সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিকড় কাটা প্রগতি: প্রযুক্তি আসুক, তবে মানবিকবিদ্যাকে খুন করে নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শিকড় কাটা প্রগতি: প্রযুক্তি আসুক, তবে মানবিকবিদ্যাকে খুন করে নয়

‎তারিক ইসলাম
‎রাষ্ট্র বা সমাজের আধুনিকায়নের প্রধান শর্ত যদি হয় শিক্ষার রূপান্তর, তবে সেই রূপান্তরের অভিমুখ কোন দিকে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। সম্প্রতি দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এক চরম উদ্বেগজনক সিদ্ধান্তের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো মৌলিক ও ঐতিহ্যবাহী অনার্স কোর্সগুলো বাতিল করে সম্পূর্ণভাবে এআই (অৎঃরভরপরধষ ওহঃবষষরমবহপব), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তি-নির্ভর বিষয় চালুর রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘স্মার্ট’ এবং ‘বাজারমুখী’ মনে হলেও, গভীর বিশ্লেষণে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ সাংস্কৃতিক ও মেধাভিত্তিক দেউলিয়াত্বের রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‎বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কেবলই ‘চাকরিজীবী তৈরির কারখানা’ নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, মুক্তচিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রসূতিগৃহ। আউটসোর্সিং বা সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের দ্রুত আয়ের পথ দেখাতে পারে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য হয়তো লোভনীয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্র কি কেবল জিডিপি (এউচ) দিয়ে পরিমাপ করা যায়?
‎বাংলা কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি, জাতিগত সত্তা ও সৃজনশীলতার আধার। একে বাদ দেওয়া মানে নিজের শিকড়কে কেটে ফেলা।
‎ইতিহাস মানুষকে অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন শেখায়। ইতিহাসহীন জাতি অন্ধের মতো চলে, যারা বারবার পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করে।
‎দর্শন মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, ভালো-মন্দের তফাত বোঝায় এবং নৈতিকতার মানদন্ড গড়ে দেয়।
‎এই বিষয়গুলোকে উচ্চশিক্ষা থেকে নির্বাসনে পাঠানো মানে একটি সংবেদনশীল ও বিবেকবান সমাজ ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া। আমরা হয়তো একদল প্রযুক্তি-দক্ষ ‘শ্রমিক’ পাব, কিন্তু একটি আদর্শ ‘মানুষ’ বা ‘সমাজ’ গড়ার কারিগর চিরতরে হারিয়ে ফেলব।
‎বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক কী নিয়ে? তা হলো-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অও-এর নৈতিক ব্যবহার। প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, তার অপব্যবহারের ঝুঁকি তত বাড়ছে।
‎একটি এআই অ্যালগরিদম যেন মানববিদ্বেষী বা বৈষম্যমূলক না হয়, তা নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তিবিদের চেয়ে একজন সমাজবিজ্ঞানী বা দার্শনিকের প্রজ্ঞা বেশি প্রয়োজন। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য শুধু কোডিং জানাই যথেষ্ট নয়, অপরাধীর মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝতে ইতিহাসের পাঠ আবশ্যক।
‎উন্নত বিশ্ব যেখানে বিজ্ঞান ও কলার সমন্বয়ে ‘ঝঞঊঅগ’ (ঝপরবহপব, ঞবপযহড়ষড়মু, ঊহমরহববৎরহম, অৎঃং, ধহফ গধঃযবসধঃরপং) মডেলের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে আমরা মানবিকবিদ্যাকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলার মতো বিপরীতমুখী ও আত্মঘাতী পথে হাঁটছি।
‎সংস্কার হোক সমন্বিত, ধ্বংসাত্মক নয়।সময়ের প্রয়োজনে প্রযুক্তির সংযোজন অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, নতুনকে জায়গা দিতে গিয়ে পুরনো স্তম্ভগুলোকে ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি দূরদর্শী শিক্ষানীতি:
‎সমন্বয়: বাংলা, ইতিহাস বা দর্শনের অনার্স কোর্সগুলো বহাল রেখে তার সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ’, ‘এআই ইথিক্স’ কিংবা ফ্রিল্যান্সিং-এর মৌলিক কারিগরি কোর্স যুক্ত করা যেত।
‎বাজারের স্থায়িত্ব: মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির বাজার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। আজকের যে প্রযুক্তির জন্য আমরা পাগল, পাঁচ বছর পর তা হয়তো সেকেলে হয়ে যাবে। কিন্তু ইতিহাস, দর্শন ও সাহিত্যের উপযোগিতা চিরন্তন। কেবল নির্দিষ্ট প্রযুক্তি শেখা একটি প্রজন্ম বাজারের সামান্য পরিবর্তনেই খেই হারিয়ে ফেলবে।
‎ইতিহাস ও দর্শনহীন সমাজ হয়ে পড়ে স্মৃতিশক্তিহীন ও বিবেকহীন। আর নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা না থাকলে সেই সমাজ আত্মপরিচয়হীন এক জনসমষ্টিতে পরিণত হয়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে গতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে পারে, কিন্তু জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে সাহিত্য ও শিল্প।
‎বাজারের অন্ধ স্্েরাতে গা ভাসিয়ে আমরা যেন আমাদের মেধা ও মননের আত্মাকে বিসর্জন না দিই। নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ-প্রযুক্তিকে অবশ্যই বরণ করুন, তবে তা মানবিকবিদ্যাকে কবর দিয়ে নয়, বরং তার পরিপূরক হিসেবে। ভারসাম্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষাই কেবল একটি প্রগতিশীল ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি উপহার দিতে পারে। ‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

 

Ads small one

প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

আমাদের অস্তিত্বের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা হলো এই ধরিত্রী। বাতাস গ্রহণ থেকে শুরু করে যে জল পান করে আমরা বেঁচে আছি, তার প্রতিটি ফোঁটার উৎস এই প্রকৃতি। আবহমানকাল থেকেই মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক ছিল পরিপূরকÑ একটি অচ্ছেদ্য সখ্য। কিন্তু আধুনিকতার ছদ্মবেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যান্ত্রিকায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগের মানসিকতা আজ এই সুপ্রাচীন ভারসাম্যকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত ‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’ আমাদের সেই নির্মম সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়: প্রকৃতি বাঁচলেই কেবল মানবজাতি বেঁচে থাকবে।

১৯৭২ সনে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘মানব পরিবেশ সম্মেলন’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশ রক্ষার দাবির প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলন থেকেই বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ প্রকৃতি সুরক্ষার দিকে আকৃষ্ট হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে দিনটি প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজ পৃথিবীর বুকে মানুষের সংখ্যা আট বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিশাল জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ পড়েছে নজিরবিহীনভাবে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বহু অঞ্চল তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

বিশ্বের বহু উষ্ণম-লীয় বনাঞ্চল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে কার্বন শোষণের প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেখা দিচ্ছে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা। আইপিবিইএস-এর বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের এই ধস মানবজাতির খাদ্য নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।

আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চিরকালই প্রকৃতিকে মায়ের আসনে বসিয়েছে। আবহমান বাংলার লোকায়ত জীবন ও ঐতিহ্যে নদী, বৃক্ষ এবং প্রান্তর কেবল জীবিকার উপাদান নয়, বরং গভীর শ্রদ্ধার বস্তু। গাছকে জীবনদাতা এবং নদীকে মাতৃসম গণ্য করার এই দর্শন আমাদের আত্মস্থ করতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংস করা মানে নিজের শেকড় কেটে ফেলাÑএই উপলব্ধিই হতে হবে আমাদের সব কাজের নৈতিক মানদ-। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ এবং ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার অপরিহার্য শর্তে পরিণত করেছে।

২০২২ সালে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পুরোপুরি থামানো ও তা পুনরুদ্ধার করা। চলতি ২০২৬ সাল এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার ঠিক মাঝামাঝি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিবসটির বার্তা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেÑগাছ লাগানোর পাশাপাশি নদী ও জলাভূমি সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা; জলবায়ু পরিবর্তনের চরম আঘাত মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করা; এবং ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা।

প্রকৃতি রক্ষা কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের খাতায় আটকে থাকার বিষয় নয়; এটি শুরু হতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করেই আমরা বড় পরিবর্তন আনতে পারি: একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন—পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যাগ, কাপড় বা কাগজের ব্যবহার বাড়ানো।

 

সম্পদের সদ্ব্যবহার—’আর’ (জবফঁপব, জবঁংব, জবপুপষব) নীতি মেনে চলা এবং পানির কল বন্ধ রেখে বা বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নÑনিজের আঙ্গিনায়, ছাদবাগান বা স্থানীয় বনায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

প্রকৃতি আমাদের কোনো সম্পত্তি নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি মূল্যবান আমানত। বিশুদ্ধ বাতাস, উর্বর মাটি আর নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পেতে হলে প্রকৃতির সাথে লড়াই নয়, বরং তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার বিকল্প নেই। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের এই শুভলগ্নে আমাদের পণ হোক—অযথা সম্পদ নষ্ট না করে, আসুন আমরা প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করি, যাতে আমাদের আগামী দিনগুলো হয় আরও নিরাপদ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত।

রিজিকে বরকত কমে যাওয়ার পেছনে যে ভুল আমরা প্রতিদিন করছি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
রিজিকে বরকত কমে যাওয়ার পেছনে যে ভুল আমরা প্রতিদিন করছি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, রিজিকের প্রশস্ততা এবং জীবনে বরকত এ তিনটি বিষয়ই মানুষের চিরন্তন প্রত্যাশা। তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়, প্রকৃত সমৃদ্ধি কেবল অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হালাল উপার্জন, আল্লাহভীতি, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি এবং মানুষের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে বরকতময় জীবনের প্রকৃত ভিত্তি।

 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” (সূরা আল-ইসরা: ২৩)। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের আদেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা ও তাঁদের সন্তুষ্টির গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যে।” (জামে তিরমিজি)।

 

তাই যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে পিতা-মাতার সেবা করে, তাঁদের সম্মান করে এবং তাঁদের দোয়া অর্জনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে রহমত ও কল্যাণ দান করেন। অপরদিকে, মানুষের ওপর জুলুম করা, অন্যের অধিকার হরণ করা, লেনদেনে প্রতারণা করা কিংবা অসৎ উপায়ে সম্পদ অর্জন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)।

 

রাসূলুল্লাহ কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, যে সম্পদ অন্যায় ও অসততার মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাতে বাহ্যিক প্রাচুর্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বরকত থাকে না। আজকের সমাজে অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং জীবনে বরকতহীনতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।

 

অথচ আত্মসমালোচনা করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই আমরা মানুষের হক আদায়ে অবহেলা করি, লেনদেনে সততা বজায় রাখি না, অন্যের সম্পদের প্রতি অন্যায়ভাবে হাত বাড়াই কিংবা পিতা-মাতার যথাযথ খেদমতে শৈথিল্য প্রদর্শন করি। এসব অনৈতিক আচরণ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কেই আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

সাতক্ষীরায় রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা

সংবাদদাতা: রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১ টায় সদর হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল সমাজ সেবা কার্যালয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আয়োজনে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, মোঃ দ্বিন আলী, সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, ডাঃ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ডাক্তার মোঃ আব্দুর রহিম, হাকিম রাজু আহম্মেদ, মোঃ হুমায়ুন কবীর, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, শেখ সাইফুল ইসলাম, মোঃ তুহিন আলী, মোস্তফা খাইরুল আকবর, মোঃ মাহবুবর রহমান, শেখ নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

রোগী কল্যাণ সমিতি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে সেবাসমূহ এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালে ভর্তিকৃত গরিব, অসহায় ও অভিভাবকহীন রোগীদের চিকিৎসা স্বার্থে ঔষধ, পথ্য, রক্ত, অপারেশন ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। রোগ নির্ণয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে রোগীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়। গরিব অসহায় ও দুঃস্থ পরিধেয় বস্ত্র ও শীতবস্ত্র সরবরাহ করা হয়।

অসুস্থ গরীব, অসহায় রোগীদের হাসপাতাল ত্যাগের সময় বাড়ী বা অন্য হাসপাতালে গমন বা স্থানান্তর বাবদ যাতায়াত ভাড়া বা এ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিশু, প্রতিবন্ধী, হিজড়া ব্যক্তি ও প্রবীণদের চিকিৎসা সেবায় অগ্রাধিকার প্রদান।

কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে রোগীর মনস্তাত্ত্বিক বিষয় উপলব্ধিসহ সমানুভূতির সাথে আর্থ-সামাজিক সেবা দান, আশ্রয়হীন, ঠিকানাবিহীন ও পরিত্যক্ত শিশু অথবা ব্যক্তির চিকিৎসাসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদফতরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রোগীকে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে পরামর্শ প্রদানসহ প্রয়োজনে রোগীর গৃহ পরিদর্শন, ফলোআপ ও পরিবারবর্গের সাথে যোগাযোগপূর্বক পরিবার তথা সমাজে পুনঃএকীকরণে সহায়তা প্রদান।

ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগ, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়াসহ জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেবা দান ও সমাজসেবা অধিদফতরাধীন বিভিন্ন চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সেবা/অনুদান প্রাপ্তিতে সহায়তা করা হয়।

এসময় নতুন সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে এবং সাংগঠনিক বিবিধ আলোচনা করা হয়।

রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করা হয়। মোট আয় কুড়ি লক্ষ পঁচিশ হাজার পাঁচশত এক টাকা বারো পয়সা। মোট ব্যয় এগারো লক্ষ সাতান্ন হাজার আটাত্তর টাকা সাতচল্লিশ পয়সা ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শারমিন সুলতানা।