বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

শঙ্কা ও সাহসের দোলাচলে সুন্দরবনে নতুন মধু-যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
শঙ্কা ও সাহসের দোলাচলে সুন্দরবনে নতুন মধু-যাত্রা

এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): বাঘের গর্জন আর বনদস্যুর আতঙ্কÑসবকিছুকে তুচ্ছ করেই আবারও সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে পা বাড়াচ্ছেন মৌয়ালরা। প্রথম দফার অভিযান শেষ করে কিছুদিন বিরতি নিয়ে এখন চলছে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি। অনিশ্চয়তা আর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে শুরু হচ্ছে তাদের এই নতুন মধু-যাত্রা।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ সংলগ্ন গাবুরা ডুমুরিয়া গ্রামের সামাদ মাঝী। মৌয়াল বাবার এই উত্তরসূরি এবারও মধু সংগ্রহে যাচ্ছেন। তবে তার কণ্ঠে সাহসের চেয়ে শঙ্কার সুরই বেশি। সামাদ বলেন, “দ্বিতীয়বার বনে যাওয়াটা অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ। প্রথম দফায় বোঝা যায় কোথায় চাক বেশি, তাই দস্যুদের নজরদারিও বেড়ে যায়। চাঁদা না দিলে বনে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”

স্থানীয় মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে মৌয়ালদের শত্রু শুধু বাঘ বা বিষধর সাপ নয়; এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদস্যু। অতীতে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ বা নির্যাতনের বিভীষিকা এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের।

কেন এই মরণপণ ঝুঁকি? উত্তরটা খুব সহজÑপেটের টান। অধিকাংশ মৌয়াল মহাজনদের কাছ থেকে আগাম ঋণ বা ‘দাদন’ নিয়ে বনের সরঞ্জম কেনেন। মধু বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করতে না পারলে পুরো পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। তাই বাঘের ভয় থাকলেও জীবিকার তাগিদে বনে যাওয়াই তাদের একমাত্র পথ।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় বন থেকে মধু সংগ্রহের চিত্রটি বেশ ইতিবাচক। এতে মোট পাস (অনুমতিপত্র) ১৭৪টি, মৌয়ালের সংখ্যা ১,১৬৯ জন, সংগৃহীত মধু ৫৮৪.৫০ কুইন্টাল এবং সংগৃহীত মোম ১৭৫.৩৫ কুইন্টাল।

বন বিভাগ বলছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে বনজীবীদের অভিযোগ, দস্যুরা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। বনরক্ষীদের তৎপরতা আরও বাড়ানো না হলে এই মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।

সুন্দরবনের মৌচাকে মৌচাকে লুকানো সোনালি মধু আহরণ করতে গিয়ে প্রতি বছর কত প্রাণ ঝরে পড়ে, তার সঠিক হিসাব হয়তো থাকে না। তবুও বছরের পর বছর শঙ্কা আর সাহসকে সঙ্গী করেই চলে মৌয়ালদের এই আজন্ম লড়াই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

তালায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তালায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি

খলিষখালি (তালা) প্রতিনিধি: মানবিক উন্নয়ন সংস্থা খ্রিষ্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) উদ্যোগে সাতক্ষীরার তালায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। গত ২৪ জুন সকালে তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিএসএস-এর খুলনা অঞ্চলের প্রোগ্রাম অফিসার মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএসএস-এর জোনাল ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলাম এবং তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী জাহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় সংস্থার উপকারভোগী সদস্যদের ৬ জন মেধাবী সন্তানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা স্মারক, উপবৃত্তি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

শ্যামনগরে উপকূলীয় নারীদের মাঝে লবণসহিষ্ণু চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে উপকূলীয় নারীদের মাঝে লবণসহিষ্ণু চারা বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় নারীদের মাঝে লবণসহিষ্ণু ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। গত ২৪ জুন উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশনের (এনজিএফ) উদ্যোগে এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় ইউনিয়নের ৪৫০টি পরিবারের মাঝে মোট ২ হাজার ২৫০টি লবণসহিষ্ণু চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চারা বিতরণ করেন পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আমজাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই বনায়ন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কার্বন শোষণে যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে এনজিএফের পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) আলমগীর কবীরসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো সাতক্ষীরার ধুলিহর ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের শতবর্ষী অসহায় বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন সকালে তাঁর বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি জীর্ণ কুঁড়েঘরে আছিয়া বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তাঁর নির্দেশনায় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুল ইসলাম এই খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় সংবাদকর্মী একরামুজ্জামান জনি ও রকিবের মাধ্যমে আছিয়া বেগমের বাড়িতে ১০ কেজি চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী ময়েজউদ্দিন ঢালীর মৃত্যুর পর থেকে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন আছিয়া বেগম। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও তাঁরা নিজেরাও চরম অভাব-অনটন ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। বর্তমানে সরকারের দেওয়া মাত্র ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতাই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
গত ২০ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, নাথপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় ভাঙাচোরা ও মরিচাধরা টিনের চালের ঘরে চরম কষ্টে বাস করছেন তিনি। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। প্রশাসনের এই আকস্মিক সহায়তায় আছিয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা বৃদ্ধার জীবনের শেষ দিনগুলো স্বস্তিতে কাটানোর জন্য একটি স্থায়ী ঘর ও নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।