দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ (হৃদয় ৩০*, মিরাজ ৮*; সাইফ ৮, সৌম্য ৮, তানজিদ ৭৬, লিটন ৭, শান্ত ৫০*)
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ৫ উইকেট নেওয়া রানা।
নিউজিল্যান্ড ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (স্মিথ ১৮*; নিকোলস ১৩, ইয়াং ২, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, কেলি ৮৩, ক্লার্কসন ৬, ফক্সক্রফট ১৫, টিকনার ১২, লেনক্স ০, রুর্ক ৬)
প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা (১-১) ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৫.৩ ওভারে তাড়া করেছে স্বাগতিক দল।
২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনে শুরুর ধাক্কার পর জয়ের মূল ভিতটা গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে স্কোরবোর্ডে রান তুলেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে মিলে যোগ করেন ১২০ রান। শেষ পর্যন্ত ৭৬ রানে ফিরেছেন। তার পর জয়ের পথে দলকে অনেকটা এগিয়ে নেন শান্ত। তিনিও ফিফটি তুলে নেন ৭১ বলে। পরে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় দলের স্কোর ছিল ১৬৭। তার পর বাকি পথটা সামাল দেন তাওহীদ হৃদয় (৩০*) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৮*)।
ম্যাচটা ছিল লিটন দাসের শততম ওয়ানডে। লিটন অবশ্য এদিন আহামরি কিছু করতে পারেননি। তামিমের আউটের পর দ্রুতই ফিরেছেন ৭ রানে।
কিউইদের হয়ে ৩৬ রানে দুটি উইকেট নেন জেইডেন লেনক্স। একটি করে নেন নাথান স্মিথ ও উইল ও’রুর্ক।
ফিফটির পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লেন শান্ত
লিটনের ফেরার পর হৃদয়কে নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭১ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি। তবে ফিফটির পর পরই তীব্র গরমে ক্র্যাম্প করতে দেখা যায় তাকে। হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল দেখে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
দ্রুত ফিরলেন লিটনও
জয়ের জন্য তখনও দরকার ৪৪ রান। নতুন নামা লিটন মেরে খেলার মাশুল দিলেন দ্রুতই। লেনক্সের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। নিজের শততম ওয়ানডেতে স্মরণীয় কিছু করতে পারলেন না। ক্যাচ তুলে ৭ রানে আউট হয়েছেন। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ১৫৪ রানে।
তানজিদকে ৭৬ রানে থামালেন লেনক্স
২১ রানে দুই উইকেট পতনের পর বাংলাদেশকে দিশা দেখিয়েছেন মূলত ওপেনার তানজিদ হাসান। কিউই বোলারদের বেধড়ক পিছিয়ে দ্রুত স্কোরবোর্ডে রান তুলেছেন তিনি। ৩৩ বলে তুলে নেন ফিফটি। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে মিলে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১২০ রান। তার পর আরও চড়াও হতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২৩তম ওভারে লেনক্সের বলে ছক্কা মারার পরের বলেই ক্যাচ তুলে ৭৬ রানে থেমেছেন তানজিদ। তার ৫৮ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ১৪১ রানে।
৩৩ বলে তানজিদের ফিফটি
২১ রানে দুই উইকেট পড়ার পর অনায়াসে খেলছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নিয়েছেন তানজিদ। তাও আবার সেটা করেছেন ছক্কা মেরে।
তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিং, পঞ্চাশ পার বাংলাদেশের
২১ রানে ২ উইকেট পড়ার পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল করেছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারেই ২ উইকটে ৫১ রান তুলে ফেলেছে বাংলাদেশ। এই সময় ১৯ বলে ২৫ রান তুলেছেন তানজিদ। সঙ্গী শান্ত অবশ্য সতর্ক থেকে খেলছেন।
সাইফের পর দ্রুত ফিরলেন সৌম্যও
১৯৯ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে হারিয়েছে দুই উইকেট। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের শেষ ডেলিভারিতে বোল্ড হন হাত খোলার চেষ্টায় থাকা ওপেনার সাইফ হাসান (৮)। তার পর একইভাবে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সৌম্য সরকারও। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ও’রুর্কের বলে আপার কাট করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ রানে।
১৯৮ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ১৯৯ রান।
বল হাতে মূল সর্বনাশটা করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ৩২ রানে এক মেডেনে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুটি ৩২ রানে দুটি নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি মেডেন দিয়েছেন। একটি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন।
রানা তিনবার ওভারের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে প্রভাব ফেলেন। শুরুতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে নেন দুটি উইকেট, এরপর ২৯তম ওভারে আরেকটি। শেষদিকে তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে আরও দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংস শেষ করেন।
ফিল্ডিংয়েও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় বাংলাদেশ। একাধিক সিঙ্গেল বাঁচানোর পাশাপাশি ডিপে কয়েকটি নিশ্চিত চার ঠেকিয়ে কিউইদের রান আটকেছে তারা। উইকেটকিপার লিটন দাস নেন দুটি চমৎকার ক্যাচ, আর তাওহীদ হৃদয় নেন তিনটি! যার মধ্যে ৪৯তম ওভারে লং-অনে ডাইভ দিয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট।
ব্যাট হাতে একার লড়াইটা করেছেন ওপেনার নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রান করেছেন তিনি। বাকিরা সেভাবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি।
নাহিদের পঞ্চম শিকার লেনক্স
শুরু থেকে নাহিদ রানার পেস বিপদে ফেলেছে কিউইদের। শেষটাতে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৪৬তম ওভারে তার পঞ্চম শিকার হয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নতুন ব্যাটারকে একেবারে বোল্ড করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড নবম উইকেট হারায় ১৮৩ রানে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন নাহিদ।
শরিফুলের আঘাতে পড়লো কিউইদের অষ্টম উইকেট
উইকেট পড়তে থাকায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়া দেখা যায় ব্লেয়ার টিকনারের। কিন্তু তাতে সফল হতে পারেননি। ৪৪.৫ ওভারে শরিফুলের বলে মেরে খেলতে গেলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২ রানে। তাতে ১৮২ রানে অষ্টম উইকেট পড়েছে সফরকারীদের।
নাহিদ রানার চতুর্থ শিকার ফক্সক্রফট
দিনে টানা তৃতীয়বার প্রথম বলে আঘাত হেনে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। তাতে অবশ্য মোট চতুর্থবার উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। শেষ দিকে এসে ৪৩তম ওভারে তার শিকার হয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। পুল করতে গিয়ে ১৫ রানে হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েছেন কিউই ব্যাটার। তাতে ১৬৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডের।
কেলির আউটের পর ক্লার্কসনকে ফেরালেন রিশাদ
সতীর্থরা ব্যর্থ হলেও শুরু থেকে প্রান্ত আগলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ওপেনার নিক কেলি। ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। ৩৭তম ওভারে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো কেলিকে থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তাকে হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি। কেলি আউট হন ৮৩ রানে। তার বিদায়ে ১৪৫ রানে পড়েছে পঞ্চম উইকেট। পাশাপাশি ভেঙেছে ফক্সক্রফটের সঙ্গে কেলির ৩৭ রানের জুটি।
পরের ওভারে নতুন নামা ক্লার্কসন রিশাদের বলে চার মারলেও থিতু হতে পারেননি। রিশাদের ঘূর্ণিতে ৬ রানে থেমেছেন কিউই ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৬ রানে। যার ফলে টানা দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আব্বাসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রানা
তৃতীয় উইকেট পতনের পর চাপে পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের জুটিতেই স্কোর একশ ছাড়িয়েছে। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ২৯তম ওভারে আবারও আক্রমণে এসে এই জুটি ভেঙে তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন নাহিদ রানা। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। ফেরার আগে ৩৪ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি।
কেলির ফিফটিতে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড
৫২ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়েছেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে এই জুটি। যার মূল দায়িত্বটা সামলাচ্ছেন কেলি। ৬৬ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। তাদের জুটিতে ভর করে ২৭ ওভারে একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড।
ল্যাথামকে ফেরালেন সৌম্য
কিউইদের রানই নিতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২৮ রানে দুই উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ল্যাথাম ও কেলি। ২৪ রান যোগ করেন তারা। ১৮তম ওভারে দলীয় ফিফটির পরই সৌম্য সরকারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক ল্যাথাম (১৪)। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনে আরও চাপে পড়েছে সফরকারী দল।
টানা দ্বিতীয় ওভারে নাহিদের আঘাত
অষ্টম ওভারের পর দশম ওভারে আবারও আঘাত হেনেছেন নাহিদ রানা। এবারও উইকেট নেন প্রথম বলে। তার গতি আর বাউন্সের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন নতুন ব্যাটার উইল ইয়াং। বলটা সামলাতে পারেননি। ব্যাটে স্পর্শ করে চলে যায় সৌম্য সরকারের হাতে। ইয়াং বিদায় নেন ২ রানে। নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২৮ রানে।
আক্রমণে এসেই নাহিদের উইকেট
টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও কিউইদের দুই ওপেনারকে সহজে রান দেননি পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। নিখুঁত লাইন লেংথে বল করে সফরকারী ব্যাটারদের হতাশ করেছেন। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ২৫। অষ্টম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে প্রথম বলেই এলবিডাব্লিউতে ফেরান তিনি। নিকোলস ২৬ বলে সাজঘরে ফিরেছেন ১৩ রানে। নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় ২৫ রানে।
আবারও টস হেরেছে বাংলাদেশ, একাদশে সৌম্য
প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে আবারও ব্যাটিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তার মানে এই গরমে আবারও ফিল্ডিং করতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। ম্যাচ যথারীতি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।
প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছে। তাই এই সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচ জিততে মরিয়া স্বাগতিকরা। তার ওপর এই ম্যাচটা আবার লিটন দাসের শততম ওয়ানডে।
প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংটা খুবই বাজে করেছে বাংলাদেশ। ৩৭ রানে হারিয়েছে শেষ ৬ উইকেট। গুটিয়ে যায় ২২১ রানে। এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।
একাদশে কারা
গত ম্যাচ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, তার জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অবশ্য অপরিবর্তিত দল নিয়ে খেলছে।
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
নিউজিল্যান্ড একাদশ:
উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও জেইডেন লেনক্স।