শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়েই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। দুদকের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই দুটি ব্যাংকের মালিক ছিল আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। ব্যাংক দুটিতে তখন সবচেয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়।

তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা ছিল। তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়েন কি না, তা দেখতে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা সময় নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

Ads small one

রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন: স্পিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন: স্পিকার

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির সই করা পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন। পরে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্পিকার বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা (৩) অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ ২৪ জুলাই বিকাল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে দাখিল করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, ‘কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন, এটি নিশ্চয়ই জানার কৌতূহল আপনাদের মধ্যে রয়েছে। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামে একটি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এই কারণেই তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়েও বক্তব্য দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনেরও শপথ নিয়েছি। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও যখন শপথ নেন, তখন শপথের অংশে উল্লেখ থাকে যে, কোনও কারণে স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

দেশে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা চলছে। আমি দুপুরে এসেই শুনছি। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তিনি শারীরিক অসমর্থ্যের কারণেই পদত্যাগ করেছেন।’

ব্রিফিংয়ের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনা করে স্পিকার বলেন, ‘আমি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমার মনে হয়, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’

অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মেসি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মেসি!

 

লিওনেল মেসি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না জানালেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি যে শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। ৩৯ বছর বয়সী মেসি বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঠে নিজের ক্যারিশমা দেখিয়ে যাচ্ছেন।

আট গোল ও চার অ্যাসিস্টে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হতাশাজনক হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা জানাননি তিনি।

তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসির জন্য দরজা খোলা রেখেছেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, অবসরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। তবে এখনই নয়। আরো কয়েক মাস জাতীয় দলের জার্সি পরতে চান তিনি।

মেসি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন। তার শূন্যতা যেন দলে তৈরি না হয়, তাকে ছাড়া যেন খেলোয়াড়রা মাঠে মানিয়ে নিতে শেখে, সেই সময়টা তিনি দিতে চান। তবে আগামী বিশ্বকাপে তিনি আর খেলবেন না। শিগগিরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন তিনি।

আরো কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের কিংবদন্তিকে মহাসমারোহে বিদায় জানাতে চায়। মেসির শেষ ম্যাচ বিশেষভাবে আয়োজন করার পরিকল্পনা তাদের। দেশের সেরা খেলোয়াড়কে যেন মাঠে এসে বিদায় জানাতে পারেন দর্শকরা, সেই ব্যবস্থা নেবে দেশটির ফুটবল সংস্থা। এক কথায়, মেসি আরো কয়েক মাস আর্জেন্টিনার সক্রিয় ফুটবলার হিসেবেই থাকছেন।

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।