শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস : সুস্থতা থেকেই ন্যায়বিচারের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস : সুস্থতা থেকেই ন্যায়বিচারের সূচনা

সাকিবুর রহমান বাবলা

আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দক্ষ বিচারব্যবস্থা। আর সেই বিচারব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করেন বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট, সালিশকারী এবং বিচার বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। সমাজে ন্যায় ও অন্যায়ের সীমারেখা নির্ধারণ, নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব তাঁদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলনামূলকভাবে আড়ালে রয়ে গেছে-যারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন, তাঁদের নিজেদের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতা। এই উপলব্ধি থেকেই প্রতি বছর ২৫ জুলাই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত অ/জঊঝ/৭৯/২৬৬ প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়, যার লক্ষ্য বিচারকদের সুস্থতা, কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিচারিক সুস্থতা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হয় ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুতে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় এবং নাউরুর বিচার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত হয় “নাউরু ঘোষণা”। নাউরু ঘোষণায় বিচারিক সুস্থতাকে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও জনআস্থাভিত্তিক বিচারব্যবস্থার অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বিচারকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিদ্যমান সংকোচ দূর করা, বিচারক, আদালত ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা, সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা, সচেতনতা, প্রতিরোধ, সহায়তা ও পুনরুদ্ধারমূলক উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিচারিক সুস্থতাকে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

গ্লোবাল জুডিশিয়াল ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্কের ২০২১ সালের এক জরিপে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের বিচারকদের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। জরিপে ৯২ শতাংশ বিচারক জানান, তাঁরা নিয়মিত মানসিক চাপের মুখোমুখি হন এবং ৭৬ শতাংশ বিচারক মনে করেন, নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সময় নেই। এছাড়া ৮৯ শতাংশ বিচারক সহকর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ বা উদ্বেগের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত, ৬৯ শতাংশের মতে বিচার বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এখনও একটি ট্যাবু এবং ৮৩ শতাংশ বিচারক মনে করেন, তাঁদের আদালত ব্যবস্থা বিচারকদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে পারছে না। একই সঙ্গে ৯৭ শতাংশ বিচারক একমত যে বিচারিক সুস্থতার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতা পাওয়া উচিত। জরিপে আরও দেখা যায়, বিচারিক সুস্থতার ঘাটতি আদালত পরিচালনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা ৮০ শতাংশ, রায় ও সিদ্ধান্তের গুণগত মান ৬৮ শতাংশ, বিচার বিভাগের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ৪৭ শতাংশ, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ ৪০ শতাংশ, বিচারিক সততা ও নৈতিকতা ৩৫ শতাংশ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ন্যায্যতাকে ৩১ শতাংশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এসব তথ্য স্পষ্ট করে যে বিচারিক সুস্থতা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং জনআস্থা গভীরভাবে সম্পর্কিত।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, নৈতিক দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান-সব ক্ষেত্রেই একজন বিচারকের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুস্থতাকে সুষ্ঠু বিচারকার্যের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় বিচারকের প্রজ্ঞা, আত্মসংযম, ধৈর্য, সততা এবং রাগ, ক্লান্তি বা মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; পাশাপাশি তাঁকে ভয়, প্রলোভন ও বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত কর্মচাপ, ঘুমের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও বিচারবোধকে দুর্বল করতে পারে। তাই একজন বিচারকের জন্য নিরাপদ, শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও সহায়ক কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত জনবল এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের বিচারকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ অতিরিক্ত মামলার জট, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা-সংকটের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বিচারাধীন মামলার চাপ, সহায়ক জনবলের দক্ষতার ঘাটতি এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যহীনতা তাঁদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাগত কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি। কারণ বিচারকদের সুস্থতা নিশ্চিত করা মানেই বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জনআস্থা সুদৃঢ় করা।

আন্তর্জাতিক বিচারিক সুস্থতা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ন্যায়বিচারের শক্তি শুধু আইন, বিধি বা আদালতের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত ভিত্তি হলো বিচারকার্যে নিয়োজিত মানুষের সুস্থতা, প্রজ্ঞা ও নৈতিক দৃঢ়তা। একজন বিচারকের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত সুস্থতা যত বেশি সুরক্ষিত হবে, বিচারব্যবস্থাও তত বেশি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জনআস্থাসম্পন্ন হয়ে উঠবে। এই দিবসের মূল বার্তা একটাই-সুস্থ বিচারকই সুস্থ বিচারব্যবস্থার ভিত্তি, আর একটি সুস্থ বিচারব্যবস্থাই পারে ন্যায়, আস্থা ও মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে। সত্যিই, সুস্থতা থেকেই ন্যায়বিচারের সূচনা।

 

Ads small one

বেতনা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে নবনির্মিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সেতু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
বেতনা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে নবনির্মিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সেতু

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বেতনা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত গোবিন্দপুর-মাটিয়াডাঙ্গা সংযোগ সেতুর দুপাশে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা এ সেতুর পাশের নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতনা নদী পুনঃখননের পর নদীতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরে এসেছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতের কারণে সেতুর পাশের চর ও নদীর তীর দ্রুত ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে পিলারের গোড়ার মাটি ধসে যাচ্ছে, যা সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

ইতোমধ্যে গোবিন্দপুর বাজার জামে মসজিদের সামনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাত জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বড় গাছ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেতুর মূল অবকাঠামো, গোবিন্দপুর বাজার জামে মসজিদ, আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গফফার গাজী জানান, কয়েক মাস ধরে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাজারের জামে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন নির্মিত সেতুটিও হুমকির মুখে পড়বে।

আরেক বাসিন্দা কোরমান মালী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কাক্সিক্ষত সেতুটি রক্ষায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সেতুসহ এলাকার বসতবাড়ি ও বাজার রক্ষা করা কঠিন হবে।

জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলা এবং টেকসই বাঁধ তৈরির মাধ্যমে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

কপোতাক্ষ নদের এই করুণ দশা কি আমরা দূর থেকেই দেখতেই থাকব?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদের এই করুণ দশা কি আমরা দূর থেকেই দেখতেই থাকব?

সম্পাদকীয়

বর্ষার শুরুতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, পলি আর কচুরিপানার জটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণরেখা কপোতাক্ষ নদ। স্তূপীকৃত কচুরিপানা ও শেওলার চাপে নদের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার প্রায় পাঁচটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, কলারোয়া ও তালা উপজেলার পাঁচ শতাধিক বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তা লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করেছে। বাওড়গুলো থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানার তোড়ে বিখ্যাত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ীর কাঠের সাঁকোটি পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। একইভাবে তালা উপজেলার মাগুরা বাজারের নির্মাণাধীন সেতুর পাশের বাঁশের সাঁকোতেও কচুরিপানা আটকে নদের প্রবাহ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে পাটকেলঘাটা বলফিল্ড সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এখন জলের নিচে। জলাবদ্ধতার এই চিরাচরিত রূপ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য কোনো নতুন অভিশাপ নয়, কিন্তু প্রতি বছরই বর্ষার শুরুতে প্রশাসনের এমন অপ্রস্তুত অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন নদের স্বাভাবিক নাব্যতা ও প্রবাহ ধরে রাখতে কেন আগাম ব্যবস্থা নেয়নিÑসেই প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। নদের প্রবাহ আটকে গেলে কেবল যে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয় তা-ই নয়; বরং গৃহহীন হয়ে পড়েন হাজারও নি¤œ আয়ের মানুষ, দেখা দেয় তীব্র খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট। এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবিলায় যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান তৎপরতা কাম্য, সেখানে সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কপোতাক্ষ নদকে বাঁচানো এবং এই অঞ্চলের মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে অবহেলা করার আর কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে নদের বুকে জমে থাকা কচুরিপানা ও শেওলা পরিষ্কার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁকো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে কপোতাক্ষের নাব্যতা বজায় রাখতে টেকসই ড্রেজিং ও পলি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কালবিলম্ব না করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ঐতিহাসিক দিনে শুরু ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এর প্রচারণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ঐতিহাসিক দিনে শুরু ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এর প্রচারণা

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গৌরবগাথা নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ মুক্তির প্রস্তুতি শুরু করেছে। সেই যাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবে ঐতিহাসিক ২৫ জুলাইকে বেছে নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির প্রথম পোস্টার। পোস্টার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে নিজেদের নির্মাণের গল্প তুলে ধরার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’।

২৫ জুলাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারতের নদীয়া ফুটবল একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মাঠে নামার সেই মুহূর্ত আজও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গর্বিত অধ্যায়। সেই ইতিহাস, সেই লড়াই এবং দেশপ্রেমই ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমার মূল উপজীব্য।

সিনেমাটির প্রথম পোস্টারেও ধরা পড়েছে সেই আবহ। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পানিতে ডুবে থাকা জনপদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ফুটবলারের ভাস্কর্য, আকাশে যুদ্ধবিমান এবং পাশে উড়তে থাকা লাল-সবুজের পতাকা—সব মিলিয়ে ফুটে উঠেছে যুদ্ধের সময় ফুটবলকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক ভিন্নধর্মী প্রতিরোধের প্রতীকী চিত্র।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, নুসরাত ফারিয়া, রেজওয়ান পারভেজ, খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, আজাদ আবুল কালাম ও শতাব্দী ওয়াদুদসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পী।

সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা অনম বিশ্বাস বলেন, ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ এ বছরই মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই ধাপে ধাপে প্রচারণামূলক কার্যক্রম শুরু করছেন তারা।

‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ শুধু মুক্তিযুদ্ধের গল্প নয়। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের মাঠের লড়াই, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ঐতিহাসিক প্রচেষ্টাকেই কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ বছর সিনেমাটি মুক্তি পেলে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সেই অনন্য ইতিহাস বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাবেন দর্শক।