শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিকড় কাটা প্রগতি: প্রযুক্তি আসুক, তবে মানবিকবিদ্যাকে খুন করে নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শিকড় কাটা প্রগতি: প্রযুক্তি আসুক, তবে মানবিকবিদ্যাকে খুন করে নয়

‎তারিক ইসলাম
‎রাষ্ট্র বা সমাজের আধুনিকায়নের প্রধান শর্ত যদি হয় শিক্ষার রূপান্তর, তবে সেই রূপান্তরের অভিমুখ কোন দিকে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। সম্প্রতি দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এক চরম উদ্বেগজনক সিদ্ধান্তের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো মৌলিক ও ঐতিহ্যবাহী অনার্স কোর্সগুলো বাতিল করে সম্পূর্ণভাবে এআই (অৎঃরভরপরধষ ওহঃবষষরমবহপব), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তি-নির্ভর বিষয় চালুর রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘স্মার্ট’ এবং ‘বাজারমুখী’ মনে হলেও, গভীর বিশ্লেষণে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ সাংস্কৃতিক ও মেধাভিত্তিক দেউলিয়াত্বের রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‎বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কেবলই ‘চাকরিজীবী তৈরির কারখানা’ নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, মুক্তচিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রসূতিগৃহ। আউটসোর্সিং বা সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের দ্রুত আয়ের পথ দেখাতে পারে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য হয়তো লোভনীয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্র কি কেবল জিডিপি (এউচ) দিয়ে পরিমাপ করা যায়?
‎বাংলা কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি, জাতিগত সত্তা ও সৃজনশীলতার আধার। একে বাদ দেওয়া মানে নিজের শিকড়কে কেটে ফেলা।
‎ইতিহাস মানুষকে অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন শেখায়। ইতিহাসহীন জাতি অন্ধের মতো চলে, যারা বারবার পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করে।
‎দর্শন মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, ভালো-মন্দের তফাত বোঝায় এবং নৈতিকতার মানদন্ড গড়ে দেয়।
‎এই বিষয়গুলোকে উচ্চশিক্ষা থেকে নির্বাসনে পাঠানো মানে একটি সংবেদনশীল ও বিবেকবান সমাজ ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া। আমরা হয়তো একদল প্রযুক্তি-দক্ষ ‘শ্রমিক’ পাব, কিন্তু একটি আদর্শ ‘মানুষ’ বা ‘সমাজ’ গড়ার কারিগর চিরতরে হারিয়ে ফেলব।
‎বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক কী নিয়ে? তা হলো-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অও-এর নৈতিক ব্যবহার। প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, তার অপব্যবহারের ঝুঁকি তত বাড়ছে।
‎একটি এআই অ্যালগরিদম যেন মানববিদ্বেষী বা বৈষম্যমূলক না হয়, তা নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তিবিদের চেয়ে একজন সমাজবিজ্ঞানী বা দার্শনিকের প্রজ্ঞা বেশি প্রয়োজন। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য শুধু কোডিং জানাই যথেষ্ট নয়, অপরাধীর মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝতে ইতিহাসের পাঠ আবশ্যক।
‎উন্নত বিশ্ব যেখানে বিজ্ঞান ও কলার সমন্বয়ে ‘ঝঞঊঅগ’ (ঝপরবহপব, ঞবপযহড়ষড়মু, ঊহমরহববৎরহম, অৎঃং, ধহফ গধঃযবসধঃরপং) মডেলের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে আমরা মানবিকবিদ্যাকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলার মতো বিপরীতমুখী ও আত্মঘাতী পথে হাঁটছি।
‎সংস্কার হোক সমন্বিত, ধ্বংসাত্মক নয়।সময়ের প্রয়োজনে প্রযুক্তির সংযোজন অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, নতুনকে জায়গা দিতে গিয়ে পুরনো স্তম্ভগুলোকে ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি দূরদর্শী শিক্ষানীতি:
‎সমন্বয়: বাংলা, ইতিহাস বা দর্শনের অনার্স কোর্সগুলো বহাল রেখে তার সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ’, ‘এআই ইথিক্স’ কিংবা ফ্রিল্যান্সিং-এর মৌলিক কারিগরি কোর্স যুক্ত করা যেত।
‎বাজারের স্থায়িত্ব: মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির বাজার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। আজকের যে প্রযুক্তির জন্য আমরা পাগল, পাঁচ বছর পর তা হয়তো সেকেলে হয়ে যাবে। কিন্তু ইতিহাস, দর্শন ও সাহিত্যের উপযোগিতা চিরন্তন। কেবল নির্দিষ্ট প্রযুক্তি শেখা একটি প্রজন্ম বাজারের সামান্য পরিবর্তনেই খেই হারিয়ে ফেলবে।
‎ইতিহাস ও দর্শনহীন সমাজ হয়ে পড়ে স্মৃতিশক্তিহীন ও বিবেকহীন। আর নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা না থাকলে সেই সমাজ আত্মপরিচয়হীন এক জনসমষ্টিতে পরিণত হয়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে গতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে পারে, কিন্তু জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে সাহিত্য ও শিল্প।
‎বাজারের অন্ধ স্্েরাতে গা ভাসিয়ে আমরা যেন আমাদের মেধা ও মননের আত্মাকে বিসর্জন না দিই। নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ-প্রযুক্তিকে অবশ্যই বরণ করুন, তবে তা মানবিকবিদ্যাকে কবর দিয়ে নয়, বরং তার পরিপূরক হিসেবে। ভারসাম্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষাই কেবল একটি প্রগতিশীল ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি উপহার দিতে পারে। ‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

 

Ads small one

‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সংবাদ সম্মেলনের আগেই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফাইনাল নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। নিউইয়র্কের জ্যাভিটস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ‘দিবু’ বলেন, “বিশ্বকাপের আগে থেকেই হাতের চোটের ব্যথা আমাকে ভোগাচ্ছে। যেসব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেছি, সবাই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বে আমি ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলো থেকে এ নিয়ে আর ভাবিনি। এখন অনেকটাই ভালো অনুভব করছি। তবু আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে।”

দলে অর্জন নিয়ে ভাবনা

কয়েক বছর আগে কিছু সতীর্থর সঙ্গে আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, দুটি বিশ্বকাপ জিতলে তিনি অবসর নেবেন। তার সেই ভাইরাল মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, এটি এএফএ অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলাম… তবে প্রথমে আমাদের জিততে হবে, আমি কেবল সেটির দিকেই মনোনিবেশ করছি। এই দলের সঙ্গে আমরা বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করছি। দল যা অর্জন করেছে তা ভেবেই মাঝে মাঝে আমার কান্না চলে আসে। এখনও আনন্দের অনেক মুহূর্ত আসা এবং তা উপভোগ করা বাকি রয়েছে।’’

এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমি গতবারের চেয়ে এই বিশ্বকাপ অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের ম্যাচের পর আমি অনেক ভুগেছিলাম। খুব বেশি শটের মুখোমুখি হইনি, অথচ তারা গোল করে দিয়েছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে একটি নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা পালন করতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন আমি পায়ে আরও ভালো খেলছি। আমি রবিবার মাঠে নামব এবং আপনারা আমাকে হাসিমুখে দেখতে পাবেন।’’

মানসিক শক্তি এবং ‘দিবু’র সেই চেতনা

প্রতিটি ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের শক্তির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তারা আমার বিরুদ্ধে এক বা দুটি গোল করতে পারে, কিন্তু পরবর্তী প্লে-তেই আমি সেই একই ‘দিবু’ । চাপ আমাকে কাবু করতে পারে না। আমি আমার গ্লাভস পরে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখার চেষ্টা করি। খেলা যাই হোক না কেন, আমার মধ্যে সেই পাড়ার চেতনা রয়েছে, যা আমাকে মার দেল প্লাতার ‘ব্যারিও জার্দিন’-এ খেলা সেই একই দিবু বানিয়ে রাখে।’’

৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার ফাইনালে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘দারুণ দল, প্রিমিয়ার লিগে খেলা খেলোয়াড়দের কারণে আমি তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছেন, এটি কেবল লামিনকে নিয়ে নয়, তাদের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে এবং তারা একটা সুনির্দিষ্ট কারণেই এখানে এসেছে। তাদের নিজস্ব শক্তি রয়েছে, তবে আমাদেরও শক্তি রয়েছে। আশা করি এটি এমন একটি ম্যাচ হবে যা দর্শকরা দীর্ঘদীন মনে রাখবেন।’’

ম্যাচের প্রস্তুতি এবং কোচের ওপর আস্থা নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘আমি মনে করি যখন আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, সেটি ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচ। দুবার জেতা, চতুর্থ তারকা অর্জন করা—মানুষের উদযাপনের সঙ্গে এটি কেমন হতে পারে তা আমি কেবল কল্পনাই করতে পারি।’’

কঠিন পরিস্থিতি ও খাপ খাইয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘‘মাঝে মাঝে মানুষ আপনার মুখোমুখি হওয়া প্রতিপক্ষ নিয়ে তাদের মতামত দেয়, কিন্তু আমরা তো প্রতিপক্ষ বেছে নিই না। সব ম্যাচই কঠিন, রবিবার ফাইনালটি হবে দুপুর ৩টায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে, এবং আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’’

শান্ত থাকা ও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো নিয়ে মার্টিনিজের কথা, ‘‘আমি খুব শান্ত বোধ করছি। একজন গোলরক্ষকের ভূমিকা কেবল ম্যাচের মধ্যে ভালো সেভ করার চেয়েও বেশি কিছু। তাকে নিজের হাফ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হয়। এগুলো হলো ফুটবলের এমন কিছু দিক যা আমার সতীর্থদের এই নিশ্চয়তা দেয় যে আমি শান্ত আছি, আমাকে তাদের আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। যখন তারা তা দেখে, তখন তারা, যারা ফুটবলে এত দুর্দান্ত, কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। এই বিশ্বকাপে আমরা অনেক গোল করতে পেরেছি এবং এ পর্যন্ত আমরা গত বিশ্বকাপের চেয়ে একটি গোল কম হজম করেছি।’’

কোচের বার্তা নিয়ে সরাসরি বললেন তিনি, ‘‘কোচ আমাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছ তা বড় বিষয় নয়, আমি তোমাকে আমার দলে চাই।’ আমার জন্য এটি ১০টি পেনাল্টি সেভ করা এবং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় থাকার চেয়েও বেশি আনন্দের। আর যদি আমার সেই মুহূর্তটি না আসে এবং আমরা ফাইনাল জিতি, তবে সেটিও সমান তাৎপর্যপূর্ণ হবে।’’

ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

বিশ্বকাপের মহারণে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। তবে তাকে থামাতে কোনো ফুটবলারকে আলাদা করে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বরং পুরো দল মিলে মেসির ওপর কড়া নজর রাখার পরিকল্পনাই করেছে স্পেন। অতীতের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে আটকাতে স্পেন কি বিশেষ কোনো ম্যান-মার্কিং কৌশল ব্যবহার করবে? জবাবে স্পেন কোচ জানিয়ে দেন, এমন পরিকল্পনা নেই।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন সেভিয়ার বয়সভিত্তিক দলের কোচ থাকাকালীন সময়ের একটি ম্যাচের কথা। স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ম্যাচে কিশোর মেসিকে শুরু থেকেই ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ডিফেন্ডারকে, ‘বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। তখন ‘মেসি’ নামে এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছেলের কথা অনেক শুনেছিলাম। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে ম্যান-মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। এরপর যিনি তাকে মার্ক করছিলেন, তিনি হলুদ কার্ড দেখায় আমি তাকে তুলে নিই। আর পরের ১৫ মিনিটেই মেসি চারটি গোল করে বসে।’

সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে শিক্ষা দেয় বলে জানান স্পেন কোচ, ‘এর মানে কি আমরা এবারও তাকে ম্যান-মার্কিং করবো? না। তবে তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখবো।’

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

ফাইনালের আগে মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের তুলনাও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন দে লা ফুয়েন্তে, মেসি অনন্য। তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। কিন্তু লামিনেকে লামিনেই থাকতে হবে। তাকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করাই আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চোট পাওয়ার পর ইয়ামালের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উদ্বেগ দূর করেছেন স্পেন কোচ, ‘তার উরুতে জোরে আঘাত লেগেছিল। পেনাল্টি বক্সে তাকে ফাউল করা হয়েছিল, আর জায়গাটা বেশ সংবেদনশীল ছিল। তবে আজ সে দলের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ড- কোনও দলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে চান না। এটাকে কেউ কেউ নির্যাতনও বলছেন। শনিবার রাতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচই দুই দলই একাদশে বেশ পরিবর্তন আনছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপও তার দলের পরিবর্তন আনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে দলের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামবেন কি না। যদি তিনি না খেলেন তাহলে গোল্ডেন বুট আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির নিশ্চিতই বলা যায়।

তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপ নিশ্চিত করেছেন যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলার জন্য ‘প্রস্তুত’ আছেন। তবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

এমবাপ্পে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন এবং তার দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও, তার সংগ্রহে একটি গোল্ডেন বুট যোগ করার পাশাপাশি ইতিপূর্বে জেতা বিজয়ী ও রানার্স-আপ মেডেলের সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জ মেডেল যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার লিওনেল মেসির সমান ৮টি গোল করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার তারকা একটি অ্যাসিস্ট বেশি করার কারণে ফাইনালের সপ্তাহের আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের জন্য গণনা করা হয়।

দেশমপ বলেন, তারা খেলুক বা না খেলুক, একজন প্রধান কোচ হিসেবে আগামীকালের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করার দায়িত্ব আমার। আমি আশা করি আমরা তা করবো এবং এটি করার জন্য আমাদের সবটুকু চেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি ম্যাচ। আমার কাছে কিছু সমাধান রয়েছে। কিছু খেলোয়াড় হয়তো খেলবে, আবার ব্যক্তিগত কারণে অন্য কেউ হয়তো খেলতে চাইবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার হওয়া কোনও আলোচনা আমি প্রকাশ করতে চাই না। আমার কাছে সব তথ্য নেই, তবে হ্যাঁ, আমি কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করবো।