বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

লেবাননের আকাশে ঘাতক ড্রোন: সাতক্ষীরায় নিঃস্ব দুই পরিবারের স্বপ্নের সমাধি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
লেবাননের আকাশে ঘাতক ড্রোন: সাতক্ষীরায় নিঃস্ব দুই পরিবারের স্বপ্নের সমাধি

এসএম শহীদুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ভালুকা চাঁদপুর। গ্রামের কর্মকার পাড়ায় ঢুকতেই কানে আসে কান্নার করুণ সুর। সেই সুরের উৎস শফিকুল ইসলামের জীর্ণ বাড়ি। অন্যদিকে, শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামেও বইছে একই শোকের মাতম। সেখানে তরুণ অবিবাহিত নাহিদুলের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।
লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এই দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে যারা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভিটেমাটি আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন পরবাসে, সেখানে ফলের দোকানে কাজ করতেন তারা। আজ তাঁদের মৃত্যুর খবর এলাকায় এনে দিয়েছে পাথরের নীরবতা।
শফিকুলের ঘরে দুই মেয়ের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কোন সান্ত¡নায় তাঁদের থামানো যাচ্ছে না। শফিকুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় শোকের দৃশ্য। শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন যেন পাথর হয়ে গেছেন। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন, আর জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছেন, “ওগো, তুমি কেন আমাদের একা ফেলে চলে গেলে? মেয়ে দুটোর কী হবে? কার কাছে ওরা বাবার আবদার করবে?”
রুমা খাতুন বলেন, দশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ যায় শফিকুল। এখন সুদে-আসলে সেই ঋণের মাত্রা প্রায় ১২ লাখে ঠেকেছে। কীভাবে এই ঋণ শোধ হবে আর কীভাবে দুই মেয়ের লেখাপড়া চালাবেন? কীভাবে চলবে সংসার? এভাবে বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
শফিকুলের বড় মেয়ে তামান্না আক্তার মৌ এবার এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। বাবার সেই স্বপ্নের কথা মনে করে মৌ বারবার মুর্ছা যাচ্ছে। সে ডুকরে কেঁদে বলছে, “বাবা তো বলেছিল ঈদে আমাদের জন্য নতুন জামা পাঠাবে। এখন বাবার বদলে লাশ আসবে কেন? আমি এখন কাকে বাবা বলে ডাকব?”

 


পাশেই বসে কাঁদছে ছোট মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্নি আক্তার বৃষ্টি। বাবার অভাব বুঝতে শেখার আগেই সে আজ এতিম। বৃষ্টির কান্নায় প্রতিবেশী মহিলারাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। শফিকুলের মা মাটিতে আছাড়ি-পাছাড়ি করছেন। তাঁর বিলাপ যেন থামছেই না।
নিহত শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারে একটু সুখ আসবে বলে। এখন আমার ছেলেটা লাশ হয়ে ফিরতেছে। আমি আমার ছেলের মুখটা শেষবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে আকুতিÑযেন দ্রুত আমার ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনে।’
স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ বলেন, ‘শফিকুল ইসলামের পরিবার খুবই দরিদ্র। ঋণ করেই তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা। এখন সেই বাবা ছেলের লাশ ফেরত পেতে আকুতি করছেন। বিদেশ থেকে মরদেহ আনার সামর্থ্যও তাদের নেই। সরকারের উদ্যোগেই মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া উচিত।’
নিহতের মেয়ে তামান্না আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা দুই বোন, আমাদের কোনো ভাই নেই। আব্বু আমাদের ভালো রাখার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন আমরা শুধু চাই, সরকার যেন দ্রুত আব্বুর লাশ দেশে আনে। শেষবার আব্বুকে দেখতে চাই।’
শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, ‘দুই মেয়ের পড়াশোনা আর সংসারের ভালো ভবিষ্যতের আশায় ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। আমি এখন কীভাবে বাঁচবো?’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর বাবার খুব ইচ্ছা ছিল দুই মেয়েকে ভালোভাবে বিয়ে দেবে। সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল।’
স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর কলেজের অধ্যক্ষ এআরএম মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি বলেন, ‘পরিবারকে সুখে রাখার আশায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে মাত্র তিন মাস আগে বিদেশে গিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যেই তার মৃত্যুসংবাদ এলো। পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়।’
শফিকুলের প্রতিবেশী ও স্থানীয় হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ বাবলু বলছিলেন, “শফিকুল ছিল পরিবারের একমাত্র আশার আলো। গত ২০ রমজান অনেক স্বপ্ন নিয়ে সে বিদেশে গিয়েছিল। এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই সব শেষ।”
ধুলিহর ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, “শফিকুল অনেক পরিশ্রমী ছেলে ছিল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সে লেবানন গিয়েছিল পরিবারের সুদিন ফেরানোর লড়াই শুরু করতে। কিন্তু লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ঘাতক ড্রোনের আঘাতে সব চূর্ণ হয়ে গেল।”

 


এদিকে নিহত নাহিদুলের বাড়িতেও চলছে স্বজনদের আহাজারি। আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছিলেন বড়। নাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। মা বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বিড়বিড় করে বলছেন, “বাবা রে, তুই তো বললি ভালো আছিস, কয়েক দিন পর টাকা পাঠাবি। এখন তোর লাশ কেন আসবে?” নাহিদুলের বাবা আব্দুল কাদের নির্বাক হয়ে বসে আছেন, তাঁর দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে চড়া সুদে ঋণ করে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেই ঋণের কথা মনে করে স্বজনরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
নিহত নাহিদুল ইসলামের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমার দুইটা ছেলে। বড় ছেলে নাহিদকে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার লাশটা দেশে এনে যেন মাটি দিতে পারিÑসরকারের কাছে এইটুকুই দাবি।’
নাহিদুল ইসলামের চাচা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমার ভাইপোর সাথে শেষবার কথা হয়। ভিডিও কলে সে দেখাচ্ছিল আশপাশে বোমা ফেলা হচ্ছে। সে বলছিল দ্রুত ফোন রাখতে, না হলে ট্র্যাকিং করে হামলা হতে পারে। সন্ধ্যায় জানতে পারি, সে নিহত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এখন পরিবারের একটাই দাবিÑদ্রুত যেন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “এই দুটি পরিবার অত্যন্ত অসহায়। ঋণ করে সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। শফিকুলের মেয়ে দুটি এখন পড়াশোনা করবে কীভাবে? পরিবার দুটি এখন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কে শোধ করবে, আর এই এতিম সন্তানদের কে দেখবে?”
এদকি বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে নাবাতিয়েহ প্রদেশের জেবদিন গ্রামের একটি আবাসিক বাড়িতে অতর্কিত ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই বাড়িতেই থাকতেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং নাহিদুল ইসলাম (২৬)। হামলায় ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তাঁরা। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শফিকুল ও নাহিদুল ছাড়াও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকার একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে ড্রোন হামলায় আরও দুই স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওই এলাকা দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হয়। বর্তমানে দুই বাংলাদেশির মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও বাস্তবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত থামেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের নিরপরাধ প্রবাসী শ্রমিকরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, ‘দুইজন নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। এর মধ্যে একজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। আমরা পরিবারের সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছি।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘নিহত পরিবারের বাড়িতে এসে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বজনদের একটাই দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই সাথে অসহায় এই পরিবার দুটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
গ্রামের মেঠোপথ ধরে ফেরার পথে কানে বাজছিল স্ত্রী রুমা খাতুন আর দুই কিশোরী মেয়ের বিলাপ। যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা শফিকুলকে বিমানবন্দরে বিদায় জানিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ লেবাননের ধ্বংসস্তূপে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সাতক্ষীরার এই দুই নিভৃত পল্লীর ঘরে ঘরে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস আর শূন্যতা।

Ads small one

দেবহাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের দায়ে সবুজ ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার আন্দুলপোতা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন সাহা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকার মাছুম্মেল হকের ছেলে সবুজ ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই আন্দুলপোতা এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। তার এ কর্মকান্ডে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রমের সত্যতা পায়। এ সময় ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে একদিকে যেমন জলাশয় ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করলে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, “পরিবেশ ধ্বংসকারী কোনো কর্মকান্ডই বরদাশত করা হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ইন্টারনেট ঘেটে দুম্বার খামার গড়ে সাড়া ফেলেছে তরুন উদ্যোক্তা শার্শার জোবায়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেট ঘেটে দুম্বার খামার গড়ে সাড়া ফেলেছে তরুন উদ্যোক্তা শার্শার জোবায়ের

Oplus_0

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা সীমান্তে এক তরুন উদ্যোক্তা তাসলিম জোবায়ের মরুভূমির দুম্বার বানিজ্যিকভাবে খামার গড়ে সাড়া ফেলেছেন। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৫ গুন লাভের আশা দেখছেন সফল চাষী। বাড়ছে কর্মসংস্থান লাভবান হচ্ছে খামারী।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার রাড়িপুকুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বাবলুর ছেলে দাখিল পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরুন উদ্যোক্তা তাসলিম জোবায়ের। ইন্টারনেট দেখে দুই বছর আগে ১২ লাখ টাকা খরচে ৭ টি দুম্বা নিয়ে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন খামার। বছরে দুই লাখ টাকা খরচ করে তার খামারে বর্তমানে রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে ৪০টি দুম্বা। ৮০ কেজি থেকে ১৭০ কেজি ওজনের দুম্বা রয়েছে তার খামারে। এ ছাড়াও প্রায় অর্ধশত গরু ও বিদেশি জাতের ছাগলের খামার গড়েছেন তিনি। এবার কুরবানির ঈদে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার দুম্বা বিক্রির আশা করেন জোবায়ের।

দুম্বা চাষ লাভবান হওয়ায় বেকার তরুনদের এগিয়ে আসার আহবান জানান উদ্যোক্তা মোঃ তাসলিম জোবায়ের।
দুম্বা পালনে লাভবান দেখে অনেক তরুন ও স্থানীয়রা দুম্বা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকে খামারে কাজ করে পরিবারে ফিরচ্ছে স্বাচ্ছলতা জানার তরুন ও স্থানীয়রাসহ খামার শ্রমিক।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার বিশ্বাস জানান. তাসলিম জোবায়ের সফল তরুন উদ্যোক্তা। তার দেখে অনেক তরুন উদ্যোক্তা দুম্বা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে প্রশিক্ষণ পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দুম্বা পালনে সরকারি প্রণোদনা পেলে আরো বাড়বে চাষ, লাভবান হবে উদ্যোক্তরা, ঘুচবে বেকারত্ব-এমনটাই আশা তরুন উদ্যোক্তার।

একটি হুইল চেয়ারের জন্য বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের আকুল আকুতি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
একটি হুইল চেয়ারের জন্য বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের আকুল আকুতি!

বি.এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: নিভৃত পল্লীর পথে-প্রান্তরে কত ঘটনাই চোখে পড়ে, তেমনি একদিন একটি মুদি দোকানের সামনে দেখা মিলল শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের। তিনি তালা উপজেলা তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিকের স্ত্রী। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের একটি মুদি দোকানের সামনে লাঠির ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৭৪ বছর বয়সী আফিয়ারা বেগম। হুইল চেয়ার না থাকায় কোমরের উপর ভর করে অনেক কষ্টে চলাচল করেন তিনি। একটি হুইল চেয়ারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে এই বৃদ্ধা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালা উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে একটি ক্ষুদ্র মুদি দোকান পরিচালনা করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছিলেন মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিক ও তার স্ত্রী আফিয়ারা বেগম। তিন সন্তান নিয়ে কোনরকম সংসার চলছিল তাদের। কয়েক মাস আগে ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয় আফিয়ারা বেগম। দোকানের ভিতরে থাকা একটি চৌকি খাটে রাত-দিন যাপন করেন তারা। বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না। খাট থেকে নিচে নামতেই যন্ত্রণায় চিৎকার করেন তিনি। হুইল চেয়ার না থাকায় কোমরের উপর ভর করে অনেক কষ্টে চলাচল করেন তিনি।

চোখমুখে হতাশা নিয়ে বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগম বলেন, আমার একটা হুইল চেয়ার দরকার। হুইল চেয়ার হলে কিছুটা স্বাভাবিক চলাচল করতে পারতাম।

প্রতিবেশী সহকারী অধ্যাপক এমএম মুজিবর রহমান বলেন, বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগম ও তার স্বামী মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিক নওয়াপাড়া বাজারে একটি ক্ষুদ্র মুদি দোকান করে সংসার চালাতো। বর্তমানে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দোকানের মধ্যে শয্যাশায়ী রয়েছেন আফিয়ারা বেগম। তিনি মেরুদন্ড সোজা করে হাঁটাচলা করতে পারেন না। অর্থের অভাবে ওষুধ কিনতেও পারছে না। ওই বৃদ্ধার দিকে তাকালে খুব কষ্ট লাগে। বর্তমানে তার একটা হুইল চেয়ারসহ কিছু আর্থিক সাহায্যের দরকার।

আফিয়ারা বেগমের স্বামী মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিক বলেন, বাড়ি-ভিটা ছাড়া কোনো জমি নাই আমাদের। ছোট একটি দোকান করে সংসার চালাতাম। কিন্তু স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার ওষুধ কিনতেও পারছিনা, কিভাবে তাকে হুইল চেয়ার কিনে দিবো। এজন্য তিনি বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। সেজন্য ০১৭৪৫-৬৪৩২৩০ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, উক্ত দম্পত্তি বয়স্ক ভাতা পান। বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগম হুইল চেয়ারসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যাতে পেতে পারে সে বিষয়ে খেয়াল করা হবে।