন করে না। বিটুমিনাস লেয়ারটি যখন তার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে, তখনই তা টেকসই রূপ নেয়। কাজ চলাকালীন বা কাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তার কার্পেটিং খুঁচিয়ে তুলে ফেলা মানে হলো রাস্তার ইন্টারলকিং সিস্টেম ধ্বংস করা।

নতুন পাকা সড়কের কার্পেটিং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে। রাস্তা শক্ত হওয়ার জন্য প্রকৌশলগত নির্দিষ্ট সময় বা কিউরিং পিরিয়ড প্রয়োজন হয়। পাকা করার পরপরই ভারী যানবাহন চললে বা কার্পেটিং তুলে ফেলা হলে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কাঁচা কার্পেটিং হাত বা অন্য কোনোভাবে টেনে তোলা মানে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নষ্ট করা। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার প্রবণতা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ ও নির্মাণ বিধির পরিপন্থী।

কার্পেটিং এর ইন্টারলকিং সিস্টেম হলো একটি স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা। কার্পেটিং শক্ত হতে বা টেকসই রূপ নিতে একটি নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলা বা খুঁচে নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে তা হাত দিয়ে না তুলে সরাসরি ছবি বা ভিডিওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত রিপোর্ট: মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

কল্যাণ সভার শুরুতেই সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ), খালিদ মোঃ আরাফাত বিগত মাসের কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন এবং চলতি মাসে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন আবেদন সমূহ উপস্থাপন করেন।

পুলিশ সুপার সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অধিকাংশ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানসহ বাকি সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পুলিশ সুপার সকল অফিসার ফোর্সদের উদ্দেশ্যে সার্ভিসরুলস মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে ডিউটি করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। মেসে উন্নত খাবার পরিবেশন, ড্রেসরুলস মেনে পোশাক পরিধান করা, ছুটি ও টিএ বিলে ন্যায্যতা রাখা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যক্তিগত ও আবাসস্থলের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিদ্যুৎ এর সঠিক ব্যবহার এবং জনসাধারণের সাথে উত্তম ব্যবহারসহ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

পরবর্তীতে দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল মোঃ আলী হায়দার সেখ-কে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সাতক্ষীরা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মোঃ বায়েজীদ ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) শাওন রেজা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মোঃ ইমরান খান, পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আবু হোসেনসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন) এবং জেলা পুলিশের সকল পদমর্যাদার সদস্যবৃন্দ।

শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আলিপুর-কুলিয়া ইজিবাইক চালকদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আলিপুর-কুলিয়া ইজিবাইক চালকদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইক চালকরা। একই সাথে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শহরের অন্যান্য এলাকা এবং পৌরসভার ইজিবাইকগুলো নির্বিঘেœ শহরের সর্বত্র চলাচল করতে পারলেও কেবল আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইকগুলোকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে চালকদের একমাত্র আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং ক্ষোভ চালক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, এই রুটে নিয়মিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা যাতায়াত করেন। কিন্তু বিভিন্ন পয়েন্টে ইজিবাইক আটকে দেওয়ায় জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পথে পথে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে কুলিয়া থেকে মাত্র ২৫ টাকায় সরাসরি সদর হাসপাতালের সামনে যাওয়া যেত। কিন্তু এখন শহরের মাঝপথে ইজিবাইক আটকে দেওয়ায় নেমে অন্য গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। ফলে ২৫ টাকার জায়গায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।প্রতিবাদ সভায় চালক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

চালকদের রুজি-রোজগার রক্ষা এবং রোগীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে তারা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, অবিলম্বে আলিপুর-কুলিয়া রুটের ইজিবাইকগুলোকে শহরের প্রাণকেন্দ্র ও হাসপাতাল এলাকায় চলাচলের সুযোগ না দেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।