শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শহরে ফোর লেনের নতুন সম্ভাবনা: হাল ধরবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
শহরে ফোর লেনের নতুন সম্ভাবনা: হাল ধরবে কে?

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সাতক্ষীরা শহর এখন এক যানজটের নগরী। যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ১০০ বছরের পুরাতন এই শহরের যানজটের প্রধান কারণ অপ্রশস্ত সড়ক। মাত্র ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটের অপ্রশস্ত সড়ক নিয়ে রীতিমত এই শহরটি ধুকছে এবং বসবাসের অযোগ্য হওয়ার পথে। সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী শহরের প্রধান সড়ক গুলো ফোর লেনে রূপান্তর করা। এরই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্যাকেজ-১ এ শহরাংশে ফোর লেন সড়ক সংযুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের টেন্ডার ও ভূমি অধিগ্রহণ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরে পুনরায় ফোর লেন রাস্তা নির্মাণের এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন শুধু দরকার সাতক্ষীরার জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক প্রচেষ্টা।

সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বিগত আওয়ামীলীগ সরকার সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ (জেড-৭৬০২) এবং কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী (জেড-৭৬১৭) মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে শ্যামনগর এবং সীমান্তবর্তী ভেটখালী পর্যন্ত নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮২২ কোটি ৪৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ, সড়ক প্রশস্তকরণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট পুনর্র্নিমাণ ও মজবুতীকরণ, সার্ফেসিং, আরসিসি বক্স কালভার্ট, বাস-বে এবং ড্রেন নির্মাণসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হকের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে সাতক্ষীরা শহরের যানজট এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে শহরাংশের প্রথম ৫.৩০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা জমা দেয়া হয়েছিল। শহরের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সবার প্রত্যাশা ছিল, অবশেষে সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কটি আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

কিন্তু পরবর্তীতে সাতক্ষীরার বাকি জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আনা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫.৩০ কিলোমিটারের ফোর লেনের প্রস্তাবনাটি বাতিল করে সেটিকে দুই লেনে নামিয়ে আনা হয়। সংশোধিত এই প্রস্তাবনাই একনেক কর্তৃক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। ফোর লেনের এই প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার ফলে সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে।

ফোর লেন বাতিল হয়ে বর্তমানে যখন সড়কের কাজ চলমান রয়েছে তখন হতাশার মাঝে সাতক্ষীরা বাসীর জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে প্রকল্পের সাম্প্রতিক একটি আর্থিক মূল্যায়ন। যেকোনো মেগা প্রকল্পে সাধারণত ব্যয় বৃদ্ধির খবরই বেশি শোনা যায়, তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার কারণে এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ছয়টি প্যাকেজে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি প্যাকেজেই প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ন্যূনতম ১৬ শতাংশ বা তারও বেশি নি¤œদরে দরপত্র দাখিল করে। এর ফলে প্রকল্পের পূর্ত কাজ বা নির্মাণ ব্যয় থেকে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্যও একটি বড় অঙ্কের বাজেট রাখা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে আইনের ৭ ধারা সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত প্রাক্কলনে দেখা যাচ্ছে, ভূমি অধিগ্রহণ খাতেও আনুমানিক ৪৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে, ঠিকাদারদের নি¤œদরে কাজ নেওয়া এবং ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় হ্রাস পাওয়ার ফলে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ১৬৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ সাশ্রয়কৃত অর্থ এখন সাতক্ষীরার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

সাশ্রয়কৃত এই ১৬৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না পাঠিয়ে যদি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে পুনরায় প্যাকেজ-১ সংশোধন করা হয়, তবে শহরাংশের ৫.৩০ কিলোমিটার সড়কটিকে এই ১৬৯ কোটি টাকা থেকে সহজেই চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হবে । যেহেতু অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, তাই মন্ত্রণালয় চাইলেই ডিপিপি সংশোধন করে পূর্বের চার লেনের প্রস্তাবনাটি পুনরায় যুক্ত করতে পারে। এতে শহরের যানজট নিরসন হবে এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শতভাগ সফল হবে।

সাতক্ষীরার বর্তমান ৪ জন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক মহোদয়া, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ, সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন কমিটি গুলোর দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে সাতক্ষীরার সংসদ সদস্যদের অতি সত্ত্বর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পটির সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন করানোর ব্যবস্থা করা উচিত। যাতে সাতক্ষীরা শহরের ৫.৩০ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেন রূপান্তরিত হয়।
সাতক্ষীরা একটি বর্ধিষ্ণু জেলা শহর। সময়ের সাথে সাথে এই শহরের জনসংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর এলাকার রাস্তাঘাটগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকা-ও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে শহরের ভেতরের অংশ পর্যন্ত প্রতিদিন ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ থেকে আসা বাস এবং স্থানীয় থ্রি-হুইলারগুলোর চাপে শহরের রাস্তাগুলো প্রায়শই অচল হয়ে পড়ে। একটি চার লেনের রাস্তা নির্মিত হলে শহরের প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে যাবে এবং যানজট নিরসন হবে।

সাতক্ষীরার মতো সম্ভাবনাময় একটি জেলা শহরের প্রধান সড়কের এই দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাশ্রয়কৃত ১৬৯ কোটি টাকা সাতক্ষীরা বাসীর জন্য এক প্রকার আশীর্বাদ। এই অর্থকে কাজে লাগিয়ে শহরাংশের সড়ককে ফোর লেনে রূপান্তর না করতে পারলে সেটি হবে বর্তমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন সংসদ সদস্যের জন্য বড় ধরনের ব্যর্থতা। সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়নের আশায় তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। সেই আশা নিরাশা হয়ে যাবে সাতক্ষীরা বাসীর জন্য যদি তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে। আর সেই ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়বে আগামীর সকল নির্বাচনে।

সাতক্ষীরা শহরে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ফোর লেন সড়ক নির্মাণ এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। পূর্বে ফোর লেন বাতিল হওয়ায় যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল, সাশ্রয়কৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তা আনন্দে রূপান্তরিত হতে পারে। সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জোরালো ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সাতক্ষীরা বাসীর এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব। সাতক্ষীরা বাসী আশা করে, সাশ্রয়কৃত এই ১৬৯ কোটি টাকা দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের ৫.৩০ কিলোমিটার ফোর লেন এবং আনুষঙ্গিক উন্নয়ন কাজ দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং সাতক্ষীরা একটি আধুনিক ও যানজট মুক্ত শহর হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজারবাগান, সাতক্ষীরা

Ads small one

শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা রবি চৌধুরী ও শাবনূর। একজন গায়ক, অন্যজন অভিনেত্রী। তবে দুজনের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সেই বন্ধুত্বের দৃশ্য আবারও দেখা গেল। ফেসবুকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিডনির রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন অভিনেত্রী, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন গায়ক। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান।

শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। এদিকে সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে সেখানে গেছেন রবি চৌধুরী। তার আসার খবরে শাবনূর আগেই থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলো। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবিকে ঘুরিয়ে দেখালেন তিনি।

এ সময় শাবনূরের অনুরোধে তার খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’।

শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেছেন তারা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।

সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা।

প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৫০। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসে সব হিসাব পাল্টে দিলো ক্যারিবীয়রা। শুক্রবার রাঁচিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সফল রান তাড়ার তালিকায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারতের ২৪৯ রান পেরিয়ে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে ফেরান কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে। পরে ২৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তারা।

৩৮ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের সহজ ক্যাচে জীবন পান রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে পরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাদারফোর্ড। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছয়।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার গতি ঠিকই ধরে রাখেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তার ইনিংসে ভর করেই ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছয়।

এর আগে স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র চার ওভারের কম সময়ে ৪২ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে সেই ঝড়ো শুরু থামান রোস্টন চেজ। অভিষেককে (২০) ফেরানোর পর ৪৩ রান করা ঈশান কিষান ও শিবম দুবেকেও (৭) আউট করেন তিনি। শামার স্প্রিঙ্গারের শিকার হন স্যামসন (৮২)।

শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ায় ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক বর্মা মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আইয়ার ১৮ বলে করেন ৪০ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের আগের বলে আউট হন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। ৬৪ রানে দুটি নেন শামার স্প্রিঙ্গার।

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে রবিবার।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্তর্জাতিক আইনের প্রখ্যাত প্রবক্তা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কৌঁসুলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, পিল্লাইয়ের এমন মন্তব্যের জের ধরে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।

শুক্রবার পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়ের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নোবেল প্রাইজ কমিটি তাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। তারা এমন একজন কট্টর বর্ণবাদীকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, যিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন।

একই সঙ্গে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ও কুৎসা রটাতে উসকানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেনস্টাইন টেরিটরি-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। অবশ্য এই কমিশনটি জাতিসংঘের মূল প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি কথা বলে না। তবে গত বছর এক প্রতিবেদনে কমিশনটি উল্লেখ করে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করছে।

সূত্র: এএফপি